সূরা আম্বিয়া মানুষের হিসাব-কিতাবের সময় নিকটবর্তী; অথচ তারা বেখবর হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।
Closer and closer to mankind comes their Reckoning: yet they heed not and they turn away.
اقْتَرَبَ لِلنَّاسِ حِسَابُهُمْ وَهُمْ فِي غَفْلَةٍ مَّعْرِضُونَ
Iqtaraba lilnnasi hisabuhum wahum fee ghaflatin muAAridoona
Pickthall: Their reckoning draweth nigh for mankind, while they turn away in heedlessness.
Yusuf Ali: Closer and closer to mankind comes their Reckoning: yet they heed not and they turn away.
Hilali-Khan: Draws near for mankind their reckoning, while they turn away in heedlessness.
Shakir: Their reckoning has drawn near to men, and in heedlessness are they turning aside.
Sher Ali: Nigh unto men has drawn their reckoning, yet they turn away in heedlessness.
Khalifa: Fast approaching is the reckoning for the people, but they are oblivious, averse.
Arberry: Nigh unto men has drawn their reckoning, while they in heedlessness are yet turning away;
Palmer: Their reckoning draws nigh to men, yet in heedlessness they turn aside.
Rodwell: THIS people’s reckoning hath drawn nigh, yet, sunk in carelessness, they turn aside.
Sale : The [time of giving up] their account draweth nigh unto the people [of Mecca]; while they are [sunk] in negligence, turning aside [from the consideration thereof].
সূরা আম্বিয়া

০১। মানুষের হিসাব নিকাশের সময় ক্রমাগত নিকটবর্তী হচ্ছে , তবুও তারা উদাসীন এবং তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় ২৬৬২।
২৬৬২। হিসাব নিকাশের সময় অর্থাৎ কেয়ামতের দিন। যে ব্যক্তি মরে যায়, তার কেয়ামতের তখনই শুরু হয়ে যায়। অর্থাৎ হিসাব নিকাশ শুরু হয়। মানুষ যত দীর্ঘায়ুই হোক না কেন তার মৃত্যু দূরে নয়। সেই হিসেবে হিসাব নিকাশের সময় আসন্ন। কিন্তু দুর্ভাগ্য এই অমোঘ সত্যকে জানার পরেও তারা উদাসীন এবং যে বাণী বা উপদেশ তাদের পরলোকের শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারবে তা থেকে তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়।
তাদের কাছে তাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে যখনই কোন নতুন উপদেশ আসে, তারা তা খেলার ছলে শ্রবণ করে।
Comes not unto them an admonition (a chapter of the Qur’ân) from their Lord as a recent revelation but they listen to it while they play,
مَا يَأْتِيهِم مِّن ذِكْرٍ مَّن رَّبِّهِم مُّحْدَثٍ إِلَّا اسْتَمَعُوهُ وَهُمْ يَلْعَبُونَ
Ma ya/teehim min thikrin min rabbihim muhdathin illa istamaAAoohu wahum yalAAaboona
YUSUFALI: Never comes (aught) to them of a renewed Message from their Lord, but they listen to it as in jest,-
PICKTHAL: Never cometh there unto them a new reminder from their Lord but they listen to it while they play,
SHAKIR: There comes not to them a new reminder from their Lord but they hear it while they sport,
KHALIFA: When a proof comes to them from their Lord, that is new, they listen to it heedlessly.
০২। যখনই তাদের প্রভুর নিকট থেকে তাঁর বাণী নবায়ন হয়ে আসে , তারা তা কৌতুকচ্ছলে শোনে ২৬৬৩।
২৬৬৩। আল্লাহ্ তাঁর বিধানকে যুগোপযোগী করার জন্য যুগে যুগে নবী ও রসুলদের পাঠিয়েছেন। কিন্তু যখনই কোন নূতন নিদর্শন প্রেরিত হয়, তখন তারা একে কৌতুক ও হাস্য উপহাসচ্ছলে গ্রহণ করে পরবর্তীতে যা শত্রুতাতে পরিণত হয়।
তাদের অন্তর থাকে খেলায় মত্ত। জালেমরা গোপনে পরামর্শ করে, সে তো তোমাদেরই মত একজন মানুষ; এমতাবস্থায় দেখে শুনে তোমরা তার যাদুর কবলে কেন পড়?
With their hearts occupied (with evil things) those who do wrong, conceal their private counsels, (saying): ”Is this (Muhammad SAW) more than a human being like you? Will you submit to magic while you see it?”
لَاهِيَةً قُلُوبُهُمْ وَأَسَرُّواْ النَّجْوَى الَّذِينَ ظَلَمُواْ هَلْ هَذَا إِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ أَفَتَأْتُونَ السِّحْرَ وَأَنتُمْ تُبْصِرُونَ
Lahiyatan quloobuhum waasarroo alnnajwa allatheena thalamoo hal hatha illa basharun mithlukum afata/toona alssihra waantum tubsiroona
YUSUFALI: Their hearts toying as with trifles. The wrong-doers conceal their private counsels, (saying), “Is this (one) more than a man like yourselves? Will ye go to witchcraft with your eyes open?”
PICKTHAL: With hearts preoccupied. And they confer in secret. The wrong-doers say: Is this other than a mortal like you? Will ye then succumb to magic when ye see (it)?
SHAKIR: Their hearts trifling; and those who are unjust counsel together in secret: He is nothing but a mortal like yourselves; what! will you then yield to enchantment while you see?
KHALIFA: Their minds are heedless. And the transgressors confer secretly: “Is he not just a human being like you? Would you accept the magic that is presented to you?”
০৩। তাদের অন্তর [ তা নিয়ে ] তুচ্ছ বিষয়ের মত খেলা করে। পাপীরা তাদের গোপন পরামর্শ লুকিয়ে রেখে [বলে] ” সে কি তোমাদের মত একজন মানুষ নয়? তোমরা কি দেখে শুনে যাদুর কবলে পড়বে ?” ২৬৬৪, ২৬৬৫।
২৬৬৪। সীমা লংঘনকারীরা পরলোক সম্বন্ধে উদাসীন , এই আয়াত তাদের মানসিক অবস্থার অতিরিক্ত বর্ণনা। আল্লাহ্র বাণীর মিষ্টতা, প্রাঞ্জলতা ও ক্রিয়াশক্তি দিবালোকের মত ভাস্বর। কিন্তু সীমালংঘনকারীরা আল্লাহ্র নিদর্শনকে গ্রহণ করার পরিবর্তে মুখ ফিরিয়ে নেয়। তারা এর বিরুদ্দে গোপনে শলা পরামর্শ করে যেনো , লোকসমক্ষে তাদের ষড়যন্ত্রকারীরূপে চিহ্নিত করা না হয়। তাদের এই ইচ্ছাকৃত অবাধ্যতার কারণ হচ্ছে তাদের অন্তরে হিংসা রীপুর আধিক্য। হিংসা তাদের বাধা দান করে সত্যকে গ্রহণ করতে। হিংসা এই জন্য যে তাদের মতই একজন সাধারণ মানুষ সত্যকে প্রচারের জন্য আল্লাহ্ কর্তৃক মনোনীত হয়েছেন পথপ্রদর্শক ও রসুলরূপে।
উপদেশ : হিংসা সর্বদা প্রকৃত সত্যকে অনুধাবনে বাধা দান করে।
২৬৬৫। যখন আল্লাহ্র বাণীর মিষ্টতা , প্রাঞ্জলতা ও মানুষের আধ্যাত্মিক জগতের উপরে এর ক্রিয়াশক্তি, এর নৈতিক মূল্যবোধ, আধ্যাত্মিক অন্তর্দৃষ্টি এবং রসুলের [ সা ] এই বাণী প্রচারে বাগ্মীতা ও আন্তরিকতা সকলকে মুগ্ধ করে তোলে , তখন এ সব সীমালংঘনকারীরা বলে, ” দেখে শুনে যাদুর কবলে পড়বে ? ” তারা রসুলকে [ সা ] যাদুকররূপে অভিযুক্ত করে, যার কোন সত্যের ভিত্তি ছিলো না সম্ভবতঃ তা ছিলো প্রবঞ্চনা।
পয়গম্বর বললেনঃ নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলের কথাই আমার পালনকর্তা জানেন। তিনি সবকিছু শোনেন, সবকিছু জানেন।
He (Muhammad SAW) said: ”My Lord knows (every) word (spoken) in the heavens and on earth. And He is the All-Hearer, the All-Knower.”
قَالَ رَبِّي يَعْلَمُ الْقَوْلَ فِي السَّمَاء وَالأَرْضِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
Qala rabbee yaAAlamu alqawla fee alssama-i waal-ardi wahuwa alssameeAAu alAAaleemu
YUSUFALI: Say: “My Lord knoweth (every) word (spoken) in the heavens and on earth: He is the One that heareth and knoweth (all things).”
PICKTHAL: He saith: My Lord knoweth what is spoken in the heaven and the earth. He is the Hearer, the Knower.
SHAKIR: He said: My Lord knows what is spoken in the heaven and the earth, and He is the Hearing, the Knowing.
KHALIFA: He said, “My Lord knows every thought in the heaven and the earth. He is the Hearer, the Omniscient.”
০৪। বল, ২৬৬৬ ” আকাশ মন্ডলী ও পৃথিবীর [ প্রতিটি ] কথা আমার প্রভু অবগত আছেন ২৬৬৭। তিনিই সব কিছু শোনেন এবং জানেন।”
২৬৬৬। লক্ষ্য করুন, সাধারণত : আরবী ভাষাতে “Qala” শব্দটি [ According to Qiraat of Hafs ] বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন উচ্চারণে পাঠ করা হয়। শব্দটি এই [ ২১ : ৪ ] আয়াতে ও [ ২১ : ১১২ ] আয়াতে এবং [২৩:১১২] আয়াতে বিদ্যমান। কিন্তু এই আয়াতগুলিতে “Qala” এর উচ্চারণ অন্য আয়াতের উচ্চারণ থেকে আলাদা [ যেমন ২০ : ১২৫ – ১২৬ ]। বসরা কিরাতে [ Basra Qiraat ] এর উচ্চারণ হয়েছে “Qul “, যার অর্থ “তুমি বল” আদেশবাচক শব্দ। ” আর যদি অনুবাদ হয় “সে বলিল” তবে সে অর্থ রসুলকে [ সা ] বোঝানো হয়েছে। কিন্তু বেশীর ভাগ তফসীরকারের মতে শব্দটির অনুবাদ আদেশবাচক হওয়া উচিত এবং ইউসুফ আলী সাহেবেও এ ব্যাপারে একমত। তবে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে যে, যে ভাবেই অনুবাদ করা হোক না কেন অর্থের খুব একটা হেরফের হয় না, মূল বক্তব্য একই থেকে যায়। দেখুন আয়াত [ ২৩ : ১১২ ] এবং টিকা ২৯৪৮।
২৬৬৭। আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ। তিনি সব কিছুই জানেন। সরবে, নীরবে, গোপনে যা কিছুই বলা হোক না কেন সবই আল্লাহ্র নিকট জ্ঞাত। পাপিষ্ঠরা এবং অজ্ঞ ব্যক্তিরা যেনো ধারণা না করে যে, তাদের গোপন পরিকল্পনা আল্লাহ্র নিকট গোপন রাখা সম্ভব।
এছাড়া তারা আরও বলেঃ অলীক স্বপ্ন; না সে মিথ্যা উদ্ভাবন করেছে, না সে একজন কবি। অতএব সে আমাদের কাছে কোন নিদর্শন আনয়ন করুক, যেমন নিদর্শন সহ আগমন করেছিলেন পূর্ববর্তীগন।
Nay, they say:”These (revelations of the Qur’ân which are inspired to Muhammad SAW) are mixed up false dreams! Nay, he has invented it! Nay, he is a poet! Let him then bring us an Ayâh (sign as a proof) like the ones (Prophets) that were sent before (with signs)!”
بَلْ قَالُواْ أَضْغَاثُ أَحْلاَمٍ بَلِ افْتَرَاهُ بَلْ هُوَ شَاعِرٌ فَلْيَأْتِنَا بِآيَةٍ كَمَا أُرْسِلَ الأَوَّلُونَ
Bal qaloo adghathu ahlamin bali iftarahu bal huwa shaAAirun falya/tina bi-ayatin kama orsila al-awwaloona
YUSUFALI: “Nay,” they say, “(these are) medleys of dream! – Nay, He forged it! – Nay, He is (but) a poet! Let him then bring us a Sign like the ones that were sent to (Prophets) of old!”
PICKTHAL: Nay, say they, (these are but) muddled dreams; nay, he hath but invented it; nay, he is but a poet. Let him bring us a portent even as those of old (who were Allah’s messengers) were sent (with portents).
SHAKIR: Nay! say they: Medleys of dreams; nay! he has forged it; nay! he is a poet; so let him bring to us a sign as the former (prophets) were sent (with).
KHALIFA: They even said, “Hallucinations,” “He made it up,” and, “He is a poet. Let him show us a miracle like those of the previous messengers.”
০৫। তারা বলে, ” না, [ এ সমস্তই ] অলীক কল্পনা। সে মিথ্যা রচনা করেছে। না হয় সে একজন কবি ২৬৬৮। পূর্ববর্তী [ রাসুলগণ ] যেরূপ নিদর্শনসহ প্রেরিত হয়েছিলো , সে সেরূপ নিদর্শন আমাদের নিকট আনায়ন করুক।”
২৬৬৮। আল্লাহ্র প্রেরিত রাসুলের [ সা ] প্রতি কাফেরদের বিভিন্ন অভিযোগ গুলি এখানে বর্ণনা করা হয়েছে। কেউ বললো এসব ” অলীক কল্পনা ” বৈ কিছু নয়, কারণ ” আমরা তা বুঝতে পারি না”। অন্য জন বলে, হায় ! সে তো মিথ্যা রচনা করেছে “। কিন্তু যদি এই কল্পনা জীবনকে সমৃদ্ধ করে, তবে তারা বলে, ” সে মিথ্যা উদ্ভাবন করেছে।” আবার অনেকে বলে ” সে একজন কবি, কারণ কবিরাই উদ্ভাবন করতে পারে।” আবার অনেকে বাধাদান করে বলে, ” আমরা অলৌকিক মোজেজা দেখতে চাই। যেরূপ মোজেজার অধিকারী পূর্ববর্তী রসুলেরা ছিলেন ইত্যাদি।
তাদের পূর্বে যেসব জনপদ আমি ধবংস করে দিয়েছি, তারা বিশ্বাস স্থাপন করেনি; এখন এরা কি বিশ্বাস স্থাপন করবে?
Not one of the towns (populations), of those which We destroyed, believed before them (though We sent them signs), will they then believe?
مَا آمَنَتْ قَبْلَهُم مِّن قَرْيَةٍ أَهْلَكْنَاهَا أَفَهُمْ يُؤْمِنُونَ
Ma amanat qablahum min qaryatin ahlaknaha afahum yu/minoona
YUSUFALI: (As to those) before them, not one of the populations which We destroyed believed: will these believe?
PICKTHAL: Not a township believed of those which We destroyed before them (though We sent them portents): would they then believe?
SHAKIR: There did not believe before them any town which We destroyed, will they then believe?
KHALIFA: We never annihilated a believing community in the past. Are these people believers?
০৬। তাদের পূর্বে যে সব জনপদ আমি ধ্বংস করেছি তার অধিবাসীরা ঈমান আনে নাই। এরা কি ঈমান আনবে ? ২৬৬৯
২৬৬৯। অলৌকিক মোজেজা কখনও ঈমান বা বিশ্বাসের ভিত্তি হতে পারে না। পূর্ববর্তী নবী রসুলদের অলৌকিক ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কাফেররা ঈমান আনে নাই। সুতারাং মোজেজা দর্শনে ঈমান আনার কথা বলা; বাহানা বই আর কিছু নয়। অলৌকিক ক্ষমতা দর্শন ঈমানের ভিত্তি হতে পারে না। ঈমান হচ্ছে অন্তরের দৃঢ় বিশ্বাস আল্লাহ্র প্রতি এবং একান্ত নির্ভরশীলতা সেই স্রষ্টার প্রতি যিনি এক এবং অদ্বিতীয়। এটা এক ধরণের মানসিক অবস্থা [ State of mind ] এর সাথে মোজেজার কোনও সম্পর্ক নাই।
আপনার পূর্বে আমি মানুষই প্রেরণ করেছি, যাদের কাছে আমি ওহী পাঠাতাম। অতএব তোমরা যদি না জান তবে যারা স্মরণ রাখে তাদেরকে জিজ্ঞেস কর।
And We sent not before you (O Muhammad SAW) but men to whom We inspired, so ask the people of the Reminder [Scriptures – the Taurât (Torah), the Injeel (Gospel)] if you do not know.
وَمَا أَرْسَلْنَا قَبْلَكَ إِلاَّ رِجَالاً نُّوحِي إِلَيْهِمْ فَاسْأَلُواْ أَهْلَ الذِّكْرِ إِن كُنتُمْ لاَ تَعْلَمُونَ
Wama arsalna qablaka illa rijalan noohee ilayhim fais-aloo ahla alththikri in kuntum la taAAlamoona
YUSUFALI: Before thee, also, the messengers We sent were but men, to whom We granted inspiration: If ye realise this not, ask of those who possess the Message.
PICKTHAL: And We sent not (as Our messengers) before thee other than men, whom We inspired. Ask the followers of the Reminder if ye know not?
SHAKIR: And We did not send before you any but men to whom We sent revelation, so ask the followers of the reminder if you do not
KHALIFA: We did not send before you except men whom we inspired. Ask those who know the scripture, if you do not know.
০৭। তোমার পূর্বে যে সব পয়গম্বর আমি প্রেরণ করেছিলাম তারাও ছিলো মানুষ , যাদের জন্য আমি ওহী মঞ্জুর করেছিলাম। যদি তোমরা তা না বুঝে থাক, তবে তাদের জিজ্ঞাসা কর যারা [আল্লাহ্র ] বাণীকে ধারণ করে থাকে ২৬৭০।
২৬৭০। দেখুন অনুরূপ আয়াত [ ১৬ : ৪৩ ] এবং টিকা ২০৬৯। অবিশ্বাসী বা ঈমানহীনদের কথা ” সেতো আমাদের মতই সাধারণ মানুষ” এই ব্যঙ্গ বিদ্রূপের উত্তরে এই আয়াতে দেয়া হয়েছে। এ কথা সত্য যে, আল্লাহ্র রসুলদের প্রেরণ করেছেন মানুষের মধ্যে থেকেই , যেনো সাধারণ মানুষ তাদের বুঝতে পারে এবং তাঁরাও সাধারণ মানুষের মন মানসিকতা বুঝতে পারে।
আমি তাদেরকে এমন দেহ বিশিষ্ট করিনি যে, তারা খাদ্য ভক্ষণ করত না এবং তারা চিরস্থায়ীও ছিল না।
And We did not create them (the Messengers, with) bodies that ate not food, nor were they immortals,
وَمَا جَعَلْنَاهُمْ جَسَدًا لَّا يَأْكُلُونَ الطَّعَامَ وَمَا كَانُوا خَالِدِينَ
Wama jaAAalnahum jasadan la ya/kuloona alttaAAama wama kanoo khalideena
YUSUFALI: Nor did We give them bodies that ate no food, nor were they exempt from death.
PICKTHAL: We gave them not bodies that would not eat food, nor were they immortals.
SHAKIR: And We did not make them bodies not eating the food, and they were not to abide (forever).
