মুসলিমদের অবরোধ | খন্দকের যুদ্ধ-২ | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

মুসলিমদের অবরোধ | খন্দকের যুদ্ধ-২, ইবনে সাদের মতে, নবিজি (সা) পঞ্চম হিজরির জিলকদ মাসের ৮ তারিখে তাঁর বাড়ি থেকে বেরিয়ে পরিখার কাছেই শিবির স্থাপনের কাজ শুরু করেন। অন্য কারও কারও মতে সেটি ছিল শাওয়াল মাস। সাহাবিরা নিজেদের বাড়িঘর খালি করে চলে এসেছিলেন। যুদ্ধের পুরো সময় তাঁরা আর বাড়ি ফেরেননি। এই কারণেই নারী ও শিশুদেরও আল-ফারি দুর্গে পাঠানো হয়েছিল।

মুসলিমদের অবরোধ | খন্দকের যুদ্ধ-২ | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

 

মুসলিমদের অবরোধ | খন্দকের যুদ্ধ-২ | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

 

নবিজি (সা) পরিখার নিরাপত্তা রক্ষার জন্য মুসলিমদের বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ করেছিলেন। ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন, সাহাবিরা পালাক্রমে সারারাত পরিখা টহল দিতেন। টহলের সময় তাঁরা চিৎকার করে বলতেন, “আল্লাহু আকবার! আল্লাহু আকবার!” এতে অন্য সাহাবিদের মনে হতো যে তাঁদের সঙ্গে আরও বড় দল আছে।

উম্মে সালামা খন্দকের ঘটনা সম্পর্কে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন, “আমি নবিজির (সা) সঙ্গে বেশ কিছু বিপজ্জনক যুদ্ধে গিয়েছি; যেমন আল-মুরাইসি, খায়বার, হুদাইবিয়া, মক্কা বিজয়, হুনায়েন ইত্যাদি। কিন্তু এগুলোর কোনোটিই খন্দকের যুদ্ধের মতো ভীতিকর ও ক্লান্তিকর ছিল না। খন্দকে মুসলিমরা বেশি অনিশ্চয়তায় ছিল । মদিনার বনু কুরায়জা আমাদের শিশুদের ক্ষতি করতে পারে এ নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় ছিলাম। মদিনা শহরকে সুরক্ষিত রাখতে সারা রাত টহল দিতে হতো। আমরা ফজর পর্যন্ত মুসলিমদের তাকবিরের ধ্বনি শুনতে পেতাম।”

 

এমনকি আল্লাহর রসুলও (সা) একটি এলাকা টহলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তিনি খন্দকের বাইরে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতেন। আয়েশা (রা) বর্ণনা করেছেন, “এক রাতে আমরা এক লোকের হেঁটে আসার আওয়াজ শুনতে পেলাম । নবিজি (সা) তখন টহল দিচ্ছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘কে ওখানে?’ লোকটি উত্তর দিল, ‘আমি সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস। আমি আপনার সেবায় এসেছি (অর্থাৎ, আপনাকে আজকের শিফট থেকে অব্যাহতি দিয়ে বিশ্রাম করতে দিতে এসেছি)।’ নবিজি (সা) তাকে বললেন, ‘ঠিক আছে। তাহলে তুমি এখানে থাকো। আমি কিছুটা বিশ্রাম নিচ্ছি। নবিজি (সা) তাঁবুর ভেতরে এসে তৎক্ষণাৎ ঘুমিয়ে পড়লেন।’

 

মুসলিমদের অবরোধ | খন্দকের যুদ্ধ-২ | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

 

আয়েশা (রা) আরও বলেছেন, নবিজি (সা) এতটাই ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন যে তাঁর নাক ডাকার শব্দও শোনা যাচ্ছিল। আয়েশা (রা) কৃতজ্ঞতার সুরে বলেছেন, “আমি সাদের সেদিনের সেই ত্যাগের কথাটি কখনই ভুলিনি। তিনি নবিজির (সা) ঘুমের জন্য স্বেচ্ছায় নিজের ঘুম ত্যাগ করেছিলেন।” সিরাহের বইগুলোতে উল্লেখ আছে, সময়টা ছিল শীতকালের মাঝামাঝির দিকে। এত শীত পড়েছিল যে সাহাবিরা একটু উষ্ণতার জন্য মাঝে মাঝেই তাঁবুর ভেতরে ঢুকতেন, এবং কিছু সময় পরে আবার বেরিয়ে আসতেন। অবরোধ ৩০ দিন চলেছিল। পরিখা খননের জন্য এক সপ্তাহ বা তার কিছু বেশি সময় ধরলে খন্দকের যুদ্ধে আনুমানিক ৪০ দিন লেগেছিল।

Leave a Comment