KHALIFA: We did not give them bodies that did not eat, nor were they immortal.
০৮। আমি তাদের এমন কোন শরীর দিই নাই যা আহার গ্রহণ করবে না, অথবা তারা মৃত্যু থেকেও অব্যহতি পাবে না ২৬৭১।
২৬৭১। সাধারণ মানুষের শারীরিক যে চাহিদা ,নবী রসুলদের ছিলো সেই একই চাহিদা। কারণ তারাও ছিলেন শারীরিক দিক থেকে সাধারণ মানুষ। তারা খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করতেন এবং তারাও ছিলেন মৃত্যুর আয়ত্তাধীন।
অতঃপর আমি তাদেরকে দেয়া আমার প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করলাম সুতরাং তাদেরকে এবং যাদেরকে ইচ্ছা বাঁচিয়ে দিলাম এবং ধবংস করে ছিলাম সীমালঙ্ঘনকারীদেরকে।
Then We fulfilled to them the promise, and We saved them and those whom We willed, but We destroyed Al-Musrifûn (i.e. extravagants in oppression, polytheism and in sin).
ثُمَّ صَدَقْنَاهُمُ الْوَعْدَ فَأَنجَيْنَاهُمْ وَمَن نَّشَاء وَأَهْلَكْنَا الْمُسْرِفِينَ
Thumma sadaqnahumu alwaAAda faanjaynahum waman nashao waahlakna almusrifeena
YUSUFALI: In the end We fulfilled to them Our Promise, and We saved them and those whom We pleased, but We destroyed those who transgressed beyond bounds.
PICKTHAL: Then we fulfilled the promise unto them. So we delivered them and whom We would, and We destroyed the prodigals.
SHAKIR: Then We made Our promise good to them, so We delivered them and those whom We pleased, and We destroyed the ex
KHALIFA: We fulfilled our promise to them; we saved them together with whomever we willed, and annihilated the transgressors.
০৯। শেষ পর্যন্ত তাদের প্রতি আমার প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছিলাম এবং আমি তাদের ও তাদের মধ্যে যাদের ইচ্ছা তাদের রক্ষা করেছিলাম। কিন্তু যারা সীমালংঘন করেছিলো তাদের ধবংস করেছিলাম ২৬৭২।
২৬৭২। আল্লাহ্র প্রেরিত নবী রসুলদের যদিও সাধারণ মানুষ থেকে শারীরিক দিক থেকে কোনও পার্থক্য ছিলো না কিন্তু আত্মিক দিক থেকে তারা আল্লাহ্র রহমতে ধন্য ছিলেন। তাঁদের প্রতি আল্লাহ্র অর্পিত দায়িত্ব ছিলো অত্যন্ত কঠিন দায়িত্ব। আপাতঃদৃষ্টিতে মনে হতে পারে যে, এই দায়িত্ব সম্পন্ন করা এক অসম্ভব ব্যাপার। কিন্তু আল্লাহ্র রহমতে এরা শেষ পর্যন্ত সাফল্য লাভ করেন, এবং বিরুদ্ধচারীরা পরাজিত হয়। বিভিন্ন সূরাতে উদাহরণের মাধ্যমে এই সত্যকে তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষতঃ আয়াত [ ২১ : ৫১ – ৯৩ ] গুলিতে এই সত্যকে প্রকাশ করা হয়েছে। যারা আল্লাহ্র রাসুল আল্লাহ্ তাদের রক্ষা করেন, ধ্বংস থেকে , যেখানে অবিশ্বাসীরা আল্লাহ্র ক্রোধে নিপতিত হয়ে ধ্বংস হয়ে যায়। এই উপদেশ সকল মানুষ , সকল জাতির জন্য, সর্বকালে, সর্বযুগে প্রযোজ্য। যে ব্যক্তি বা জাতি আল্লাহ্র বিধান মেনে চলে , অর্থাৎ আল্লাহ্র ইচ্ছা ও পরিকল্পনার নিকট আত্মসমর্পন করে তাদের সাফল্য অনিবার্য অপর পক্ষে যারা আল্লাহ্র বিধান মানে না, অর্থাৎ আল্লাহ্র ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করে, আল্লাহ্ যা নিষেধ করেছেন সেই সব পাপের পথে পা বাড়ায় তাদের শেষ পরিণতি অনিবার্য ধবংস। পৃথিবীর ইতিহাস এই সাক্ষ্য দেয়। পূণ্যাত্মাদের সাফল্য ও পাপীদের ধ্বংস এই -ই হচ্ছে আল্লাহ্র বিধান বা ইচ্ছা। ” যাদের ইচ্ছা” বাক্যটি দ্বারা আল্লাহ্র এই বিশ্বজনীন ইচ্ছাকেই প্রকাশ করা হয়েছে যা সর্বকাল ও সর্বযুগের জন্য প্রযোজ্য।
আমি তোমাদের প্রতি একটি কিতাব অবর্তীর্ণ করেছি; এতে তোমাদের জন্যে উপদেশ রয়েছে। তোমরা কি বোঝ না?
Indeed, We have sent down for you (O mankind) a Book, (the Qur’ân) in which there is Dhikrukum, (your Reminder or an honour for you i.e. honour for the one who follows the teaching of the Qur’ân and acts on its orders). Will you not then understand?
لَقَدْ أَنزَلْنَا إِلَيْكُمْ كِتَابًا فِيهِ ذِكْرُكُمْ أَفَلَا تَعْقِلُونَ
Laqad anzalna ilaykum kitaban feehi thikrukum afala taAAqiloona
YUSUFALI: We have revealed for you (O men!) a book in which is a Message for you: will ye not then understand?
PICKTHAL: Now We have revealed unto you a Scripture wherein is your Reminder. Have ye then no sense?
SHAKIR: Certainly We have revealed to you a Book in which is your good remembrance; what! do you not then understand?
KHALIFA: We have sent down to you a scripture containing your message. Do you not understand?
১০। [হে মানুষ! ] আমি তো তোমাদের জন্য এক কিতাব অবতীর্ণ করেছি যার মধ্য তোমাদের জন্য আছে উপদেশ। তবুও কি তোমরা বুঝবে না ?
রুকু – ২
১১। কত জনপদকে আমি ধ্বংস করেছি তাদের পাপের জন্য, এবং তাদের স্থানে প্রতিষ্ঠিত করেছি অন্য জাতিকে।
১২। তথাপি; যখন তারা অনুভব করেছিলো যে আমার শাস্তি [ আগত ] , দেখো, তারা সেখান থেকে পলায়নের [ চেষ্টা করে ] ২৬৭৩।
২৬৭৩। পাপীদের যখন বলা হয়েছিলো অনুতাপের মাধ্যমে আল্লাহ্র রাস্তায় ফিরে আসতে, তারা তা প্রত্যাখান করে। শুধু প্রত্যাখানই করে না, তারা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। কিন্তু যখন তারা দেখে যে আল্লাহ্র শাস্তি নেমে আসছে, তখন তারা সভয়ে পলায়ন করতে থাকে। কিন্তু আল্লাহ্র শাস্তি থেকে পলায়ন করা সুদূর পরাহত। কারণ অনুতাপ করার জন্য তখন তা অনেক দেরী হয়ে গেছে। আল্লাহ্র ক্রোধ থেকে তারা এই বিশ্বব্রহ্মান্ডের কোথায় লুকাতে পারে ? পরের আয়াতে [ ২১ : ১৩ ] বিদ্রূপের সাথে তাদের সম্বোধন করা হয়েছে যে, ” যে গৃহকে তোমরা নিরাপদ ও স্থায়ী বলে চিন্তা করতে সেই গৃহের ভোগ সম্ভোগের দিকে ফিরে যাও।”
আমি কত জনপদের ধ্বংস সাধন করেছি যার অধিবাসীরা ছিল পাপী এবং তাদের পর সৃষ্টি করেছি অন্য জাতি।
How many a town (community), that were wrong-doers, have We destroyed, and raised up after them another people!
وَكَمْ قَصَمْنَا مِن قَرْيَةٍ كَانَتْ ظَالِمَةً وَأَنشَأْنَا بَعْدَهَا قَوْمًا آخَرِينَ
Wakam qasamna min qaryatin kanat thalimatan waansha/na baAAdaha qawman akhareena
YUSUFALI: How many were the populations We utterly destroyed because of their iniquities, setting up in their places other peoples?
PICKTHAL: How many a community that dealt unjustly have We shattered, and raised up after them another folk!
SHAKIR: And how many a town which was iniquitous did We demolish, and We raised up after it another people!
KHALIFA: Many a community we terminated because of their transgression, and we substituted other people in their place.
১০। [হে মানুষ! ] আমি তো তোমাদের জন্য এক কিতাব অবতীর্ণ করেছি যার মধ্য তোমাদের জন্য আছে উপদেশ। তবুও কি তোমরা বুঝবে না ?
রুকু – ২
১১। কত জনপদকে আমি ধ্বংস করেছি তাদের পাপের জন্য, এবং তাদের স্থানে প্রতিষ্ঠিত করেছি অন্য জাতিকে।
১২। তথাপি; যখন তারা অনুভব করেছিলো যে আমার শাস্তি [ আগত ] , দেখো, তারা সেখান থেকে পলায়নের [ চেষ্টা করে ] ২৬৭৩।
২৬৭৩। পাপীদের যখন বলা হয়েছিলো অনুতাপের মাধ্যমে আল্লাহ্র রাস্তায় ফিরে আসতে, তারা তা প্রত্যাখান করে। শুধু প্রত্যাখানই করে না, তারা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। কিন্তু যখন তারা দেখে যে আল্লাহ্র শাস্তি নেমে আসছে, তখন তারা সভয়ে পলায়ন করতে থাকে। কিন্তু আল্লাহ্র শাস্তি থেকে পলায়ন করা সুদূর পরাহত। কারণ অনুতাপ করার জন্য তখন তা অনেক দেরী হয়ে গেছে। আল্লাহ্র ক্রোধ থেকে তারা এই বিশ্বব্রহ্মান্ডের কোথায় লুকাতে পারে ? পরের আয়াতে [ ২১ : ১৩ ] বিদ্রূপের সাথে তাদের সম্বোধন করা হয়েছে যে, ” যে গৃহকে তোমরা নিরাপদ ও স্থায়ী বলে চিন্তা করতে সেই গৃহের ভোগ সম্ভোগের দিকে ফিরে যাও।”
অতঃপর যখন তারা আমার আযাবের কথা টের পেল, তখনই তারা সেখান থেকে পলায়ন করতে লাগল।
Then, when they perceived (saw) Our Torment (coming), behold, they (tried to) flee from it.
فَلَمَّا أَحَسُّوا بَأْسَنَا إِذَا هُم مِّنْهَا يَرْكُضُونَ
Falamma ahassoo ba/sana itha hum minha yarkudoona
YUSUFALI: Yet, when they felt Our Punishment (coming), behold, they (tried to) flee from it.
PICKTHAL: And, when they felt Our might, behold them fleeing from it!
SHAKIR: So when they felt Our punishment, lo! they began to fly
KHALIFA: When our requital came to pass, they started to run.
১০। [হে মানুষ! ] আমি তো তোমাদের জন্য এক কিতাব অবতীর্ণ করেছি যার মধ্য তোমাদের জন্য আছে উপদেশ। তবুও কি তোমরা বুঝবে না ?
রুকু – ২
১১। কত জনপদকে আমি ধ্বংস করেছি তাদের পাপের জন্য, এবং তাদের স্থানে প্রতিষ্ঠিত করেছি অন্য জাতিকে।
১২। তথাপি; যখন তারা অনুভব করেছিলো যে আমার শাস্তি [ আগত ] , দেখো, তারা সেখান থেকে পলায়নের [ চেষ্টা করে ] ২৬৭৩।
২৬৭৩। পাপীদের যখন বলা হয়েছিলো অনুতাপের মাধ্যমে আল্লাহ্র রাস্তায় ফিরে আসতে, তারা তা প্রত্যাখান করে। শুধু প্রত্যাখানই করে না, তারা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। কিন্তু যখন তারা দেখে যে আল্লাহ্র শাস্তি নেমে আসছে, তখন তারা সভয়ে পলায়ন করতে থাকে। কিন্তু আল্লাহ্র শাস্তি থেকে পলায়ন করা সুদূর পরাহত। কারণ অনুতাপ করার জন্য তখন তা অনেক দেরী হয়ে গেছে। আল্লাহ্র ক্রোধ থেকে তারা এই বিশ্বব্রহ্মান্ডের কোথায় লুকাতে পারে ? পরের আয়াতে [ ২১ : ১৩ ] বিদ্রূপের সাথে তাদের সম্বোধন করা হয়েছে যে, ” যে গৃহকে তোমরা নিরাপদ ও স্থায়ী বলে চিন্তা করতে সেই গৃহের ভোগ সম্ভোগের দিকে ফিরে যাও।”
পলায়ন করো না এবং ফিরে এস, যেখানে তোমরা বিলাসিতায় মত্ত ছিলে ও তোমাদের আবাসগৃহে; সম্ভবত; কেউ তোমাদের জিজ্ঞেস করবে।
Flee not, but return to that wherein you lived a luxurious life, and to your homes, in order that you may be questioned.
لَا تَرْكُضُوا وَارْجِعُوا إِلَى مَا أُتْرِفْتُمْ فِيهِ وَمَسَاكِنِكُمْ لَعَلَّكُمْ تُسْأَلُونَ
La tarkudoo wairjiAAoo ila ma otriftum feehi wamasakinikum laAAallakum tus-aloona
YUSUFALI: Flee not, but return to the good things of this life which were given you, and to your homes in order that ye may be called to account.
PICKTHAL: (But it was said unto them): Flee not, but return to that (existence) which emasculated you and to your dwellings, that ye may be questioned.
SHAKIR: Do not fly (now) and come back to what you were made to lead easy lives in and to your dwellings, haply you will be questioned.
KHALIFA: Do not run, and come back to your luxuries and your mansions, for you must be held accountable.
১৩। পলাইও না , বরং ফিরে এসো তোমাদের ভোগ সামগ্রীর দিকে এবং তোমাদের আবাসগৃহে, যেনো হিসাব গ্রহণের জন্য তোমাদের ডাকা যেতে পারে ২৬৭৪।
২৬৭৪। পূর্বের টিকা দেখুন। এখানে বলা হয়েছে , ” তোমরা ধারণা করেছিলে যে, তোমাদের আবাসস্থল অত্যন্ত আরামদায়ক ও নিরাপদ। এখন কেন সেখানে ফিরে যাচ্ছ না ? যেখানেই থাক জবাবদিহি তোমাদের অবশ্যই করতে হবে। শাস্তি তোমাদের ভাগ্যলিপি হয়ে দাঁড়াবে – তোমাদের কৃত কর্মের দরুণ।” যখন আর অনুতাপ করার জন্য কোন সময় থাকবে না ; পাপীরা তখন হৃদয়ঙ্গম করবে তাদের অপরাধ। প্রকৃত সত্যকে তারা বুঝতে পারবে। কিন্তু তাদের এই অনুধাবন তাদের অনুতাপের জন্য অনেক দেরী হয়ে যাবে। তখন কোন কিছুই তাদের আল্লাহ্র ক্রোধ থেকে রক্ষা করতে পারবে না।
তারা বললঃ হায়, দুর্ভোগ আমাদের, আমরা অবশ্যই পাপী ছিলাম।
They cried: ”Woe to us! Certainly! We have been Zâlimûn (polytheists, wrong-doers and disbelievers in the Oneness of Allâh, etc.).”
قَالُوا يَا وَيْلَنَا إِنَّا كُنَّا ظَالِمِينَ
Qaloo ya waylana inna kunna thalimeena
YUSUFALI: They said: “Ah! woe to us! We were indeed wrong-doers!”
PICKTHAL: They cried: Alas for us! we were wrong-doers.
SHAKIR: They said: O woe to us! surely we were unjust.
KHALIFA: They said, “Woe to us. We were really wicked.”
১৪। তারা বলেছিলো, ” হায় ! দুর্ভাগ্য আমাদের, সত্যিই আমরা ছিলাম পাপী।”
১৫। তাদের সে কান্না থামবে না, যতক্ষণ না আমি তাদের শষ্য কাটার পরের মাঠ সদৃশ্য এবং স্তব্ধ নির্বাপিত ছাই এর ন্যায় পরিণত করি ২৬৭৫।
২৬৭৫। পাপীদের আর্তনাদকে দুইটি উপমার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। পাপীরা যখন আল্লাহ্র শাস্তিকে প্রত্যক্ষ করবে, তখন তারা সভয়ে সেখান থেকে পলায়ন করতে চাইবে। কিন্তু সেদিন কোথাও যাওয়ার জায়গা থাকবে না। শুধু পাপীদের আর্তনাদে আকাশ বাতাস ভারাক্রান্ত হয়ে পড়বে। কিন্তু তাদের সেই আর্তনাদকে ধীরে ধীরে স্তব্ধ করে দেয়া হবে, ঠিক সেই ভাবে, যে ভাবে পাকা শষ্যে ভরা মাঠ থেকে শষ্যকে কেটে অদৃশ্য করা হয় অথবা নির্বাপিত আগুন যে ভাবে ধীরে ধীরে নিভে যায়। তাদের আর্তনাদ স্তব্ধ হলেও তারা মৃত হবে না, কিন্তু তাদের ইচ্ছা হবে তারা যেনো নির্মূল হয়ে যায় বা ধ্বংস হয়ে যায় বা মরে যায়; দেখুন আয়াত [ ৭৮ : ৪০ ]।
তাদের এই আর্তনাদ সব সময় ছিল, শেষ পর্যন্ত আমি তাদেরকে করে দিলাম যেন কর্তিত শস্য ও নির্বাপিত অগ্নি।
And that cry of theirs ceased not, till We made them as a field that is reaped, extinct (dead).
فَمَا زَالَت تِّلْكَ دَعْوَاهُمْ حَتَّى جَعَلْنَاهُمْ حَصِيدًا خَامِدِينَ
Fama zalat tilka daAAwahum hatta jaAAalnahum haseedan khamideena
YUSUFALI: And that cry of theirs ceased not, till We made them as a field that is mown, as ashes silent and quenched.
PICKTHAL: And this their crying ceased not till We made them as reaped corn, extinct.
SHAKIR: And this ceased not to be their cry till We made them cut
KHALIFA: This continued to be their proclamation, until we completely wiped them out.
১৪। তারা বলেছিলো, ” হায় ! দুর্ভাগ্য আমাদের, সত্যিই আমরা ছিলাম পাপী।”
১৫। তাদের সে কান্না থামবে না, যতক্ষণ না আমি তাদের শষ্য কাটার পরের মাঠ সদৃশ্য এবং স্তব্ধ নির্বাপিত ছাই এর ন্যায় পরিণত করি ২৬৭৫।
২৬৭৫। পাপীদের আর্তনাদকে দুইটি উপমার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। পাপীরা যখন আল্লাহ্র শাস্তিকে প্রত্যক্ষ করবে, তখন তারা সভয়ে সেখান থেকে পলায়ন করতে চাইবে। কিন্তু সেদিন কোথাও যাওয়ার জায়গা থাকবে না। শুধু পাপীদের আর্তনাদে আকাশ বাতাস ভারাক্রান্ত হয়ে পড়বে। কিন্তু তাদের সেই আর্তনাদকে ধীরে ধীরে স্তব্ধ করে দেয়া হবে, ঠিক সেই ভাবে, যে ভাবে পাকা শষ্যে ভরা মাঠ থেকে শষ্যকে কেটে অদৃশ্য করা হয় অথবা নির্বাপিত আগুন যে ভাবে ধীরে ধীরে নিভে যায়। তাদের আর্তনাদ স্তব্ধ হলেও তারা মৃত হবে না, কিন্তু তাদের ইচ্ছা হবে তারা যেনো নির্মূল হয়ে যায় বা ধ্বংস হয়ে যায় বা মরে যায়; দেখুন আয়াত [ ৭৮ : ৪০ ]।
আকাশ পৃথিবী এতদুভয়ের মধ্যে যা আছে, তা আমি ক্রীড়াচ্ছলে সৃষ্টি করিনি।
We created not the heavens and the earth and all that is between them for a (mere) play .
وَمَا خَلَقْنَا السَّمَاء وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا لَاعِبِينَ
Wama khalaqna alssamaa waal-arda wama baynahuma laAAibeena
YUSUFALI: Not for (idle) sport did We create the heavens and the earth and all that is between!
PICKTHAL: We created not the heaven and the earth and all that is between them in play.
SHAKIR: And We did not create the heaven and the earth and what is between them for sport.
KHALIFA: We did not create the heavens and the earth, and everything between them just for amusement.
১৬। আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী এবং এর মধ্যবর্তী যা কিছু , আমি তা [ অলস ] ক্রীড়াচ্ছলে সৃষ্টি করি নাই ২৬৭৬।
২৬৭৬। হিন্দু ধর্মে বলা হয় পৃথিবীর সৃষ্টি ” ভগবানের লীলাখেলা ” – অর্থাৎ ভগবানের খেয়ালখূশী। কিন্তু ইসলামের বক্তব্য এ সম্বন্ধে সুস্পষ্ট। বিশ্বব্রহ্মান্ডের সৃষ্টি হয়েছে আল্লাহ্র আইনকে মানার জন্য, আল্লাহ্র আইন ও বিধানকে প্রতিষ্ঠার জন্য। সত্য , পূণ্য, করুণা, ন্যায়পরায়ণতা ইত্যাদি বিভিন্ন গুণাবলী আল্লাহ্র নামেরই গুণবাচক শব্দ। পৃথিবীতে যা কিছু সত্য ও সুন্দর তাই আল্লাহ্র বিশেষণ। আর এ সব প্রতিষ্ঠার জন্যই পৃথিবীকে সৃষ্টি করা হয়েছে। তিনি তার সৃষ্টির সাথে তামাশা কৌতুক করেন না।
আমি যদি ক্রীড়া উপকরণ সৃষ্টি করতে চাইতাম, তবে আমি আমার কাছে যা আছে তা দ্বারাই তা করতাম, যদি আমাকে করতে হত।
Had We intended to take a pastime (i.e. a wife or a son, etc.), We could surely have taken it from Us, if We were going to do (that).
لَوْ أَرَدْنَا أَن نَّتَّخِذَ لَهْوًا لَّاتَّخَذْنَاهُ مِن لَّدُنَّا إِن كُنَّا فَاعِلِينَ
Law aradna an nattakhitha lahwan laittakhathnahu min ladunna in kunna faAAileena
YUSUFALI: If it had been Our wish to take (just) a pastime, We should surely have taken it from the things nearest to Us, if We would do (such a thing)!
PICKTHAL: If We had wished to find a pastime, We could have found it in Our presence – if We ever did.
SHAKIR: Had We wished to make a diversion, We would have made it from before Ourselves: by no means would We do (it).
KHALIFA: If we needed amusement, we could have initiated it without any of this, if that is what we wanted to do.
১৭। যদি [ শুধুমাত্র ] ক্রীড়াকৌতুকই আমার মনঃষ্কামনা হতো ,তবে আমার নিকটবর্তী যে সব জিনিষ আছে তা দিয়েই তা করতাম ২৬৭৭।
২৬৭৭। যদি আল্লাহ্র সম্বন্ধে খেলাধূলার ধারণা দেয়া হয়, তবে তার জন্য মানুষের মত নশ্বর দেহধারীর প্রয়োজন ছিলো না। মাটির তৈরী মানুষ অপেক্ষা আলোর তৈরী তাঁর নিকটবর্তীদের নিয়েই তিনি খেলাধূলা করতেন। সুতারাং মানুষ সৃষ্টি খেলাধূলার জন্য এ এক অবান্তর ধারণা।
বরং আমি সত্যকে মিথ্যার উপর নিক্ষেপ করি, অতঃপর সত্য মিথ্যার মস্তক চুর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয়, অতঃপর মিথ্যা তৎক্ষণাৎ নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। তোমরা যা বলছ, তার জন্যে তোমাদের দুর্ভোগ।
Nay, We fling (send down) the truth (this Qur’ân) against the falsehood (disbelief), so it destroys it, and behold, it (falsehood) is vanished. And woe to you for that (lie) which you ascribe (to Us) (against Allâh by uttering that Allâh has a wife and a son).
بَلْ نَقْذِفُ بِالْحَقِّ عَلَى الْبَاطِلِ فَيَدْمَغُهُ فَإِذَا هُوَ زَاهِقٌ وَلَكُمُ الْوَيْلُ مِمَّا تَصِفُونَ
Bal naqthifu bialhaqqi AAala albatili fayadmaghuhu fa-itha huwa zahiqun walakumu alwaylu mimma tasifoona
YUSUFALI: Nay, We hurl the Truth against falsehood, and it knocks out its brain, and behold, falsehood doth perish! Ah! woe be to you for the (false) things ye ascribe (to Us).
PICKTHAL: Nay, but We hurl the true against the false, and it doth break its head and lo! it vanisheth. And yours will be woe for that which ye ascribe (unto Him).
SHAKIR: Nay! We cast the truth against the falsehood, so that it breaks its head, and lo! it vanishes; and woe to you for what you describe;
KHALIFA: Instead, it is our plan to support the truth against falsehood, in order to defeat it. Woe to you for the utterances you utter.
১৮। আমি সত্য দ্বারা মিথ্যাকে আঘাত করি, ফলে উহা মিথ্যাকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেয় এবং দেখো, মিথ্যা ধ্বংস হয়ে যায়। হায়! দুর্ভোগ তোমাদের। তোমরা [ আমার ] সম্বন্ধে যে মিথ্যা আরোপ করছো তার জন্য ২৬৭৮।
২৬৭৮। পৃথিবীতে বিভিন্ন সময়ে আল্লাহ্র নামে মিথ্যা আরোপ করা হয় যেমন ১) আল্লাহ্র সাথে অংশীদার কল্পনা করা হয় [ ২১ : ২২ ] অথবা ২) আল্লাহ্র ছেলে আছে [ ২১ : ২৬ ] অথবা ৩) আল্লাহ্র কন্যা সন্তান আছে [ ১৬: ৫৭ ]। এ সমস্ত আল্লাহ্র নামে মিথ্যা আরোপ করা যা অসম্মানজনক। এই আয়াতে বলা হয়েছে এসব মিথ্যার অন্ধকার সত্যের আলোর অবির্ভাবে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায় বা বিদূরিত হয়।
উপদেশ : যদি আয়াতটির অর্থ ব্যপক অর্থে ধরা যায়, তাহলে দেখা যাবে যে, পৃথিবীতে মিথ্যার স্থায়ীত্ব স্বল্পকালীন। সত্যের দ্বারা মিথ্যা সর্বদা পরাজিত ও বিদূরীত হয়। এই হচ্ছে আল্লাহ্র অমোঘ আইন। ” আমি সত্য দ্বারা আঘাত হানি মিথ্যার উপর ফলে উহা মিথ্যাকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেয়। “
নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলে যারা আছে, তারা তাঁরই। আর যারা তাঁর সান্নিধ্যে আছে তারা তাঁর ইবাদতে অহংকার করে না এবং অলসতাও করে না।
To Him belongs whosoever is in the heavens and on earth. And those who are near Him (i.e. the angels) are not too proud to worship Him, nor are they weary (of His worship).
وَلَهُ مَن فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَنْ عِندَهُ لَا يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِهِ وَلَا يَسْتَحْسِرُونَ
Walahu man fee alssamawati waal-ardi waman AAindahu la yastakbiroona AAan AAibadatihi wala yastahsiroona
YUSUFALI: To Him belong all (creatures) in the heavens and on earth: Even those who are in His (very) Presence are not too proud to serve Him, nor are they (ever) weary (of His service):
PICKTHAL: Unto Him belongeth whosoever is in the heavens and the earth. And those who dwell in His presence are not too proud to worship Him, nor do they weary;
SHAKIR: And whoever is in the heavens and the earth is His; and those who are with Him are not proud to serve Him, nor do they grow weary.
KHALIFA: To Him belongs everyone in the heavens and the earth, and those at Him are never too arrogant to worship Him, nor do they ever waver.
১৯। আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সকল [ প্রাণী ] আল্লাহ্র অধীনে। যারা তাঁর সান্নিধ্যে রয়েছে তারাও তাঁর এবাদত করতে অহংকার বোধ করে না, [ এমনকি ] ক্লান্তিও বোধ করে না ,২৬৭৯
২০। তারা দিবা -রাত্র তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছে। তারা অবসন্ন হয় না বা বন্ধ করে না।
২৭৭৯। ফেরেশতাকূল যারা আলোর সৃষ্টি, তারা আল্লাহ্র সিংহাসনকে ঘিরে সর্বদা আল্লাহ্র গুণগানে নিমগ্ন। ” তারাও তার এবাদত করতে অহংকার বোধ করে না ” আল্লাহ্ অবস্থান সুউচ্চ সব কিছুর উর্দ্ধে।
তারা রাত্রিদিন তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা বর্ণনা করে এবং ক্লান্ত হয় না।
They (i.e. the angels) glorify His Praises night and day, (and) they never slacken (to do so).
يُسَبِّحُونَ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ لَا يَفْتُرُونَ
Yusabbihoona allayla waalnnahara la yafturoona
YUSUFALI: They celebrate His praises night and day, nor do they ever flag or intermit.
PICKTHAL: They glorify (Him) night and day; they flag not.
SHAKIR: They glorify (Him) by night and day; they are never languid.
KHALIFA: They glorify night and day, without ever tiring.
১৯। আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সকল [ প্রাণী ] আল্লাহ্র অধীনে। যারা তাঁর সান্নিধ্যে রয়েছে তারাও তাঁর এবাদত করতে অহংকার বোধ করে না, [ এমনকি ] ক্লান্তিও বোধ করে না ,২৬৭৯
২০। তারা দিবা -রাত্র তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছে। তারা অবসন্ন হয় না বা বন্ধ করে না।
২৭৭৯। ফেরেশতাকূল যারা আলোর সৃষ্টি, তারা আল্লাহ্র সিংহাসনকে ঘিরে সর্বদা আল্লাহ্র গুণগানে নিমগ্ন। ” তারাও তার এবাদত করতে অহংকার বোধ করে না ” আল্লাহ্ অবস্থান সুউচ্চ সব কিছুর উর্দ্ধে।
তারা কি মৃত্তিকা দ্বারা তৈরী উপাস্য গ্রহণ করেছে, যে তারা তাদেরকে জীবিত করবে?
Or have they taken (for worship) âliha (gods) from the earth who raise the dead?
أَمِ اتَّخَذُوا آلِهَةً مِّنَ الْأَرْضِ هُمْ يُنشِرُونَ
Ami ittakhathoo alihatan mina al-ardi hum yunshiroona
YUSUFALI: Or have they taken (for worship) gods from the earth who can raise (the dead)?
PICKTHAL: Or have they chosen gods from the earth who raise the dead?
SHAKIR: Or have they taken gods from the earth who raise (the dead).
KHALIFA: Have they found gods on earth who can create?
২১। ওরা মাটি থেকে তৈরী যে সব দেবতা [ এবাদতের জন্য ] গ্রহণ করেছে, তারা কি [ মৃতকে ] জীবিত করতে সক্ষম? ২৬৮০ , ২৬৮১
২৬৮০। বিশ্ব ভূবনের মালিক শুধুমাত্র এক আল্লাহ্। কিন্তু মানুষ আল্লাহ্ ব্যতীত বহু ইলাহ্ এর এবাদত করতে ভালোবাসে। আর এসব বহু ইলাহ্ তার নিজেরই মনের কল্পনা প্রসূত। আয়াত [ ২১ : ২৩ ] পর্যন্ত এই সব বহু ইলাহ্ এদের সম্বন্ধে বলা হয়েছে। এ সব ইলাহ্ কখনও হয় মাটির তৈরী দেব মূর্তি, কখনও ভক্তির পাত্রপাত্রী, কখনও স্থানীয় লোকদের পূজনীয় , কখনও জাতীয় বীর, বিশেষ প্রাণী বা বিশাল মহীরূহ অথবা প্রাকৃতিক শক্তি। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন জাতি যুগে যুগে এরূপ মনগড়া ইলাহ্ এর পূঁজা করেছে বা করে। কিন্তু আল্লাহ্ বলছেন যে, এসব দেব-দেবী বা পূজনীয় ঈশ্বর ক্ষমতাহীন। এদের প্রতি যে ক্ষমতা আরোপ করা হয়, তা তাদের ভক্তদের সৃষ্টি মাত্র।
২৬৮১। ” মৃতকে জীবিত করিতে সক্ষম ? ” উত্তর অবশ্যই হবে ” না ” আল্লাহ্ ব্যতীত এ ক্ষমতা আর কারও নাই। যীশু খৃষ্টকে আল্লাহ্ এই অলৌকিক ক্ষমতা দান করেছিলেন। দেখুন যীশু খৃষ্টের অলৌকিক ক্ষমতা বা মোজেজা [ ৩ : ৪৯ এবং ৫ : ১১৩ ] আয়াত। কিন্তু যীশু খৃষ্টের এই অলৌকিক ক্ষমতা তার নিজস্ব কোন ক্ষমতা নয়, এ ক্ষমতা তাকে আল্লাহ্ দান করেছিলেন। এটা ছিলো আল্লাহ্র অলৌকিক ক্ষমতার প্রকাশ যীশুর মাধ্যমে। পৃথিবীর সব ক্ষমতার মালিক একমাত্র আল্লাহ্।
যদি নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলে আল্লাহ ব্যতীত অন্যান্য উপাস্য থাকত, তবে উভয়ের ধ্বংস হয়ে যেত। অতএব তারা যা বলে, তা থেকে আরশের অধিপতি আল্লাহ পবিত্র।
Had there been therein (in the heavens and the earth) gods besides Allâh, then verily both would have been ruined. Glorified be Allâh, the Lord of the Throne, (High is He) above what they attribute to Him!
لَوْ كَانَ فِيهِمَا آلِهَةٌ إِلَّا اللَّهُ لَفَسَدَتَا فَسُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَرْشِ عَمَّا يَصِفُونَ
Law kana feehima alihatun illa Allahu lafasadata fasubhana Allahi rabbi alAAarshi AAamma yasifoona
YUSUFALI: If there were, in the heavens and the earth, other gods besides Allah, there would have been confusion in both! but glory to Allah, the Lord of the Throne: (High is He) above what they attribute to Him!
PICKTHAL: If there were therein gods beside Allah, then verily both (the heavens and the earth) had been disordered. Glorified be Allah, the Lord of the Throne, from all that they ascribe (unto Him).
SHAKIR: If there had been in them any gods except Allah, they would both have certainly been in a state of disorder; therefore glory be to Allah, the Lord of the dominion, above what they attribute (to Him).
KHALIFA: If there were in them (the heavens and the earth) other gods beside GOD, there would have been chaos. Glory be to GOD; the Lord with absolute authority. He is high above their claims.
২২। আকাশ মন্ডলী ও পৃথিবীতে আল্লাহ্ ব্যতীত যদি অন্য উপাস্য থাকতো , তবে সেখানে বিশৃঙ্খলা বিরাজ করতো ২৬৮২। আরশের অধিপতি আল্লাহ্ মহান পবিত্র। তারা যা আরোপ করে তিনি তার [ বহু উর্দ্ধে ]।
২৬৮২। পৌত্তলিক হিন্দুদের তেত্রিশ কোটি দেব দেবী। প্রাচীন বহু ধর্মে দেখা যায় দেব-দেবীর আধিক্য; যেমন গ্রীকদের বহু দেব-দেবী বিদ্যমান ছিলো। এ সব দেব দেবীদের কাহিনী হচ্ছে পরস্পরের প্রতি শত্রুতা , যুদ্ধ ইত্যাদি। হিন্দুদের পৌরাণিক কাহিনী ও গ্রীকদের কাহিনী হচ্ছে পরস্পরের এই শত্রুতা, বিদ্বেষ ও যুদ্ধের কাহিনী। যদি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে আল্লাহ্ ব্যতীত বহু ইলাহ্ থাকতো, তবে তাদের ঝগড়া-ঝাটি এবং যুদ্ধের পরিণতিতে সকল বিশ্ব ব্রহ্মান্ড ধ্বংস হয়ে যেতো বা পৃথিবী এক কুরুক্ষেত্রে পরিণত হতো।
তিনি যা করেন, তৎসম্পর্কে তিনি জিজ্ঞাসিত হবেন না এবং তাদেরকে জিজ্ঞেস করা হবে।
He cannot be questioned as to what He does, while they will be questioned.
لَا يُسْأَلُ عَمَّا يَفْعَلُ وَهُمْ يُسْأَلُونَ
La yus-alu AAamma yafAAalu wahum yus-aloona
YUSUFALI: He cannot be questioned for His acts, but they will be questioned (for theirs).
PICKTHAL: He will not be questioned as to that which He doeth, but they will be questioned.
SHAKIR: He cannot be questioned concerning what He does and they shall be questioned.
KHALIFA: He is never to be asked about anything He does, while all others are questioned.
২৩। তাঁর কাজের জন্য তাঁকে প্রশ্ন করা যাবে না , বরং [ তাদেরকে ] প্রশ্ন করা হবে ২৬৮৩।
২৬৮৩। আল্লাহ্ স্বয়ং সম্পূর্ণ ও স্বনির্ভর। বিশ্ব সংসারের সকল জীবনকে তাঁর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। আল্লাহ্ কারও কাছে জবাবদিহি করবেন না। সকলেই তাঁর উপরে নির্ভরশীল , তিনি কারও উপরে নির্ভরশীল নন।
তারা কি আল্লাহ ব্যতীত অন্যান্য উপাস্য গ্রহণ করেছে? বলুন, তোমরা তোমাদের প্রমাণ আন। এটাই আমার সঙ্গীদের কথা এবং এটাই আমার পুর্ববর্তীদের কথা। বরং তাদের অধিকাংশই সত্য জানে না; অতএব তারা টালবাহানা করে।
Or have they taken for worship (other) âliha (gods) besides Him? Say: ”Bring your proof:” This (the Qur’ân) is the Reminder for those with me and the Reminder for those before me. But most of them know not the Truth, so they are averse.
أَمِ اتَّخَذُوا مِن دُونِهِ آلِهَةً قُلْ هَاتُوا بُرْهَانَكُمْ هَذَا ذِكْرُ مَن مَّعِيَ وَذِكْرُ مَن قَبْلِي بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ الْحَقَّ فَهُم مُّعْرِضُونَ
Ami ittakhathoo min doonihi alihatan qul hatoo burhanakum hatha thikru man maAAiya wathikru man qablee bal aktharuhum la yaAAlamoona alhaqqa fahum muAAridoona
YUSUFALI: Or have they taken for worship (other) gods besides him? Say, “Bring your convincing proof: this is the Message of those with me and the Message of those before me.” But most of them know not the Truth, and so turn away.
PICKTHAL: Or have they chosen other gods beside Him? say: Bring your proof (of their godhead). This is the Reminder of those with me and those before me, but most of them know not the Truth and so they are averse.
SHAKIR: Or, have they taken gods besides Him? Say: Bring your proof; this is the reminder of those with me and the reminder of those before me. Nay! most of them do not know the truth, so they turn aside.
KHALIFA: Have they found other gods beside Him? Say, “Show me your proof. This is the message to my generation, consummating all previous messages.” Indeed, most of them do not recognize the truth; this is why they are so hostile.
২৪। অথবা ওরা কি আল্লাহ্ ব্যতীত [ অন্য ] উপাস্য গ্রহণ করেছে ? ২৬৮৪। বল, ” তোমাদের বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ উপস্থিত কর। ইহা আমার সাথে যারা আছে তাদের জন্য উপদেশ এবং আমার পূর্বে যারা ছিলো তাদের জন্য উপদেশ ” ২৬৮৫। কিন্তু ওদের অধিকাংশই প্রকৃত সত্য জানে না , ফলে তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়।
২৫। আমি তোমার পূর্বে এমন কোন রাসুল প্রেরণ করি নাই, তার প্রতি এই ওহী ব্যতীত যে , আমি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নাই। সুতারাং আমার এবাদত কর এবং আনুগত্য কর।
২৬৮৪। উপরের টিকা ২৬৮২ তে দুধরণের ইলাহ্ বা মিথ্যা উপাস্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যদি এই দুধরণের মিথ্যা উপাস্য থাকতো তবে তার পরিণতির উল্লেখ করা হয়েছে। এই আয়াতে বহু উপাস্যের ফলে তৃতীয় আর এক পরিণতি বা ক্ষতির উল্লেখ করা হয়েছে। আরব মোশরেকরা বহু উপাস্যের উদ্ভাবনে ছিলো উর্বর মস্তিষ্ক। কিন্তু তা ছিলো প্রকৃত সত্য থেকে বহুদূর। নীচের [২৬ ] আয়াতে চতুর্থ আর এক ধরণের উপাস্যের ব্যাপারে সাবধান করা হয়েছে। যারা ধারণা করে আল্লাহ্র পুত্র সন্তান পৃথিবীতে জন্ম গ্রহণ করেছে এবং আল্লাহ্র পরিবর্তে তাই হচ্ছে উপাস্য।
২৬৮৫। এই আয়াতটি [ ২৪ ] পরবর্তী [২৫ ] আয়াতের সাথে সমন্বিত করে পড়তে হবে। পূর্ববর্তী আয়াতগুলিতে এ কথাই বলা হয়েছে যে, বহু উপাস্যের ধারণা পরস্পর বিরোধী ধারণা যা সৃষ্টিকে রক্ষা করার পরিবর্তে ধ্বংস করে দেবে। সমস্ত সৃষ্টি আল্লাহ্র একত্বের দিকে নির্দ্দেশ করে। এই একত্ববাদের ধারণা শুধু যে ইসলামে বিদ্যমান তা নয়। শুধু যে হযরত মুহম্মদ [সা] এই বাণী প্রচার করেছেন তা নয়; এই আয়াতে রসুলুল্লাহ্ [সা] বলছেন যে তার পূর্ববর্তী নবী ও রসুলেরাও এই একই একত্ববাদের প্রচার করে গেছেন। প্রচারক হিসেবে হযরত মুহম্মদ [ সা ] শেষ নবী। সৃষ্টির আদিতে হযরত আদম থেকে শেষ নবী হযরত মুহম্মদ [সা] পর্যন্ত আল্লাহ্র একত্বের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। সকল নবী ও রসুলদের প্রত্যাদেশের মর্মবাণীই ছিলো আল্লাহ্র একত্বের ঘোষণা। পৃথিবীতে আধ্যাত্মিক , নৈতিক, জাগতিক সকল বিষয়বস্তুর মূল সূত্র হচ্ছে আল্লাহ্র একত্বে বিশ্বাস থেকে উদ্ভুদ।
২৪। অথবা ওরা কি আল্লাহ্ ব্যতীত [ অন্য ] উপাস্য গ্রহণ করেছে ? ২৬৮৪। বল, ” তোমাদের বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ উপস্থিত কর। ইহা আমার সাথে যারা আছে তাদের জন্য উপদেশ এবং আমার পূর্বে যারা ছিলো তাদের জন্য উপদেশ ” ২৬৮৫। কিন্তু ওদের অধিকাংশই প্রকৃত সত্য জানে না , ফলে তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়।
আপনার পূর্বে আমি যে রাসূলই প্রেরণ করেছি, তাকে এ আদেশই প্রেরণ করেছি যে, আমি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নেই। সুতরাং আমারই এবাদত কর।
And We did not send any Messenger before you (O Muhammad SAW) but We inspired him (saying): Lâ ilâha illa Ana [none has the right to be worshipped but I (Allâh)], so worship Me (Alone and none else).”
وَمَا أَرْسَلْنَا مِن قَبْلِكَ مِن رَّسُولٍ إِلَّا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِ
Wama arsalna min qablika min rasoolin illa noohee ilayhi annahu la ilaha illa ana faoAAbudooni
YUSUFALI: Not a messenger did We send before thee without this inspiration sent by Us to him: that there is no god but I; therefore worship and serve Me.
PICKTHAL: And We sent no messenger before thee but We inspired him, (saying): There is no Allah save Me (Allah), so worship Me.
SHAKIR: And We did not send before you any messenger but We revealed to him that there is no god but Me, therefore serve Me.
KHALIFA: We did not send any messenger before you except with the inspiration: “There is no god except Me; you shall worship Me alone.”
২৫। আমি তোমার পূর্বে এমন কোন রাসুল প্রেরণ করি নাই, তার প্রতি এই ওহী ব্যতীত যে , আমি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নাই। সুতারাং আমার এবাদত কর এবং আনুগত্য কর।
২৬৮৪। উপরের টিকা ২৬৮২ তে দুধরণের ইলাহ্ বা মিথ্যা উপাস্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যদি এই দুধরণের মিথ্যা উপাস্য থাকতো তবে তার পরিণতির উল্লেখ করা হয়েছে। এই আয়াতে বহু উপাস্যের ফলে তৃতীয় আর এক পরিণতি বা ক্ষতির উল্লেখ করা হয়েছে। আরব মোশরেকরা বহু উপাস্যের উদ্ভাবনে ছিলো উর্বর মস্তিষ্ক। কিন্তু তা ছিলো প্রকৃত সত্য থেকে বহুদূর। নীচের [২৬ ] আয়াতে চতুর্থ আর এক ধরণের উপাস্যের ব্যাপারে সাবধান করা হয়েছে। যারা ধারণা করে আল্লাহ্র পুত্র সন্তান পৃথিবীতে জন্ম গ্রহণ করেছে এবং আল্লাহ্র পরিবর্তে তাই হচ্ছে উপাস্য।
২৬৮৫। এই আয়াতটি [ ২৪ ] পরবর্তী [২৫ ] আয়াতের সাথে সমন্বিত করে পড়তে হবে। পূর্ববর্তী আয়াতগুলিতে এ কথাই বলা হয়েছে যে, বহু উপাস্যের ধারণা পরস্পর বিরোধী ধারণা যা সৃষ্টিকে রক্ষা করার পরিবর্তে ধ্বংস করে দেবে। সমস্ত সৃষ্টি আল্লাহ্র একত্বের দিকে নির্দ্দেশ করে। এই একত্ববাদের ধারণা শুধু যে ইসলামে বিদ্যমান তা নয়। শুধু যে হযরত মুহম্মদ [সা] এই বাণী প্রচার করেছেন তা নয়; এই আয়াতে রসুলুল্লাহ্ [সা] বলছেন যে তার পূর্ববর্তী নবী ও রসুলেরাও এই একই একত্ববাদের প্রচার করে গেছেন। প্রচারক হিসেবে হযরত মুহম্মদ [ সা ] শেষ নবী। সৃষ্টির আদিতে হযরত আদম থেকে শেষ নবী হযরত মুহম্মদ [সা] পর্যন্ত আল্লাহ্র একত্বের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। সকল নবী ও রসুলদের প্রত্যাদেশের মর্মবাণীই ছিলো আল্লাহ্র একত্বের ঘোষণা। পৃথিবীতে আধ্যাত্মিক , নৈতিক, জাগতিক সকল বিষয়বস্তুর মূল সূত্র হচ্ছে আল্লাহ্র একত্বে বিশ্বাস থেকে উদ্ভুদ।
তারা বললঃ দয়াময় আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছে। তাঁর জন্য কখনও ইহা যোগ্য নয়; বরং তারা তো তাঁর সম্মানিত বান্দা।
And they say: ”The Most Beneficent (Allâh) has begotten a son (or children).” Glory to Him! They [those whom they call children of Allâh i.e. the angels, ’Iesa (Jesus) son of Maryam (Mary), ’Uzair (Ezra), etc.], are but honoured slaves.
وَقَالُوا اتَّخَذَ الرَّحْمَنُ وَلَدًا سُبْحَانَهُ بَلْ عِبَادٌ مُّكْرَمُونَ
Waqaloo ittakhatha alrrahmanu waladan subhanahu bal AAibadun mukramoona
YUSUFALI: And they say: “(Allah) Most Gracious has begotten offspring.” Glory to Him! they are (but) servants raised to honour.
PICKTHAL: And they say: The Beneficent hath taken unto Himself a son. Be He Glorified! Nay, but (those whom they call sons) are honoured slaves;
SHAKIR: And they say: The Beneficent Allah has taken to Himself a ! son. Glory be to Him. Nay! they are honored servants
KHALIFA: Yet, they said, “The Most Gracious has begotten a son!” Glory be to Him. All (messengers) are (His) honored servants.
২৬। এবং তারা বলেছিলো, ” পরম করুণাময় [আল্লাহ্ ] সন্তান গ্রহণ করেছেন। তিনি পবিত্র, মহান ! তাঁরা তো কেবল সম্মানিত বান্দা ২৬৮৬।
২৬৮৬। ” পরম করুণাময় [আল্লাহ্] সন্তান গ্রহণ করেছেন ” – এই বাক্যটি দ্বারা খৃষ্টানদের “ট্রিনিটির” ধারণা ও আবর মোশরেকদের ধারণা যে দেবদূতেরা আল্লাহ্র কন্যা প্রকাশ করা হয়েছে, এই উভয় ধারণাকে সন্তান কথাটির দ্বারা প্রকাশ করা হয়েছে। এ সকল ধারণা হচ্ছে কুসংস্কার যা আল্লাহ্র মাহাত্ম্যকে খর্ব করে। নবী ও রসুল এবং ফেরেশতারা আল্লাহ্র অনুগত ভৃত্য বই আর কিছু নয়। নবী ও রসুলেরা আল্লাহ্র সম্মানিত বান্দা , সুতারাং তারা আমাদের নিকট সর্বশ্রেষ্ঠ সম্মানের পাত্র। কিন্তু তাই বলে আল্লাহ্র পুত্র হিসেবে উপাস্য নয়।
তারা আগে বেড়ে কথা বলতে পারে না এবং তারা তাঁর আদেশেই কাজ করে।
They speak not until He has spoken, and they act on His Command.
لَا يَسْبِقُونَهُ بِالْقَوْلِ وَهُم بِأَمْرِهِ يَعْمَلُونَ
La yasbiqoonahu bialqawli wahum bi-amrihi yaAAmaloona
YUSUFALI: They speak not before He speaks, and they act (in all things) by His Command.
PICKTHAL: They speak not until He hath spoken, and they act by His command.
SHAKIR: They do not precede Him in speech and (only) according to His commandment do they act.
KHALIFA: They never speak on their own, and they strictly follow His commands.
২৭। তিনি কথা বলার পূর্বে তারা কথা বলে না ২৬৮৭। তারা [ সকল ব্যাপারে ] তার আদেশ অনুসারে কাজ করে।
২৬৮৭। আল্লাহ্র প্রেরিত নবী ও রসুলেরা আল্লাহ্র হুকুম ব্যতীত কোন বার্তা বা বাণী প্রচার করেন না। তাদের জীবনের সকল ক্রিয়াকর্ম আল্লাহ্র হুকুম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। সেন্ট জনের গসপেলে যীশু ঠিক এই কথা বলেছেন, [xii 49 – 50 ]
তাদের সম্মুখে ও পশ্চাতে যা আছে, তা তিনি জানেন। তারা শুধু তাদের জন্যে সুপারিশ করে, যাদের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট এবং তারা তাঁর ভয়ে ভীত।
He knows what is before them, and what is behind them, and they cannot intercede except for him with whom He is pleased. And they stand in awe for fear of Him.
يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يَشْفَعُونَ إِلَّا لِمَنِ ارْتَضَى وَهُم مِّنْ خَشْيَتِهِ مُشْفِقُونَ
YaAAlamu ma bayna aydeehim wama khalfahum wala yashfaAAoona illa limani irtada wahum min khashyatihi mushfiqoona
YUSUFALI: He knows what is before them, and what is behind them, and they offer no intercession except for those who are acceptable, and they stand in awe and reverence of His (Glory).
PICKTHAL: He knoweth what is before them and what is behind them, and they cannot intercede except for him whom He accepteth, and they quake for awe of Him.
SHAKIR: He knows what is before them and what is behind them, and they do not intercede except for him whom He approves and for fear of Him they tremble.
KHALIFA: He knows their future and their past. They do not intercede, except for those already accepted by Him, and they are worried about their own necks.
২৮। তাদের সম্মুখে ও পশ্চাতে যা কিছু আছে তা তিনি অবগত। তাঁরা সুপারিশ করে শুধু তাদের জন্য যাদের প্রতি আল্লাহ্ সন্তুষ্ট এবং তারা আল্লাহ্র প্রতি ভয়ে সশ্রদ্ধ ভীত ২৬৮৮, ২৬৮৯।
২৬৮৮। দেখুন আয়াত [ ২০: ১০৯ ] যারা আল্লাহ্র ইচ্ছার কাছে আত্মসমর্পন করে আল্লাহ্ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট। যারা আল্লাহ্র ইচ্ছা অর্থাৎ তাঁর আইন বা বিধানকে পৃথিবীতে মেনে চলে, তারাই আল্লাহ্র সন্তুষ্টি লাভ করে।
২৬৮৯। “তাঁরা ” বিশেষণটি তাঁদের সম্বন্ধেই ব্যবহার করা হয়েছে যারা সুপারিশ করে থাকেন। এরা সকলেই আল্লাহ্র একান্ত অনুগত ভৃত্য। আবার ” তাঁরা” বিশেষণটি তাদের জন্যও ব্যবহৃত হতে পারে যারা সুপারিশের জন্য আকুল আগ্রহে অপেক্ষা করেন। তারা সুপারিশকে তাদের অধিকার বা প্রাপ্য বলে জানেন না। সুতারাং তারা ভীত ও সন্ত্রস্ত অবস্থায় অপেক্ষা করেন।
তাদের মধ্যে যে বলে যে, তিনি ব্যতীত আমিই উপাস্য, তাকে আমি জাহান্নামের শাস্তি দেব। আমি জালেমদেরকে এভাবেই প্রতিফল দিয়ে থাকি।
And if any of them should say: ”Verily, I am an ilâh (a god) besides Him (Allâh),” such a one We should recompense with Hell. Thus We recompense the Zâlimûn (polytheists and wrong-doers, etc.).
وَمَن يَقُلْ مِنْهُمْ إِنِّي إِلَهٌ مِّن دُونِهِ فَذَلِكَ نَجْزِيهِ جَهَنَّمَ كَذَلِكَ نَجْزِي الظَّالِمِينَ
Waman yaqul minhum innee ilahun min doonihi fathalika najzeehi jahannama kathalika najzee alththalimeena
YUSUFALI: If any of them should say, “I am a god besides Him”, such a one We should reward with Hell: thus do We reward those who do wrong.
PICKTHAL: And one of them who should say: Lo! I am a god beside Him, that one We should repay with hell. Thus We Repay wrong-doers.
SHAKIR: And whoever of them should say: Surely I am a god besides Him, such a one do We recompense with hell; thus do, We recompense the unjust.
KHALIFA: If any of them claims to be a god beside Him, we requite him with Hell; we thus requite the wicked.
২৯। যদি তাদের মধ্যে কেউ বলে, ” তিনি ব্যতীত আমি উপাস্য” তাকে আমি পুরষ্কার দিব্ জাহান্নাম। এ ভাবেই আমি যারা পাপ করে তাদের পুরষ্কৃত করে থাকি।
রুকু – ৩

৩০। অবিশ্বাসীরা কি দেখে না যে, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী পৃথক হওয়ার পূর্বে সংযুক্ত ছিলো [ একক বস্তু হিসেবে ] ২৬৯০ ? আমি পানি থেকে সকল জীবিত প্রাণী সৃষ্টি করেছি ২৬৯১। এর পরেও কি তারা বিশ্বাস করবে না ?
২৬৯০। এই আয়াতে বির্বতনের মাধ্যমে বিশ্ব ব্রহ্মান্ড সৃষ্টির ইতিহাসের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতের সাথে এই আয়াতে আল্লাহ্ পৃথিবী ও বিশ্বব্রহ্মান্ড সৃষ্টি সম্বন্ধে যে ইঙ্গিত করেছেন তা অভিন্ন। চৌদ্দশত বৎসর পূর্বে যখন বর্তমান বিজ্ঞান সম্বন্ধে মানুষের কোনও ধারণাই ছিলো না, তখন এই বৈজ্ঞানিক ধারণাই প্রমাণ করে এই মহাগ্রন্থ সেই বিশ্ব স্রষ্টার নিকট থেকে আগত। আধুনিক মতে সৃষ্টির আদিতে সূর্য , নক্ষত্র, আকাশ , পৃথিবী এদের কোন পৃথক সত্তা ছিলো না। মহাবিশ্ব ছিলো নিহারীকা নামক অসংখ্য গ্যাসীয় কণার সমষ্টি , যা পরবর্তীতে বহু অংশে বিভক্ত হয়ে , নক্ষত্রপুঞ্জ , সূর্য ও পৃথিবীর জন্ম দেয়।
২৬৯১। ” আমি পানি থেকে সকল জীবিত প্রাণী সৃষ্টি করেছি ” পৃথিবীর চার ভাগের তিন ভাগ পানি দ্বারা আবৃত। পৃথিবীর প্রায় ৭২% পানি দ্বারা আবৃত। যদি পৃথিবীর স্থলভাগকে সমানভাবে সমুদ্রের তলদেশ থেকে স্থলভাগে সমান ভাবে বিস্তৃত করা হতো – কোথাও কোন উঁচু নীচু থাকতো না, তবে হিসাব করে দেখা গেছে যে, পৃথিবীতে কোনও স্থলাভাগ বিদ্যমান থাকতো না। সে সময়ে স্থলাভাগের যে গড় উচ্চতা হতো তা গড়ে ৭,০০০ – ১০,০০০ ফুট সমুদ্রের পানির নীচে থাকতো। এই উপাত্তকে তুলে ধরা হলো এজন্য যে সমস্ত পৃথিবীতে যে পানির আধিক্য বেশী তা বোঝানোর জন্য। বর্তমানে জীব বিজ্ঞান বলে যে জীবনের আবির্ভাব ঘটে পানি থেকে যা চৌদ্দশ বছর পূর্বে কোরাণের ভাষ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। জীব বিজ্ঞানের মতে সাগরের অভ্যন্তরে অর্থাৎ পানিতেই জীবনের মূল উপাদান প্রোটপ্লাজম থেকে জীবের প্রথম সৃষ্টি হয়। আরও দেখা যায় যে , স্থলাভাগে মেরুদণ্ডী প্রাণীর দেহে এমন কিছু অংগ বিদ্যমান যা জলভাগের প্রাণী মাছেও বিদ্যমান। এ উপাত্ত এ সত্যের দিকে ইঙ্গিত করে যে, জীবনের প্রথম সৃষ্টি পানিতে। এখানে লক্ষণীয় যে প্রোটোপ্লাজমের ৮০ -৮৫ ই হচ্ছে পানি দ্বারা গঠিত।
কাফেররা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর মুখ বন্ধ ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে খুলে দিলাম এবং প্রাণবন্ত সবকিছু আমি পানি থেকে সৃষ্টি করলাম। এরপরও কি তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না?
Have not those who disbelieve known that the heavens and the earth were joined together as one united piece, then We parted them? And We have made from water every living thing. Will they not then believe?
أَوَلَمْ يَرَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ كَانَتَا رَتْقًا فَفَتَقْنَاهُمَا وَجَعَلْنَا مِنَ الْمَاء كُلَّ شَيْءٍ حَيٍّ أَفَلَا يُؤْمِنُونَ
Awa lam yara allatheena kafaroo anna alssamawati waal-arda kanata ratqan fafataqnahuma wajaAAalna mina alma-i kulla shay-in hayyin afala yu/minoona
YUSUFALI: Do not the Unbelievers see that the heavens and the earth were joined together (as one unit of creation), before we clove them asunder? We made from water every living thing. Will they not then believe?
PICKTHAL: Have not those who disbelieve known that the heavens and the earth were of one piece, then We parted them, and we made every living thing of water? Will they not then believe?
SHAKIR: Do not those who disbelieve see that the heavens and the earth were closed up, but We have opened them; and We have made of water everything living, will they not then believe?
KHALIFA: Do the unbelievers not realize that the heaven and the earth used to be one solid mass that we exploded into existence? And from water we made all living things. Would they believe?
রুকু – ৩
৩০। অবিশ্বাসীরা কি দেখে না যে, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী পৃথক হওয়ার পূর্বে সংযুক্ত ছিলো [ একক বস্তু হিসেবে ] ২৬৯০ ? আমি পানি থেকে সকল জীবিত প্রাণী সৃষ্টি করেছি ২৬৯১। এর পরেও কি তারা বিশ্বাস করবে না ?
২৬৯০। এই আয়াতে বির্বতনের মাধ্যমে বিশ্ব ব্রহ্মান্ড সৃষ্টির ইতিহাসের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতের সাথে এই আয়াতে আল্লাহ্ পৃথিবী ও বিশ্বব্রহ্মান্ড সৃষ্টি সম্বন্ধে যে ইঙ্গিত করেছেন তা অভিন্ন। চৌদ্দশত বৎসর পূর্বে যখন বর্তমান বিজ্ঞান সম্বন্ধে মানুষের কোনও ধারণাই ছিলো না, তখন এই বৈজ্ঞানিক ধারণাই প্রমাণ করে এই মহাগ্রন্থ সেই বিশ্ব স্রষ্টার নিকট থেকে আগত। আধুনিক মতে সৃষ্টির আদিতে সূর্য , নক্ষত্র, আকাশ , পৃথিবী এদের কোন পৃথক সত্তা ছিলো না। মহাবিশ্ব ছিলো নিহারীকা নামক অসংখ্য গ্যাসীয় কণার সমষ্টি , যা পরবর্তীতে বহু অংশে বিভক্ত হয়ে , নক্ষত্রপুঞ্জ , সূর্য ও পৃথিবীর জন্ম দেয়।
২৬৯১। ” আমি পানি থেকে সকল জীবিত প্রাণী সৃষ্টি করেছি ” পৃথিবীর চার ভাগের তিন ভাগ পানি দ্বারা আবৃত। পৃথিবীর প্রায় ৭২% পানি দ্বারা আবৃত। যদি পৃথিবীর স্থলভাগকে সমানভাবে সমুদ্রের তলদেশ থেকে স্থলভাগে সমান ভাবে বিস্তৃত করা হতো – কোথাও কোন উঁচু নীচু থাকতো না, তবে হিসাব করে দেখা গেছে যে, পৃথিবীতে কোনও স্থলাভাগ বিদ্যমান থাকতো না। সে সময়ে স্থলাভাগের যে গড় উচ্চতা হতো তা গড়ে ৭,০০০ – ১০,০০০ ফুট সমুদ্রের পানির নীচে থাকতো। এই উপাত্তকে তুলে ধরা হলো এজন্য যে সমস্ত পৃথিবীতে যে পানির আধিক্য বেশী তা বোঝানোর জন্য। বর্তমানে জীব বিজ্ঞান বলে যে জীবনের আবির্ভাব ঘটে পানি থেকে যা চৌদ্দশ বছর পূর্বে কোরাণের ভাষ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। জীব বিজ্ঞানের মতে সাগরের অভ্যন্তরে অর্থাৎ পানিতেই জীবনের মূল উপাদান প্রোটপ্লাজম থেকে জীবের প্রথম সৃষ্টি হয়। আরও দেখা যায় যে , স্থলাভাগে মেরুদণ্ডী প্রাণীর দেহে এমন কিছু অংগ বিদ্যমান যা জলভাগের প্রাণী মাছেও বিদ্যমান। এ উপাত্ত এ সত্যের দিকে ইঙ্গিত করে যে, জীবনের প্রথম সৃষ্টি পানিতে। এখানে লক্ষণীয় যে প্রোটোপ্লাজমের ৮০ -৮৫ ই হচ্ছে পানি দ্বারা গঠিত।
আমি পৃথিবীতে ভারী বোঝা রেখে দিয়েছি যাতে তাদেরকে নিয়ে পৃথিবী ঝুঁকে না পড়ে এবং তাতে প্রশস্ত পথ রেখেছি, যাতে তারা পথ প্রাপ্ত হয়।
And We have placed on the earth firm mountains, lest it should shake with them, and We placed therein broad highways for them to pass through, that they may be guided.
وَجَعَلْنَا فِي الْأَرْضِ رَوَاسِيَ أَن تَمِيدَ بِهِمْ وَجَعَلْنَا فِيهَا فِجَاجًا سُبُلًا لَعَلَّهُمْ يَهْتَدُونَ
WajaAAalna fee al-ardi rawasiya an tameeda bihim wajaAAalna feeha fijajan subulan laAAallahum yahtadoona
YUSUFALI: And We have set on the earth mountains standing firm, lest it should shake with them, and We have made therein broad highways (between mountains) for them to pass through: that they may receive Guidance.
PICKTHAL: And We have placed in the earth firm hills lest it quake with them, and We have placed therein ravines as roads that haply they may find their way.
SHAKIR: And We have made great mountains in the earth lest it might be convulsed with them, and We have made in it wide ways that they may follow a right direction.
KHALIFA: And we placed on earth stabilizers, lest it tumbles with them, and we placed straight roads therein, that they may be guided.
৩১। আমি পৃথিবীতে স্থাপন করেছি সুদৃঢ় পর্বতমালা, যেনো তাদের নিয়ে পৃথিবী দুলতে না পারে ২৬৯২। এবং আমি সেখানে [ দুই পর্বতের মধ্যে ] প্রশস্ত বাণিজ্য পথের সৃষ্টি করেছি তাদের চলাচলের জন্য, যেনো তারা পথ নির্দ্দেশ লাভ করে ২৬৯৩।
২৬৯২। অনুরূপ আয়াতের জন্য দেখুন [ ১৬ : ১৫ ] আয়াত এবং টিকা ২০৩৮ এবং আয়াত [৭৮ : ৭ ]।
২৬৯৩। তারা শব্দটি দ্বারা সকল মনুষ্য সম্প্রদায়কে বোঝানো হয়েছে, তবে বিশেষভাবে ইঙ্গিত করা হয়েছে তাদের প্রতি যারা আল্লাহ্র করুণা ও দয়া অনুধাবনে অক্ষম। পাহাড় যা দুদেশের মাঝে প্রাচীরবৎ দাড়িয়ে থাকে। আল্লাহ্র অসীম করুণা পাহাড়ের মাঝের গিপিপথ তাদের সুউচ্চ পর্বতমালাকে অতিক্রমে সাহায্য করে। তাদের ব্যবসা বাণিজ্যে সুবিধা হয় এবং বাণিজ্য শেষে গৃহে প্রত্যাবর্তন অধিক সহজ হয়। পূর্বের টিকাতে [ ২৬৯১] দেখুন পর্বতসমূহ সুউচ্চ না থাকলে সকল স্থলভাগ সমুদ্রের নীচে তলিয়ে যেতো। সুতারাং স্থলাভাগের জীবনের নিরাপত্তার জন্য পর্বতের সৃষ্টি। আবার টিকাতে [ ২০৩৮ ] দেখুন পর্বতমালা কিভাবে ভূগর্ভস্থ চলমান শিলাকে স্বস্থানে রাখতে সাহায্য করে – অন্যথায় পৃথিবীতে সর্বদা ভূমিকম্প লেগে থাকতো, ফলে সভ্যতার বিকাশ বাঁধাগ্রস্থ হতো। পৃথিবীর বৃষ্টিপাত, বায়ু প্রবাহ বহু প্রকার প্রাকৃতিক ঘটনা সুউচ্চ পর্বতের সাথে জড়িত। এই আয়াতে বলা হয়েছে, ” যেনো তারা পথ নির্দ্দেশ লাভ করে ” বাক্যটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই বাক্যটির যেমন আক্ষরিক অর্থ বিদ্যমান ঠিক সেরূপ এর আছে গভীর তাৎপর্যপূর্ণ মর্মার্থ। আক্ষরিক অর্থে মানুষ গিরিপথে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারে, বিদেশ ও স্বদেশের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপিত হয়। আলঙ্কারিক বা উপমার্থে এর অর্থ হচ্ছে , আল্লাহ্র রাজ্যে এ সব সৃষ্টি মানুষকে চিন্তা করতে শেখাবে, আল্লাহ্র শক্তিকে অনুধাবনের মাধ্যমে আল্লাহ্ ক্ষমতার বিশালতা, আল্লাহ্র দয়া ও করুণার ব্যপকতা অনুধাবন ক্ষমতা জন্মাবে। ফলে মানুষ হেদায়েতের আলোর সন্ধান লাভ করবে। সুউচ্চ পর্বতের বাধা অতিক্রম করে গিরিপথ যেরূপ ব্যক্তিকে তার নিজ দেশে প্রত্যার্পনকে সহজ করে। ঠিক সেরূপ আল্লাহ্র ক্ষমতা , শক্তি , ও করুণা অনুধাবনের ফলে হেদায়েতের আলো লাভ করে মঞ্জিলে পৌঁছানো অনেক সহজ হয়ে যায়।
আমি আকাশকে সুরক্ষিত ছাদ করেছি; অথচ তারা আমার আকাশস্থ নিদর্শনাবলী থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখে।
And We have made the heaven a roof, safe and well guarded. Yet they turn away from its signs (i.e. sun, moon, winds, clouds, etc.).
وَجَعَلْنَا السَّمَاء سَقْفًا مَّحْفُوظًا وَهُمْ عَنْ آيَاتِهَا مُعْرِضُونَ
WajaAAalna alssamaa saqfan mahfoothan wahum AAan ayatiha muAAridoona
YUSUFALI: And We have made the heavens as a canopy well guarded: yet do they turn away from the Signs which these things (point to)!
PICKTHAL: And we have made the sky a roof withheld (from them). Yet they turn away from its portents.
SHAKIR: And We have made the heaven a guarded canopy and (yet) they turn aside from its signs.
KHALIFA: And we rendered the sky a guarded ceiling. Yet, they are totally oblivious to all the portents therein.
৩২। আমি আকাশকে সুরক্ষিত ছাদ হিসেবে বানিয়েছি ২৬৯৪। এ সব জিনিষ যার প্রতি [ নির্দ্দেশ করে ], নিদর্শন দেখার পরও তারা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
২৬৯৪। “সুরক্ষিত ছাদ ” – অর্থাৎ আকাশটা যেনো গৃহের ছাদের মত যা সুরক্ষিত যেনো পড়ে না যায়। সুউচ্চ আকাশ মহিমান্বিত রহস্যময় সৌন্দর্য্যের সৃষ্টি করে যার খুব অল্পই মানুষ অনুধাবন করতে পারে। সব ক্ষতিকর শক্তি থেকে পৃথিবী আকাশ দ্বারা সুরক্ষিত। দেখুন [ ১৫ : ১৭ ]। আল্লাহ্র সৃষ্টিকে অনুধাবনের মাধ্যমেই একমাত্র আল্লাহ্র ক্ষমতা, সৃষ্টি নৈপুণ্য,জ্ঞান ও প্রজ্ঞা সৃষ্টির জন্য তাঁর করুণা দয়াকে অনুধাবন করা সম্ভব।
তিনিই সৃষ্টি করেছেন রাত্রি ও দিন এবং সূর্য ও চন্দ্র। সবাই আপন আপন কক্ষপথে বিচরণ করে।
And He it is Who has created the night and the day, and the sun and the moon, each in an orbit floating.
وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ فِي فَلَكٍ يَسْبَحُونَ
Wahuwa allathee khalaqa allayla waalnnahara waalshshamsa waalqamara kullun fee falakin yasbahoona
YUSUFALI: It is He Who created the Night and the Day, and the sun and the moon: all (the celestial bodies) swim along, each in its rounded course.
PICKTHAL: And He it is Who created the night and the day, and the sun and the moon. They float, each in an orbit.
SHAKIR: And He it is Who created the night and the day and the sun and the moon; all (orbs) travel along swiftly in their celestial spheres.
KHALIFA: And He is the One who created the night and the day, and the sun and the moon; each floating in its own orbit.
৩৩। তিনিই রাত্রি ও দিন এবং সূর্য ও চন্দ্র সৃষ্টি করেছেন। সকল [ স্বর্গীয় বস্তু ] নিজ নিজ কক্ষ পথে বিচরণ করে ২৬৯৫।
২৬৯৫। এই আয়াতটি অত্যন্ত বৈজ্ঞানিক ধ্যান ধারণা সম্বলিত। আজ থেকে চৌদ্দশত বৎসর পূর্বে এই আয়াতটি রাত্রি দিবস কথাটি দ্বারা পৃথিবীর আহ্নিক গতি এবং পৃথিবী সূর্য ও চন্দ্রের নিজস্ব কক্ষপথ পরিক্রমের দিকে ইঙ্গিত করে যা সেসময়ে ছিলো ধারণারও বাইরে। এটিও আল্লাহ্র করুণারই আর এক স্বাক্ষর।
আপনার পূর্বেও কোন মানুষকে আমি অনন্ত জীবন দান করিনি। সুতরাং আপনার মৃত্যু হলে তারা কি চিরঞ্জীব হবে?
And We granted not to any human being immortality before you (O Muhammad SAW), then if you die, would they live forever?
وَمَا جَعَلْنَا لِبَشَرٍ مِّن قَبْلِكَ الْخُلْدَ أَفَإِن مِّتَّ فَهُمُ الْخَالِدُونَ
Wama jaAAalna libasharin min qablika alkhulda afa-in mitta fahumu alkhalidoona
YUSUFALI: We granted not to any man before thee permanent life (here): if then thou shouldst die, would they live permanently?
PICKTHAL: We appointed immortality for no mortal before thee. What! if thou diest, can they be immortal!
SHAKIR: And We did not ordain abiding for any mortal before you. What! Then if you die, will they abide?
KHALIFA: We never decreed immortality for anyone before you; should you die, are they immortal?
৩৪। [ পৃথিবীতে ] তোমার পূর্বেও কোন মানুষকে অনন্ত জীবন দান করা হয় নাই ২৬৯৬। সুতারাং তোমার মৃত্যু হলে ওরা কি চিরদিন বেঁচে থাকবে ?
২৬৯৬। যেদিনই মানব শিশু পৃথিবীতে জন্ম লাভ করে ,তার পর থেকেই শুরু হয় তার মৃত্যুর দিকে পথযাত্রা। প্রতিটি জীবন মানেই মৃত্যু। নবী রসুলেরাও এর ব্যতিক্রম নয়। কাফেররা হযরত মুহম্মদকে [সা] বিদ্রূপ করতো যে তিনি যদি সত্য নবী হন তবে মৃত্যু তাঁকে স্পর্শ করবে না। এরই প্রেক্ষিতে উক্ত আয়াত নাজেল হয়।
প্রত্যেককে মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে। আমি তোমাদেরকে মন্দ ও ভাল দ্বারা পরীক্ষা করে থাকি এবং আমারই কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।
Everyone is going to taste death, and We shall make a trial of you with evil and with good, and to Us you will be returned.
كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ وَنَبْلُوكُم بِالشَّرِّ وَالْخَيْرِ فِتْنَةً وَإِلَيْنَا تُرْجَعُونَ
Kullu nafsin tha-iqatu almawti wanablookum bialshsharri waalkhayri fitnatan wa-ilayna turjaAAoona
YUSUFALI: Every soul shall have a taste of death: and We test you by evil and by good by way of trial. to Us must ye return.
PICKTHAL: Every soul must taste of death, and We try you with evil and with good, for ordeal. And unto Us ye will be returned.
SHAKIR: Every soul must taste of death and We try you by evil and good by way of probation; and to Us you shall be brought back.
KHALIFA: Every person will taste death, after we put you to the test through adversity and prosperity, then to us you ultimately return.
৩৫। প্রতিটি আত্মাকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে ২৬৯৭। আমি তোমাদের মন্দ ও ভালো দ্বারা পরীক্ষা করে থাকি। আমারই নিকট তোমরা ফিরে আসবে।
২৬৯৭। দেখুন অনুরূপ আয়াত [ ৩ : ১৮৫ ] এবং টিকা ৪৯১। আত্মা চিরঞ্জীব, অমর। কারণ আত্মা তো সেই পরমাত্মার অংশ। আল্লাহ্ আদম সৃষ্টির আদিতে মৃত্তিকার তৈরী নশ্বর দেহে রুহু বা আত্মা দান করেছেন [ ১৫ : ২৯] ][৩২:৯], [৩৮:৭২]। সময়ের পরিক্রমায় এই নশ্বর দেহ বার্দ্ধক্য , জরা, রোগে আক্রান্ত হয় এবং একদিন আত্মা এই বার্দ্ধক্য ও জরা পীড়িত দেহ ত্যাগ করে মৃত্যুর সিংহদুয়ার অতিক্রম করে এবং পরলোকে যাত্রা করে। যে আত্মা সুদীর্ঘকাল দেহের খাঁচায় বন্দী থেকে দেহের অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হয়; মৃত্যুর মাধ্যমে আত্মা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। নশ্বর দেহ পড়ে থাকে মাটির পৃথিবীতে, কিন্তু দেহকে ত্যাগ করার যে অভিজ্ঞতা তাই হচ্ছে আত্মার জন্য “মৃত্যুর স্বাদ” বা অভিজ্ঞতা যা আত্মা বহন করে নেবে পরলোকে। এই পৃথিবীতে আত্মার অবস্থান ক্ষণকালীন ” শিক্ষানবীশ” হিসেবে পরলোকের জন্য। পৃথিবীর যাত্রাপথে দেহের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আত্মা লাভ করে বিভিন্ন অভিজ্ঞতা। আমাদের দৃঢ়তা, চরিত্রের গুণাবলী সবই পরীক্ষার মাধ্যমে উত্তীর্ণ হতে হবে পৃথিবীর এই শিক্ষানবীশ কালে। এ সব পরীক্ষা কখনও আসে বিপদ দুর্বিপাকের আকারে। কখনও আসে শোক ও দুঃখের মাধ্যমে, কখনও আসে প্রাচুর্য ও সুখের রূপ ধরে। আল্লাহ্ পরীক্ষা করে নেন তাঁর কোন বান্দা দুঃখের অমানিশাতে ধৈর্য্য না হারিয়ে শুধু মাত্র আল্লাহ্র উপরে নির্ভর করে বিপদ ও দুঃখকে অতিক্রম করতে পারে। পরীক্ষা করে নেন তাঁর কোন বান্দা প্রাচুর্য ও সুখের দিনে অহংকারে ও দম্ভে স্ফীত না হয়ে , বিনয়ের মাধ্যমে আল্লাহ্র শোকর গোজারী করে এবং আল্লাহ্র রাস্তায় সকল অবস্থায় আল্লাহ্র উপরে নির্ভরশীল হয় – বান্দার এই মানসিক অবস্থা [ State of mind ] , যা আল্লাহ্র প্রতি একান্ত নিবেদিত, আল্লাহ্র কাম্য। বান্দা যখন আল্লাহ্র প্রতি নিবেদিত এবং নির্ভরশীলতার এই আত্মিক অবস্থা লাভ করে , তখন ব্যক্তির চরিত্রে দুর্লভ গুণাবলীর জন্ম লাভ করে। ধৈর্য্য, সহিষ্ণুতা, দৃঢ়তা, সংযম, সাহসিকতা,একাগ্রতা, অধ্যবসায়ী প্রভৃতি বিভিন্ন চারিত্রিক গুণাবলী তাঁর চরিত্রকে করে উজ্জ্বল ও সমুন্নত। যদি আমরা এই পৃথিবীর জীবনে আমাদের চরিত্রকে সমুন্নত রাখতে পারি, চারিত্রিক গুণাবলীতে সমৃদ্ধ করতে পারি, তবেই আমরা আমাদের ক্ষণকালীন ” শিক্ষানবীশ কাল” সাফল্যের সাথে উত্তরণ করতে সক্ষম হব। প্রত্যেককেই মৃত্যুর দুয়ার পেরিয়ে পরলোকে আল্লাহ্র নিকট নীত করা হবে। এবং সেখানেই তাদের পৃথিবীর শিক্ষানবীশ কালের মূল্যায়ন করা হবে।
কাফেররা যখন আপনাকে দেখে তখন আপনার সাথে ঠাট্টা করা ছাড়া তাদের আর কোন কাজ থাকে না, একি সেই ব্যক্তি, যে তোমাদের দেব-দেবীদের সমালোচনা করে? এবং তারাই তো রহমান’ এর আলোচনায় অস্বীকার করে।
And when those who disbelieve (in the Oneness of Allâh) see you (O Muhammad SAW), they take you not except for mockery (saying): ”Is this the one who talks (badly) about your gods?” While they disbelieve at the mention of the Most Beneficent (Allâh). [Tafsir. Al-Qurtubî].
وَإِذَا رَآكَ الَّذِينَ كَفَرُوا إِن يَتَّخِذُونَكَ إِلَّا هُزُوًا أَهَذَا الَّذِي يَذْكُرُ آلِهَتَكُمْ وَهُم بِذِكْرِ الرَّحْمَنِ هُمْ كَافِرُونَ
Wa-itha raaka allatheena kafaroo in yattakhithoonaka illa huzuwan ahatha allathee yathkuru alihatakum wahum bithikri alrrahmani hum kafiroona
YUSUFALI: When the Unbelievers see thee, they treat thee not except with ridicule. “Is this,” (they say), “the one who talks of your gods?” and they blaspheme at the mention of (Allah) Most Gracious!
PICKTHAL: And when those who disbelieve behold thee, they but choose thee out for mockery, (saying): Is this he who maketh mention of your gods? And they would deny all mention of the Beneficent.
SHAKIR: And when those who disbelieve see you, they do not take you but for one to be scoffed at: Is this he who speaks of your gods? And they are deniers at the mention of the Beneficent Allah.
KHALIFA: When those who disbelieve see you, they ridicule you: “Is this the one who challenges your gods?” Meanwhile, they remain totally heedless of the message from the Most Gracious.
৩৬। অবিশ্বাসীরা যখন তোমাকে দেখে, তখন ওরা তোমাকে কেবল বিদ্রূপের পাত্ররূপেই গ্রহণ করে। [ তারা বলে ] “এই কি সেই যে তোমাদের দেব-দেবীদের সমালোচনা করে ? ” এবং তারা পরম করুণাময় [আল্লাহ্র ] উল্লেখে নিন্দা বাক্য প্রয়োগ করে ২৬৯৮।
২৬৯৮। এই আয়াতটিতে আমাদের নবীকে সম্বোধন করা হয়েছে; কিন্তু এর আবেদন সার্বজনীন। যারা প্রকৃত মোমেন বান্দা, তাদের নিকট প্রকৃত এবাদত ও মিথ্যা এবাদতের মধ্যে দুস্তর ব্যবধান। কাফের ও সন্দেহবাতিকদের নিকট এবাদত হাসি ঠাট্টার বিষয়বস্তু। তারা ধর্মকে হাসি ঠাট্টার বিষয়বস্তু রূপে গ্রহণ করে এবং মোমেন বান্দাদের ব্যঙ্গ বিদ্রূপ করে যেরূপ আরবের কাফেররা নবীকে করতো। তারা নবীকে শুধু ঠাট্টা বিদ্রূপই করতো না , তারা আল্লাহ্র নামের উল্লেখে মাত্র তার নিন্দা জ্ঞাপন করতো। এর উত্তর পরবর্তী আয়াতে দেয়া হয়েছে।
সৃষ্টিগত ভাবে মানুষ ত্বরাপ্রবণ, আমি সত্তরই তোমাদেরকে আমার নিদর্শনাবলী দেখাব। অতএব আমাকে শীঘ্র করতে বলো না।
Man is created of haste, I will show you My Ayât (torments, proofs, evidences, verses, lessons, signs, revelations, etc.).So ask Me not to hasten (them).
خُلِقَ الْإِنسَانُ مِنْ عَجَلٍ سَأُرِيكُمْ آيَاتِي فَلَا تَسْتَعْجِلُونِ
Khuliqa al-insanu min AAajalin saoreekum ayatee fala tastaAAjiloona
YUSUFALI: Man is a creature of haste: soon (enough) will I show you My Signs; then ye will not ask Me to hasten them!
PICKTHAL: Man is made of haste. I shall show you My portents, but ask Me not to hasten.
SHAKIR: Man is created of haste; now will I show to you My signs, therefore do not ask Me to hasten (them) on.
KHALIFA: The human being is impatient by nature. I will inevitably show you My signs; do not be in such a hurry.
৩৭। মানুষ [ সৃষ্টিগত ভাবে ] ত্বরাপ্রবণ প্রাণী ২৬৯৯। শীঘ্রই আমি আমার নিদর্শনাবলী দেখাব। সুতারাং [ তাদের সম্বন্ধে ] ত্বরা করতে বলো না।
২৬৯৯। মানুষকে আল্লাহ্ সৃষ্টিগত ভাবেই অধৈর্য করে সৃষ্টি করেছেন। যখন তাকে অনুতাপ করে আল্লাহ্র রাস্তায় ফিরে আসার জন্য অবকাশ দান করা হয় ,সে সেই সুযোগ গ্রহণ করার পরিবর্তে অধৈর্য হয়ে উঠে। সে অস্থির ভাবে বলে, “যদি সত্যি তুমি সত্য কথা বলে থাক, তবে সেই শাস্তি শীঘ্রই হাজির কর। ” হায়! সে যদি জানতো শাস্তি অবধারিত। যখন তা নিপতিত হবে তখন সে আর ত্বরা করবে না। সে বরং তার অবসর কালকে প্রলম্বিত করতে চাইবে। হতভাগ্য জীব এরা।
উপদেশ : ধৈর্যহীনতা বা ত্বরা করার প্রবণতা যদিও মানুষের স্বাভাবিক প্রবণতা তবুও আল্লাহ্র হুকুম হচ্ছে ধৈর্য্য ধারণ করে ধীর স্থির ভাবে অগ্রসর হওয়া। সবর বা ধৈর্য্যধারণ চরিত্রের এক প্রধান গুণ।
এবং তারা বলেঃ যদি তোমরা সত্যবাদী হও তবে এই ওয়াদা কবে পুর্ণ হবে?
And they say: ”When will this promise (come to pass), if you are truthful.”
وَيَقُولُونَ مَتَى هَذَا الْوَعْدُ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ
Wayaqooloona mata hatha alwaAAdu in kuntum sadiqeena
YUSUFALI: They say: “When will this promise come to pass, if ye are telling the truth?”
PICKTHAL: And they say: When will this promise (be fulfilled), if ye are truthful?
SHAKIR: And they say: When will this threat come to pass if you are truthful?
KHALIFA: They challenge: “Where is that (retribution), if you are truthful?”
৩৮। তারা বলে, ” তোমরা যদি সত্য বলে থাক, তাহলে বল, এই প্রতিশ্রুতি কখন পূর্ণ হবে ? ”
৩৯। যদি অবিশ্বাসীরা [সেই সময়ের কথা ] জানতো ২৭০০ , যখন তারা তাদের সম্মুখ থেকে আগুন প্রতিরোধ করতে পারবে না , পশ্চাৎ থেকেও পারবে না, কোন সাহায্য তাদের নিকট পৌঁছবে না।
২৭০০। যদি কাফেররা তাদের শেষ পরিণতির কথা সম্যকভাবে উপলব্ধি করতে পারতো তবে অবশ্যই তারা শাস্তিকে ত্বরান্বিত করার জন্য অধৈর্য্য হতো না। তাদের শাস্তির বর্ণনা করা হয়েছে এভাবে : শাস্তির আগুন তাদের সর্বদিক থেকে আবৃত করে ফেলবে। তারা কোনও সাহায্যকারী পাবে না। তাহলে শেষ পরিণতির কথা চিন্তা করে এখনই অনুতাপ করার শ্রেষ্ঠ সময় নয় কি ? তাদের উপরে নিপতিত শাস্তি সহসাই আসবে যার কথা পরবর্তী আয়াতে বলা হয়েছে।
যদি কাফেররা ঐ সময়টি জানত, যখন তারা তাদের সম্মুখ ও পৃষ্ঠদেশ থেকে অগ্নি প্রতিরোধ করতে পারবে না এবং তারা সাহায্য প্রাপ্ত হবে না।
If only those who disbelieved knew (the time) when they will not be able to ward off the Fire from their faces, nor from their backs; and they will not be helped.
لَوْ يَعْلَمُ الَّذِينَ كَفَرُوا حِينَ لَا يَكُفُّونَ عَن وُجُوهِهِمُ النَّارَ وَلَا عَن ظُهُورِهِمْ وَلَا هُمْ يُنصَرُونَ
Law yaAAlamu allatheena kafaroo heena la yakuffoona AAan wujoohihimu alnnara wala AAan thuhoorihim wala hum yunsaroona
YUSUFALI: If only the Unbelievers knew (the time) when they will not be able to ward off the fire from their faces, nor yet from their backs, and (when) no help can reach them!
PICKTHAL: If those who disbelieved but knew the time when they will not be able to drive off the fire from their faces and from their backs, and they will not be helped!
SHAKIR: Had those who disbelieve but known (of the time) when they shall not be able to ward off the fire from their faces nor from their backs, nor shall they be helped.
KHALIFA: If only those who disbelieve could envision themselves when they try to ward off the fire – off their faces and their backs! No one will help them then.
৩৮। তারা বলে, ” তোমরা যদি সত্য বলে থাক, তাহলে বল, এই প্রতিশ্রুতি কখন পূর্ণ হবে ? ”
৩৯। যদি অবিশ্বাসীরা [সেই সময়ের কথা ] জানতো ২৭০০ , যখন তারা তাদের সম্মুখ থেকে আগুন প্রতিরোধ করতে পারবে না , পশ্চাৎ থেকেও পারবে না, কোন সাহায্য তাদের নিকট পৌঁছবে না।
২৭০০। যদি কাফেররা তাদের শেষ পরিণতির কথা সম্যকভাবে উপলব্ধি করতে পারতো তবে অবশ্যই তারা শাস্তিকে ত্বরান্বিত করার জন্য অধৈর্য্য হতো না। তাদের শাস্তির বর্ণনা করা হয়েছে এভাবে : শাস্তির আগুন তাদের সর্বদিক থেকে আবৃত করে ফেলবে। তারা কোনও সাহায্যকারী পাবে না। তাহলে শেষ পরিণতির কথা চিন্তা করে এখনই অনুতাপ করার শ্রেষ্ঠ সময় নয় কি ? তাদের উপরে নিপতিত শাস্তি সহসাই আসবে যার কথা পরবর্তী আয়াতে বলা হয়েছে।
বরং তা আসবে তাদের উপর অতর্কিত ভাবে, অতঃপর তাদেরকে তা হতবুদ্ধি করে দেবে, তখন তারা তা রোধ করতেও পারবে না এবং তাদেরকে অবকাশও দেয়া হবে না।
Nay, it (the Fire or the Day of Resurrection) will come upon them all of a sudden and will perplex them, and they will have no power to avert it, nor will they get respite.
بَلْ تَأْتِيهِم بَغْتَةً فَتَبْهَتُهُمْ فَلَا يَسْتَطِيعُونَ رَدَّهَا وَلَا هُمْ يُنظَرُونَ
Bal ta/teehim baghtatan fatabhatuhum fala yastateeAAoona raddaha wala hum yuntharoona
YUSUFALI: Nay, it may come to them all of a sudden and confound them: no power will they have then to avert it, nor will they (then) get respite.
PICKTHAL: Nay, but it will come upon them unawares so that it will stupefy them, and they will be unable to repel it, neither will they be reprieved.
SHAKIR: Nay, it shall come on them all of a sudden and cause them to become confounded, so they shall not have the power to avert it, nor shall they be respited.
KHALIFA: Indeed, it will come to them suddenly, and they will be utterly stunned. They can neither avoid it, nor can they receive any respite.
৪০। কেবল তাই নয়, উহা তাদের উপর আসতে পারে অতর্কিত ভাবে এবং তা তাদের হতবুদ্ধি করে দেবে। উহা নিবারণ করার কোন শক্তিই তাদের থাকবে না। [ তখন ] ওদের কোন অবকাশও দেয়া হবে না।
৪১। তোমার পূর্বে [ অনেক ] রাসুলকে বিদ্রূপ করা হয়েছিলো। পরিণামে তারা যা নিয়ে ঠাট্টা – বিদ্রূপ করতো তা বিদ্রূপকারীদের পরিবেষ্টন করবে ২৭০১।
২৭০১। অনুরূপ আয়াতের জন্য দেখুন [ ৬ : ১০ ] আয়াত এবং টিকা ৮৪৩। কাফেররা যা নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রূপ করতো সেই ব্যঙ্গ বিদ্রূপের শাস্তি তাদের ঘিরে ধরবে।
আপনার পূর্বেও অনেক রাসূলের সাথে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা হয়েছে। অতঃপর যে বিষয়ে তারা ঠাট্টা করত তা উল্টো ঠাট্টাকারীদের উপরই আপতিত হয়েছে।
Indeed (many) Messengers were mocked before you (O Muhammad SAW), but the scoffers were surrounded by that, whereat they used to mock.
وَلَقَدِ اسْتُهْزِئَ بِرُسُلٍ مِّن قَبْلِكَ فَحَاقَ بِالَّذِينَ سَخِرُوا مِنْهُم مَّا كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِؤُون
Walaqadi istuhzi-a birusulin min qablika fahaqa biallatheena sakhiroo minhum ma kanoo bihi yastahzi-oona
YUSUFALI: Mocked were (many) messenger before thee; But their scoffers were hemmed in by the thing that they mocked.
PICKTHAL: Messengers before thee, indeed, were mocked, but that whereat they mocked surrounded those who scoffed at them.
SHAKIR: And certainly messengers before you were scoffed at, then there befell those of them who scoffed that at which they had scoffed.
KHALIFA: Messengers before you have been ridiculed, and, consequently, those who ridiculed them incurred the retribution for their ridiculing.
৪০। কেবল তাই নয়, উহা তাদের উপর আসতে পারে অতর্কিত ভাবে এবং তা তাদের হতবুদ্ধি করে দেবে। উহা নিবারণ করার কোন শক্তিই তাদের থাকবে না। [ তখন ] ওদের কোন অবকাশও দেয়া হবে না।
৪১। তোমার পূর্বে [ অনেক ] রাসুলকে বিদ্রূপ করা হয়েছিলো। পরিণামে তারা যা নিয়ে ঠাট্টা – বিদ্রূপ করতো তা বিদ্রূপকারীদের পরিবেষ্টন করবে ২৭০১।
২৭০১। অনুরূপ আয়াতের জন্য দেখুন [ ৬ : ১০ ] আয়াত এবং টিকা ৮৪৩। কাফেররা যা নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রূপ করতো সেই ব্যঙ্গ বিদ্রূপের শাস্তি তাদের ঘিরে ধরবে।
বলুনঃ ‘রহমান’ থেকে কে তোমাদেরকে হেফাযত করবে রাত্রে ও দিনে। বরং তারা তাদের পালনকর্তার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখে।
Say: ”Who can guard and protect you in the night or in the day from the (punishment of the) Most Beneficent (Allâh)?” Nay, but they turn away from the remembrance of their Lord.
قُلْ مَن يَكْلَؤُكُم بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ مِنَ الرَّحْمَنِ بَلْ هُمْ عَن ذِكْرِ رَبِّهِم مُّعْرِضُونَ
Qul man yaklaokum biallayli waalnnahari mina alrrahmani bal hum AAan thikri rabbihim muAAridoona
YUSUFALI: Say: “Who can keep you safe by night and by day from (the Wrath of) (Allah) Most Gracious?” Yet they turn away from the mention of their Lord.
PICKTHAL: Say: Who guardeth you in the night or in the day from the Beneficent? Nay, but they turn away from mention of their Lord!
SHAKIR: Say: Who guards you by night and by day from the Beneficent Allah? Nay, they turn aside at the mention of their Lord.
KHALIFA: Say, “Who can protect you from the Most Gracious during the night or during the day?” Indeed, they are totally oblivious to the message of their Lord.
৪২। বল, ” পরম করুনাময় [আল্লাহ্র ক্রোধ ] থেকে রাত্রিতে ও দিনে কে তোমাদের রক্ষা করবে ” ২৭০২। তথাপি তারা তাদের প্রভুর উল্লেখে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
২৭০২। আল্লাহ্ রাহ্মানুর রহীম। তাঁর অপার করুণায় সারা বিশ্ব জাহান বিধৌত। তাঁর দয়া ও করুণা সত্বেও যদি কেউ তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে, তবে সারা বিশ্ব ভূবনে কে আছে যে তাকে আল্লাহ্র শাস্তি থেকে রক্ষা করবে ? আল্লাহ্র শাস্তি যে কোন মূহুর্তে নেমে আসতে পারে।
তবে কি আমি ব্যতীত তাদের এমন দেব-দেবী আছে যারা তাদেরকে রক্ষা করবে? তারা তো নিজেদেরই সাহায্য করতে সক্ষম নয় এবং তারা আমার মোকাবেলায় সাহায্যকারীও পাবে না।
Or have they âliha (gods) who can guard them from Us? They have no power to help themselves, nor can they be protected from Us (i.e. from Our Torment).
أَمْ لَهُمْ آلِهَةٌ تَمْنَعُهُم مِّن دُونِنَا لَا يَسْتَطِيعُونَ نَصْرَ أَنفُسِهِمْ وَلَا هُم مِّنَّا يُصْحَبُونَ
Am lahum alihatun tamnaAAuhum min doonina la yastateeAAoona nasra anfusihim wala hum minna yushaboona
YUSUFALI: Or have they gods that can guard them from Us? They have no power to aid themselves, nor can they be defended from Us.
PICKTHAL: Or have they gods who can shield them from Us? They cannot help themselves nor can they be defended from Us.
SHAKIR: Or, have they gods who can defend them against Us? They shall not be able to assist themselves, nor shall they be defended from Us.
KHALIFA: Do they have gods who can protect them from us? They cannot even help themselves. Nor can they accompany one another when they are summoned to face us.
৪৩। তাহলে তাদের দেব-দেবী কি তাদের আমার থেকে রক্ষা করতে পারবে ? তাদের নিজেদেরই সাহায্য করার ক্ষমতা নাই , আমার বিরুদ্ধে তারা আত্মরক্ষাও করতে পারে না।
৪৪। আমি এ সব লোককে এবং এদের পিতৃপুরুষদের এই জীবনে [ সমৃদ্ধি ] ভোগ সম্ভার দিয়েছিলাম যতক্ষণ না [সমৃদ্ধির ] সময়কাল তাদের জন্য দীর্ঘ হয়েছিলো ২৭০৪। ওরা কি দেখতে পাচ্ছে না যে আমি ওদের দেশের চারিদিক থেকে ওদের নিয়ন্ত্রণকে সঙ্কুচিত করে আনছি ? ২৭০৫। এর পরেও কি তারাই জয়ী হবে ?
২৭০৪। “Umr” অথবা “Umur” অর্থ আয়ু, প্রজন্ম, প্রর্যায়, সময়, জীবনকাল ইত্যাদি। ইংরেজী অনুবাদ হয়েছে “period” বা পর্যায় বা কাল অধিক উপযোগী হবে কারণ শব্দটি দ্বারা বহু প্রজন্মকে বোঝানো হয়েছে যেমন পিতা, ছেলে, তার ছেলে ইত্যাদি।
২৭০৫। ইসলামের প্রথম উন্মেষ ঘটে মক্কা নগরীতে। কিন্তু এর প্রচারের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, ইসলামের বিজয় শুরু হয় মক্কার দূরবর্তী স্থান থেকে। ধীরে ধীরে তা সামাজিক, ভৌগোলিক ও দেশের সীমারেখাকে অতিক্রম করে বিস্তৃতি লাভ করে। ফলে মক্কার কাফেরদের অধিকারের সীমানা ধীরে ধীরে সঙ্কুচিত হয়ে আসে। এ সবই ঘটে আল্লাহ্র হুকুমে। সামাজিক সীমারেখা বলতে বুঝানো হয়েছে যে, মক্কার অভ্যন্তরে যারা গরীব , নির্যাতিত , নিপীড়িত ও ক্রীতদাস তারা ইসলাম গ্রহণ করে। ভৌগলিক ও দেশের সীমারেখা নির্দ্দেশ করেছে ইসলামের প্রসার শুরু হয় মদিনা থেকে যা মক্কার কেন্দ্রবিন্দু থেকে বহু দূরে। ধীরে ধীরে ইসলাম মদিনার সীমান্ত অতিক্রম করে বিস্তৃতি লাভ করে। কোরেশরাই হচ্ছে সর্বশেষে যারা ইসলাম গ্রহণ করে। সম্পূর্ণ ঘটনাটিকে এ ভাবে প্রকাশ করা হয়েছে, “আমি ওদের দেশকে চর্তুদ্দিক হতে সঙ্কুচিত করে আনছি।” বৃত্তকে ধীরে ধীরে ছোট করে যেভাবে কেন্দ্রের দিকে একটি বিন্দুতে নিয়ে আসা যায় ঠিক সেভাবে কাফেরদের পরিধিকে ধীরে ধীরে সংকুচিত করে আনা হয়েছে। আয়াতটি যদিও ইসলামের প্রচার ও বিজয়কে তুলে ধরা হয়েছে কিন্তু এর আবেদন সার্বজনীন – যুগ কাল অতিক্রান্ত। যুগে যুগে আল্লাহ্র বাণী সর্ব প্রথম গরীব এবং সমাজের নিম্নে অবস্থানকারীদের মধ্যে প্রসার লাভ করবে। কারণ তাদের হৃদয় ঐশ্বর্য এবং ক্ষমতার প্রভাবে কলুষিত হয়ে যায় নাই। সম্পদ ও ক্ষমতা মানুষের অন্তরে উদ্ধত অহংকারের জন্ম দেয়। ফলে মিথ্যাকে মহিমান্বিত করে দেখার প্রবণতা জন্মে। কিন্তু তাদের অবস্থান স্থায়ী হয় না।
বরং আমি তাদেরকে এবং তাদের বাপ-দাদাকে ভোগসম্বার দিয়েছিলাম, এমনকি তাদের আয়ুস্কালও দীর্ঘ হয়েছিল। তারা কি দেখে না যে, আমি তাদের দেশকে চতুর্দিক থেকে হ্রাস করে আনছি। এরপরও কি তারা বিজয়ী হবে?
Nay, We gave the luxuries of this life to these men and their fathers until the period grew long for them. See they not that We gradually reduce the land (in their control) from its outlying borders? Is it then they who will overcome.
بَلْ مَتَّعْنَا هَؤُلَاء وَآبَاءهُمْ حَتَّى طَالَ عَلَيْهِمُ الْعُمُرُ أَفَلَا يَرَوْنَ أَنَّا نَأْتِي الْأَرْضَ نَنقُصُهَا مِنْ أَطْرَافِهَا أَفَهُمُ الْغَالِبُونَ
Bal mattaAAna haola-i waabaahum hatta tala AAalayhimu alAAumuru afala yarawna anna na/tee al-arda nanqusuha min atrafiha afahumu alghaliboona
YUSUFALI: Nay, We gave the good things of this life to these men and their fathers until the period grew long for them; See they not that We gradually reduce the land (in their control) from its outlying borders? Is it then they who will win?
PICKTHAL: Nay, but We gave these and their fathers ease until life grew long for them. See they not how we aim to the land, reducing it of its outlying parts? Can they then be the victors?
SHAKIR: Nay, We gave provision to these and their fathers until life was prolonged to them. Do they not then see that We are visiting the land, curtailing it of its sides? Shall they then prevail?
KHALIFA: We have provided for these people and their ancestors, up until an old age. Do they not see that every day on earth brings them closer to the end? Can they reverse this process?
৪৩। তাহলে তাদের দেব-দেবী কি তাদের আমার থেকে রক্ষা করতে পারবে ? তাদের নিজেদেরই সাহায্য করার ক্ষমতা নাই , আমার বিরুদ্ধে তারা আত্মরক্ষাও করতে পারে না।
৪৪। আমি এ সব লোককে এবং এদের পিতৃপুরুষদের এই জীবনে [ সমৃদ্ধি ] ভোগ সম্ভার দিয়েছিলাম যতক্ষণ না [সমৃদ্ধির ] সময়কাল তাদের জন্য দীর্ঘ হয়েছিলো ২৭০৪। ওরা কি দেখতে পাচ্ছে না যে আমি ওদের দেশের চারিদিক থেকে ওদের নিয়ন্ত্রণকে সঙ্কুচিত করে আনছি ? ২৭০৫। এর পরেও কি তারাই জয়ী হবে ?
২৭০৪। “Umr” অথবা “Umur” অর্থ আয়ু, প্রজন্ম, প্রর্যায়, সময়, জীবনকাল ইত্যাদি। ইংরেজী অনুবাদ হয়েছে “period” বা পর্যায় বা কাল অধিক উপযোগী হবে কারণ শব্দটি দ্বারা বহু প্রজন্মকে বোঝানো হয়েছে যেমন পিতা, ছেলে, তার ছেলে ইত্যাদি।
২৭০৫। ইসলামের প্রথম উন্মেষ ঘটে মক্কা নগরীতে। কিন্তু এর প্রচারের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, ইসলামের বিজয় শুরু হয় মক্কার দূরবর্তী স্থান থেকে। ধীরে ধীরে তা সামাজিক, ভৌগোলিক ও দেশের সীমারেখাকে অতিক্রম করে বিস্তৃতি লাভ করে। ফলে মক্কার কাফেরদের অধিকারের সীমানা ধীরে ধীরে সঙ্কুচিত হয়ে আসে। এ সবই ঘটে আল্লাহ্র হুকুমে। সামাজিক সীমারেখা বলতে বুঝানো হয়েছে যে, মক্কার অভ্যন্তরে যারা গরীব , নির্যাতিত , নিপীড়িত ও ক্রীতদাস তারা ইসলাম গ্রহণ করে। ভৌগলিক ও দেশের সীমারেখা নির্দ্দেশ করেছে ইসলামের প্রসার শুরু হয় মদিনা থেকে যা মক্কার কেন্দ্রবিন্দু থেকে বহু দূরে। ধীরে ধীরে ইসলাম মদিনার সীমান্ত অতিক্রম করে বিস্তৃতি লাভ করে। কোরেশরাই হচ্ছে সর্বশেষে যারা ইসলাম গ্রহণ করে। সম্পূর্ণ ঘটনাটিকে এ ভাবে প্রকাশ করা হয়েছে, “আমি ওদের দেশকে চর্তুদ্দিক হতে সঙ্কুচিত করে আনছি।” বৃত্তকে ধীরে ধীরে ছোট করে যেভাবে কেন্দ্রের দিকে একটি বিন্দুতে নিয়ে আসা যায় ঠিক সেভাবে কাফেরদের পরিধিকে ধীরে ধীরে সংকুচিত করে আনা হয়েছে। আয়াতটি যদিও ইসলামের প্রচার ও বিজয়কে তুলে ধরা হয়েছে কিন্তু এর আবেদন সার্বজনীন – যুগ কাল অতিক্রান্ত। যুগে যুগে আল্লাহ্র বাণী সর্ব প্রথম গরীব এবং সমাজের নিম্নে অবস্থানকারীদের মধ্যে প্রসার লাভ করবে। কারণ তাদের হৃদয় ঐশ্বর্য এবং ক্ষমতার প্রভাবে কলুষিত হয়ে যায় নাই। সম্পদ ও ক্ষমতা মানুষের অন্তরে উদ্ধত অহংকারের জন্ম দেয়। ফলে মিথ্যাকে মহিমান্বিত করে দেখার প্রবণতা জন্মে। কিন্তু তাদের অবস্থান স্থায়ী হয় না।
বলুনঃ আমি তো কেবল ওহীর মাধ্যমেই তোমাদেরকে সতর্ক করি, কিন্তু বধিরদেরকে যখন সতর্ক করা হয়, তখন তারা সে সতর্কবাণী শোনে না।
Say (O Muhammad SAW): ”I warn you only by the revelation (from Allâh and not by the opinion of the religious scholars and others). But the deaf (who follow the religious scholars and others blindly) will not hear the call, (even) when they are warned [(i.e. one should follow only the Qur’ân and the Sunnah (legal ways, orders, acts of worship, statements of Prophet Muhammad SAW , as the Companions of the Prophet SAW did)].
قُلْ إِنَّمَا أُنذِرُكُم بِالْوَحْيِ وَلَا يَسْمَعُ الصُّمُّ الدُّعَاء إِذَا مَا يُنذَرُونَ
Qul innama onthirukum bialwahyi wala yasmaAAu alssummu aldduAAaa itha ma yuntharoona
YUSUFALI: Say, “I do but warn you according to revelation”: But the deaf will not hear the call, (even) when they are warned!
PICKTHAL: Say (O Muhammad, unto mankind): I warn you only by the Inspiration. But the deaf hear not the call when they are warned.
SHAKIR: Say: I warn you only by revelation; and the deaf do not hear the call whenever they are warned.
KHALIFA: Say, “I am warning you in accordance with divine inspiration.” However, the deaf cannot hear the call, when they are warned.
৪৫। বল, ” আমি তো কেবল প্রত্যাদেশ অনুযায়ী সর্তক করে থাকি।” কিন্তু বধির তো ডাক শুনতে পারবে না যখন তাদের সর্তক করা হবে ২৭০৬।
২৭০৬। যে জেগে জেগে ঘুমায় তাকে যেমন জাগানো যায় না, সেরূপ যে শুনতে চায় না তার অন্তরে কিছু প্রবেশ করে না। তাকে কিছু শোনানো যায় না। ব্যক্তির যখন এরূপ অবস্থা প্রাপ্ত হয় সেই অবস্থাকেই এখানে বধিরতার সাথে তুলনা করা হয়েছে। যখন কেউ আল্লাহ্র করুণাময় আহ্বানকে ইচ্ছাকৃত ভাবে প্রত্যাখান করে, শ্রবণশক্তিকে বধির করে দেয়, তখন তার সেই কাজের দায়-দায়িত্ব ও পরিণতি তার নিজের। এ সব অবিমৃষ্যকারী কাপুরুষদের শেষ আচরণ পরবর্তী আয়াতে তুলে ধরা হয়েছে। যখন আল্লাহ্র শাস্তি তাদের স্পর্শ করবে।
আপনার পালনকর্তার আযাবের কিছুমাত্রও তাদেরকে স্পর্শ করলে তারা বলতে থাকবে, হায় আমাদের দুর্ভাগ্য, আমরা অবশ্যই পাপী ছিলাম।
And if a breath (minor calamity) of the Torment of your Lord touches them, they will surely cry: ”Woe unto us! Indeed we have been Zâlimûn (polytheists and wrong-doers, etc.).
وَلَئِن مَّسَّتْهُمْ نَفْحَةٌ مِّنْ عَذَابِ رَبِّكَ لَيَقُولُنَّ يَا وَيْلَنَا إِنَّا كُنَّا ظَالِمِينَ
Wala-in massat-hum nafhatun min AAathabi rabbika layaqoolunna ya waylana inna kunna thalimeena
YUSUFALI: If but a breath of the Wrath of thy Lord do touch them, they will then say, “Woe to us! we did wrong indeed!”
PICKTHAL: And if a breath of thy Lord’s punishment were to touch them, they assuredly would say: Alas for us! Lo! we were wrong-doers.
SHAKIR: And if a blast of the chastisement of your Lord were to touch them, they will certainly say: O woe to us! surely we were unjust.
KHALIFA: When a sample of your Lord’s retribution afflicts them, they readily say, “We were indeed wicked.”
৪৬। যদি তোমার প্রভুর ক্রোধের সামান্য নিঃশ্বাসও তাদের স্পর্শ করে, তারা তখন বলে উঠবে, ” দুর্ভাগ্য আমাদের! প্রকৃতই আমরা পাপী।”
৪৭। শেষ বিচারের দিনে আমি ন্যায়ের মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা করবো, যেনো কোন আত্মার প্রতি সামান্য পরিমাণ অন্যায়ও করা না হয়। [ কর্ম ] যদি সরিষার দানা পরিমাণও হয়, তবুও আমি তা [ হিসাবের জন্য ] উপস্থিত করবো ২৭০৭। এবং হিসাব গ্রহণে আমিই যথেষ্ট ২৭০৮।
২৭০৭। শুধু আমদের জীবনই নয়, সারা বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের সকল কিছুর হিসাব আল্লাহ্র নখদর্পনে। অতিক্ষুদ্র জিনিষও তাঁর অজ্ঞাত নয়। মহাকালের গর্ভে কিছুই হারিয়ে যায় না।
২৭০৮। ” হিসাব গ্রহণকারীরূপে আমিই যথেষ্ট।” এই বাক্যটির মাধ্যমে আল্লাহ্র ক্ষমতাকে প্রকাশ করা হয়েছে। আল্লাহ্র হিসাব নির্ভুল , এই হিসাব গ্রহণের জন্য তাঁর কোন সাহায্যকারীর প্রয়োজন হয় না। এই হিসাব গ্রহণ সম্পূর্ণ নিখুঁত ও নির্ভুল। পৃথিবীর মানুষের হিসাব নিকাশের জন্য বহু ব্যক্তি ,কাগজপত্র, সাহায্য-সহযোগিতার সাহায্য গ্রহণ প্রয়োজন। কারণ তার জ্ঞান সীমাবদ্ধ। যা সে বুঝতে পারে না, তার জন্য অন্যের সাহায্য সহযোগীতার প্রয়োজন হয়। আল্লাহ্ অসীম ক্ষমতার অধিকারী। তাঁর অগোচরে বিশ্বচরাচরের কোনও ঘটনাই ঘটা সম্ভব নয়। এমন কি মানুষের অন্তরের লুক্কায়িত চিন্তা ভাবনাও আল্লাহ্র নিকট দিবালোকের ন্যায় ভাস্বর। তাঁর বিচার হচ্ছে সর্বোচ্চ ন্যায় এবং নির্ভুল এবং সম্পূর্ণ। কারণ দৃশ্য -অদৃশ্য , স্পষ্ট -অস্পষ্ট, ভিতর – বাহির , মানুষের চরিত্রের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অনুভূতি কর্মের উদ্দেশ্য বা নিয়ত সবই আল্লাহ্র নিকট দিবালোকের ন্যায় ভাস্বর। আল্লাহ্র অগোচর কিছুই নাই। তিনি সব কিছুরই হিসাব গ্রহণে তৎপর। এই আয়াতটিকে [ ২১ : ৪৭ ] আয়াতের [ ১৮: ১০৪ – ১০৫ ] সাথে তুলনীয়। আয়াত [ ১৮ : ১০৪ – ১০৫ ] এ উল্লেখ করা হয়েছে যে, মানুষের সকল কর্মই আল্লাহ্র উদ্দেশ্যে নিবেদিত হয় না। মোনাফেকদের সকল সৎকর্মই হয় লোক দেখানো, এবং আত্মগর্ব ও আত্ম প্রশংসার উদ্দেশ্যে। এসব কাজ আল্লাহ্র চোখে অর্থহীন, মূল্যহীন। এই আয়াতে [ ৪৭ ] বলা হয়েছে ” আল্লাহ্ হিসাব গ্রহণে যথেষ্ট।” দুইটি আয়াতের মধ্যে সামঞ্জস্য বিদ্যমান , আল্লাহ্র বিচার ন্যায়বিচার কারণ সেখানে দৃশ্য – অদৃশ্য সকল কিছুরই মূল্যায়ন ঘটে।
আমি কেয়ামতের দিন ন্যায়বিচারের মানদন্ড স্থাপন করব। সুতরাং কারও প্রতি জুলুম হবে না। যদি কোন আমল সরিষার দানা পরিমাণও হয়, আমি তা উপস্থিত করব এবং হিসাব গ্রহণের জন্যে আমিই যথেষ্ট।
And We shall set up balances of justice on the Day of Resurrection, then none will be dealt with unjustly in anything. And if there be the weight of a mustard seed, We will bring it. And Sufficient are We as Reckoners.
وَنَضَعُ الْمَوَازِينَ الْقِسْطَ لِيَوْمِ الْقِيَامَةِ فَلَا تُظْلَمُ نَفْسٌ شَيْئًا وَإِن كَانَ مِثْقَالَ حَبَّةٍ مِّنْ خَرْدَلٍ أَتَيْنَا بِهَا وَكَفَى بِنَا حَاسِبِينَ
WanadaAAu almawazeena alqista liyawmi alqiyamati fala tuthlamu nafsun shay-an wa-in kana mithqala habbatin min khardalin atayna biha wakafa bina hasibeena
YUSUFALI: We shall set up scales of justice for the Day of Judgment, so that not a soul will be dealt with unjustly in the least, and if there be (no more than) the weight of a mustard seed, We will bring it (to account): and enough are We to take account.
PICKTHAL: And We set a just balance for the Day of Resurrection so that no soul is wronged in aught. Though it be of the weight of a grain of mustard seed, We bring it. And We suffice for reckoners.
SHAKIR: And We will set up a just balance on the day of resurrection, so no soul shall be dealt with unjustly in the least; and though there be the weight of a grain of mustard seed, (yet) will We bring it, and sufficient are We to take account.
KHALIFA: We will establish the scales of justice on the Day of Resurrection. No soul will suffer the least injustice. Even the equivalent of a mustard seed will be accounted for. We are the most efficient reckoners.
৪৬। যদি তোমার প্রভুর ক্রোধের সামান্য নিঃশ্বাসও তাদের স্পর্শ করে, তারা তখন বলে উঠবে, ” দুর্ভাগ্য আমাদের! প্রকৃতই আমরা পাপী।”
৪৭। শেষ বিচারের দিনে আমি ন্যায়ের মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা করবো, যেনো কোন আত্মার প্রতি সামান্য পরিমাণ অন্যায়ও করা না হয়। [ কর্ম ] যদি সরিষার দানা পরিমাণও হয়, তবুও আমি তা [ হিসাবের জন্য ] উপস্থিত করবো ২৭০৭। এবং হিসাব গ্রহণে আমিই যথেষ্ট ২৭০৮।
২৭০৭। শুধু আমদের জীবনই নয়, সারা বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের সকল কিছুর হিসাব আল্লাহ্র নখদর্পনে। অতিক্ষুদ্র জিনিষও তাঁর অজ্ঞাত নয়। মহাকালের গর্ভে কিছুই হারিয়ে যায় না।
২৭০৮। ” হিসাব গ্রহণকারীরূপে আমিই যথেষ্ট।” এই বাক্যটির মাধ্যমে আল্লাহ্র ক্ষমতাকে প্রকাশ করা হয়েছে। আল্লাহ্র হিসাব নির্ভুল , এই হিসাব গ্রহণের জন্য তাঁর কোন সাহায্যকারীর প্রয়োজন হয় না। এই হিসাব গ্রহণ সম্পূর্ণ নিখুঁত ও নির্ভুল। পৃথিবীর মানুষের হিসাব নিকাশের জন্য বহু ব্যক্তি ,কাগজপত্র, সাহায্য-সহযোগিতার সাহায্য গ্রহণ প্রয়োজন। কারণ তার জ্ঞান সীমাবদ্ধ। যা সে বুঝতে পারে না, তার জন্য অন্যের সাহায্য সহযোগীতার প্রয়োজন হয়। আল্লাহ্ অসীম ক্ষমতার অধিকারী। তাঁর অগোচরে বিশ্বচরাচরের কোনও ঘটনাই ঘটা সম্ভব নয়। এমন কি মানুষের অন্তরের লুক্কায়িত চিন্তা ভাবনাও আল্লাহ্র নিকট দিবালোকের ন্যায় ভাস্বর। তাঁর বিচার হচ্ছে সর্বোচ্চ ন্যায় এবং নির্ভুল এবং সম্পূর্ণ। কারণ দৃশ্য -অদৃশ্য , স্পষ্ট -অস্পষ্ট, ভিতর – বাহির , মানুষের চরিত্রের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অনুভূতি কর্মের উদ্দেশ্য বা নিয়ত সবই আল্লাহ্র নিকট দিবালোকের ন্যায় ভাস্বর। আল্লাহ্র অগোচর কিছুই নাই। তিনি সব কিছুরই হিসাব গ্রহণে তৎপর। এই আয়াতটিকে [ ২১ : ৪৭ ] আয়াতের [ ১৮: ১০৪ – ১০৫ ] সাথে তুলনীয়। আয়াত [ ১৮ : ১০৪ – ১০৫ ] এ উল্লেখ করা হয়েছে যে, মানুষের সকল কর্মই আল্লাহ্র উদ্দেশ্যে নিবেদিত হয় না। মোনাফেকদের সকল সৎকর্মই হয় লোক দেখানো, এবং আত্মগর্ব ও আত্ম প্রশংসার উদ্দেশ্যে। এসব কাজ আল্লাহ্র চোখে অর্থহীন, মূল্যহীন। এই আয়াতে [ ৪৭ ] বলা হয়েছে ” আল্লাহ্ হিসাব গ্রহণে যথেষ্ট।” দুইটি আয়াতের মধ্যে সামঞ্জস্য বিদ্যমান , আল্লাহ্র বিচার ন্যায়বিচার কারণ সেখানে দৃশ্য – অদৃশ্য সকল কিছুরই মূল্যায়ন ঘটে।
আমি মূসা ও হারুণকে দান করেছিলাম মীমাংসাকারী গ্রন্থ, আলো ও উপদেশ, আল্লাহ ভীরুদের জন্যে
And indeed We granted to Mûsa (Moses) and Hârûn (Aaron) the criterion (of right and wrong), and a shining light [i.e. the Taurât (Torah)] and a Reminder for Al-Muttaqûn (the pious – see V.2:2).
وَلَقَدْ آتَيْنَا مُوسَى وَهَارُونَ الْفُرْقَانَ وَضِيَاء وَذِكْرًا لِّلْمُتَّقِينَ
Walaqad atayna moosa waharoona alfurqana wadiyaan wathikran lilmuttaqeena

YUSUFALI: In the past We granted to Moses and Aaron the criterion (for judgment), and a Light and a Message for those who would do right,-
PICKTHAL: And We verily gave Moses and Aaron the Criterion (of right and wrong) and a light and a Reminder for those who keep from evil,
SHAKIR: And certainly We gave to Musa and Haroun the Furqan and a light and a reminder for those who would guard (against evil).
KHALIFA: We gave Moses and Aaron the Statute Book, a beacon, and a reminder for the righteous.
৪৮। অতীতে মুসা ও হারুণকে [ ন্যায় অন্যায় পার্থক্যকারী ] মানদণ্ড প্রদান করেছিলাম ২৭০৯ এবং [ জীবন পথের ] আলো ও উপদেশ [দিয়েছিলাম ] , তাদের জন্য যারা সৎ পথে চলে –
২৭০৯। দেখুন আয়াত [ ২ : ৫৩ ] এবং টিকা ৬৮ যেখানে ” ফুরকান ” শব্দটির ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এই আয়াতে তিনটি জিনিষের উল্লেখ আছে যা হযরত মুসা ও হারুনকে আল্লাহ্ দান করেনঃ ১) “ফুরকান ” – আল্লাহ্র নিদর্শন যা ন্যায় ও অন্যায়ের পার্থক্যকারী, সত্য – মিথ্যার মধ্যে পার্থক্যকারী. ভালো – মন্দের মধ্যে পার্থক্যকারী , ন্যায় – বিচারের মানদণ্ডস্বরূপ। ২) জ্যোতি – মানবাত্মারর জন্য আলো , অর্থাৎ প্রত্যাদেশের মাধ্যমে অন্ধকার থেকে আত্মাকে হেদায়েতের আলোতে নিয়ে আসা। ৩) উপদেশ অর্থাৎ তাওরাত গ্রন্থ যা আল্লাহ্ হযরত মুসাকে দান করেন, যা হারুন ও তার সহযোগীরা অনুসরণ করেন সাধারণ মানুষদের হেদায়েতের জন্য।
যারা না দেখেই তাদের পালনকর্তাকে ভয় করে এবং কেয়ামতের ভয়ে শঙ্কিত।
Those who fear their Lord without seeing Him, while they are afraid of the Hour.
الَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُم بِالْغَيْبِ وَهُم مِّنَ السَّاعَةِ مُشْفِقُونَ
Allatheena yakhshawna rabbahum bialghaybi wahum mina alssaAAati mushfiqoona
YUSUFALI: Those who fear their Lord in their most secret thoughts, and who hold the Hour (of Judgment) in awe.
PICKTHAL: Those who fear their Lord in secret and who dread the Hour (of doom).
SHAKIR: (For) those who fear their Lord in secret and they are fearful of the hour.
KHALIFA: The ones who reverence their Lord, even when alone in their privacy, and they worry about the Hour.
৪৯। যারা তাদের [ অন্তরের ] নিভৃত চিন্তাতেও আল্লাহকে ভয় পায় এবং শেষ বিচারের দিন সম্বন্ধে থাকে ভীত সন্ত্রস্ত ২৭১০।
২৭১০। লক্ষ্য করুন তিন ধরণের ভয়ের উল্লেখ আছে আয়াতে [ ২১ : ৪৮ – ৪৯ ] ‘মুত্তাকী’ অর্থাৎ যারা ‘তাকওয়া’ অবলম্বন করে। ‘তাকওয়া’ অর্থ আল্লাহ্ ভীতি তবে এই ভয় শাস্তির ভয় নয়। এই ভয় প্রিয়জনের মনে ব্যাথা দেওয়ার ভয়। এই ভয়ের উৎপত্তি আল্লাহ্র প্রতি তীব্র ভালোবাসা থেকে জন্ম। আল্লাহ্র নামে তাদের চোখ অশ্রুতে ভরে যায় আনন্দে , কৃতজ্ঞতায় ,ভালোবাসায়, এদের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে : এরা হলেন পূত পবিত্র চরিত্রের অধিকারী , ন্যায়ের পথে যারা ধ্বজাধারী। এরা হলেন সর্বোচ্চ। ২) “Khashyat” – যারা না দেখেও তার প্রতিপালককে ভয় পায়। এ সব লোক তাদের অন্তরে এই ধ্যান ধারণা রাখে যে তারা আল্লাহ্র সম্মুখে সর্বদা উপস্থিত। সুতারাং মহামান্য আল্লাহ্র ভয়ে তারা প্রকাশ্যে বা গোপনে যে কোনও সময়ে আল্লাহ্ কর্তৃক নিষিদ্ধ কাজ করতে ভয় পায়। তারা প্রাণপণে চেষ্টা করে আল্লাহ্ কর্তৃক নির্দ্দিষ্ট মানদণ্ড অনুযায়ী জীবনকে পরিচালিত করতে। এরাও পূণ্যাত্মা , তবে প্রথম শ্রেণীর অর্থাৎ ‘তাকওয়া’ অবলম্বনকারীদের নিম্নে এদের অবস্থান। ‘তাকওয়ার’ জন্ম আল্লাহ্র প্রতি ভালোবাসা থেকে অপর পক্ষে “Khashyat” এর জন্ম আল্লাহ্র প্রতি ভয় থেকে। আর এক ধরণের লোক আছেন যারা পরকালের শাস্তির ভয়ে [ Ishfaq ] পাপ থেকে বিরত থাকেন। এর ফলেও তারা মুত্তাকী অর্জন করেন, এরাও পূণ্যাত্মা বলে পরিগণিত তবে, তিন শ্রেণীর মধ্যে এদের অবস্থান সর্বনিম্নে। সম্ভবতঃ উপরের আয়াতে মানদণ্ড বা ফুরকান , জ্যোতি, ও উপদেশের কথা বলা হয়েছে এই তিন শ্রেণীর লোক তারই অনুরূপ।
এবং এটা একটা বরকতময় উপদেশ, যা আমি নাযিল করেছি। অতএব তোমরা কি একে অস্বীকার কর?
And this is a blessed Reminder (the Qur’ân) which We have sent down, will you then (dare to) deny it?
وَهَذَا ذِكْرٌ مُّبَارَكٌ أَنزَلْنَاهُ أَفَأَنتُمْ لَهُ مُنكِرُونَ
Wahatha thikrun mubarakun anzalnahu afaantum lahu munkiroona
YUSUFALI: And this is a blessed Message which We have sent down: will ye then reject it?
PICKTHAL: This is a blessed Reminder that we have revealed: Will ye then reject it?
SHAKIR: And this is a blessed Reminder which We have revealed; will you then deny it?
KHALIFA: This too is a blessed reminder that we sent down. Are you denying it?
৫০। এবং আমি এই কল্যাণময় উপদেশ প্রেরণ করেছি। তবুও কি তোমরা একে প্রত্যাখান করবে ? ২৭১১
২৭১১। হযরত মুহম্মদের [ সা ] কথা এখানে বলা হয়েছে। যিনি হযরত মুসা এবং তাঁর কিতাব অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ, তবুও কি তোমরা অস্বীকার কর ?
আর, আমি ইতিপূর্বে ইব্রাহীমকে তার সৎপন্থা দান করেছিলাম এবং আমি তার সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত ও ছিলাম।
And indeed We bestowed aforetime on Ibrâhim (Abraham) his (portion of) guidance, and We were Well-Acquainted with him (as to his Belief in the Oneness of Allâh, etc.).
وَلَقَدْ آتَيْنَا إِبْرَاهِيمَ رُشْدَهُ مِن قَبْلُ وَكُنَّا بِه عَالِمِينَ
Walaqad atayna ibraheema rushdahu min qablu wakunna bihi AAalimeena
YUSUFALI: We bestowed aforetime on Abraham his rectitude of conduct, and well were We acquainted with him.
PICKTHAL: And We verily gave Abraham of old his proper course, and We were Aware of him,
SHAKIR: And certainly We gave to Ibrahim his rectitude before, and We knew him fully well.
KHALIFA: Before that, we granted Abraham his guidance and understanding, for we were fully aware of him.
রুকু – ৫
৫১। পূর্বে আমি ইব্রাহিমকে ন্যায় – অন্যায়ের জ্ঞান দান করেছিলাম ২৭১২ এবং আমি তাঁর সম্বন্ধে সম্যক অবগত ছিলাম ২৭১৩।
২৭১২। “Rushd” সঠিক চারিত্রিক গুণাবলী, যা তাঁকে ‘হানিফ’ নামের উপযুক্ত করেছিলো। দেখুন আয়াত [ ২: ১৩৫ ] এবং অন্যান্য আয়াত।
২৭১৩। হযরত ইব্রাহীমের উপাধি ছিলো ” খলিল উল্লাহ্ ” [ ৪ : ১২৫ ] বা আল্লাহ্র বন্ধু।
যখন তিনি তাঁর পিতা ও তাঁর সম্প্রদায়কে বললেনঃ এই মূর্তিগুলো কী, যাদের তোমরা পূজারী হয়ে বসে আছ।
When he said to his father and his people: ”What are these images, to which you are devoted?”
إِذْ قَالَ لِأَبِيهِ وَقَوْمِهِ مَا هَذِهِ التَّمَاثِيلُ الَّتِي أَنتُمْ لَهَا عَاكِفُونَ
Ith qala li-abeehi waqawmihi ma hathihi alttamatheelu allatee antum laha AAakifoona
YUSUFALI: Behold! he said to his father and his people, “What are these images, to which ye are (so assiduously) devoted?”
PICKTHAL: When he said unto his father and his folk: What are these images unto which ye pay devotion?
SHAKIR: When he said to his father and his people: What are these images to whose worship you cleave?
KHALIFA: He said to his father and his people, “What are these statues to which you are devoting yourselves?”
৫২। স্মরণ কর ! সে তার পিতাকে এবং তার সম্প্রদায়কে বলেছিলো, ” এগুলি কিসের মূর্তি যার প্রতি তোমরা [ এতটা ] একাগ্র ভাবে নিবেদিত ? ” ২৭১৪
২৭১৪। হযরত ইব্রাহীমের উল্লেখ বহু সূরাতে আছে। সূরা [ ১৯ : ৪২ – ৪৯ ] আয়াতে হযরত ইব্রাহীমের সাথে তাঁর পিতার দ্বন্দের উল্লেখ আছে। যে আয়াতগুলির মাধ্যমে দেখানো হয়েছে যে, আল্লাহ্র প্রতি কর্তব্য কর্মে একজন খোদভীরু লোক কিভাবে তাঁর পিতার ন্যায় নিকটজন কাফেরের সাথে পারস্পরিক সম্পর্ক স্থাপন করবে। এই আয়াতে [ ২১ : ৫২ ] হযরত ইব্রাহীমের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে যে, কিভাবে একজন খোদাভীরু লোক খারাপ সম্প্রদায়ের সাথে ব্যবহার করবে এবং কাফের সম্প্রদায়কে পরাজিত করবে। ইব্রাহীমের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে যে কি ভাবে খোদভীরু বান্দা পাপের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে। শত অত্যাচার , এমন কি আগুনে নিক্ষেপের মত অত্যাচারেও খোদাভীরু বান্দারা আত্মপ্রত্যয়ী ও দৃঢ় থাকেন। ফলে আল্লাহ্র করুণা তাদের উপরে বর্ষিত হয়। তাদের উপরে নির্যাতনের আগুন তাদের জন্য শান্তিরূপে নেমে আসে।
তারা বললঃ আমরা আমাদের বাপ-দাদাকে এদের পুজা করতে দেখেছি।
They said:”We found our fathers worshipping them.”
قَالُوا وَجَدْنَا آبَاءنَا لَهَا عَابِدِينَ
Qaloo wajadna abaana laha AAabideena
YUSUFALI: They said, “We found our fathers worshipping them.”
PICKTHAL: They said: We found our fathers worshippers of them.
SHAKIR: They said: We found our fathers worshipping them.
KHALIFA: They said, “We found our parents worshiping them.”
৫৩। তারা বলেছিলো , ” আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের এদের পূঁজা করতে দেখেছি।”
৫৪। সে বলেছিলো , ” তোমরা এবং তোমাদের পিতৃপুরুষেরা অবশ্যই স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছ।”
৫৫। তারা বলেছিলো, “তুমি কি আমাদের নিকট সত্য এনেছ, না তুমি তাদের একজন যারা ঠাট্টা বিদ্রূপ করে ? ” ২৭১৫
২৭১৫। হযরত ইব্রাহীম জীবনকে বিবেচনা করতেন অত্যন্ত গুরুতররূপে, যেখানে তাঁর সম্প্রদায়ের নিকট জীবনের অর্থ ছিলো গুরুত্বহীন। তারা ধর্মের নামে শুধুমাত্র পূর্বপুরুষদের আনুষ্ঠানিকতাকেই সত্য বলে মনে করতো। যেহেতু হযরত ইব্রাহীম ছিলেন সত্যের পূজারী , সে কারণে তিনি তাঁর সম্প্রদায়ের দ্বারা লাঞ্ছিত হন। কিন্তু কোনও লাঞ্ছনাই তাঁকে ভীত করতে পারে নাই। তিনি ছিলেন সত্য পথের নির্ভিক সৈন্য ফলে আল্লাহ্ তাঁর জন্য বিজয় নির্ধারণ করেন।
তিনি বললেনঃ তোমরা প্রকাশ্য গোমরাহীতে আছ এবং তোমাদের বাপ-দাদারাও।
He said: ”Indeed you and your fathers have been in manifest error.”
قَالَ لَقَدْ كُنتُمْ أَنتُمْ وَآبَاؤُكُمْ فِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ
Qala laqad kuntum antum waabaokum fee dalalin mubeenin
YUSUFALI: He said, “Indeed ye have been in manifest error – ye and your fathers.”
PICKTHAL: He said: Verily ye and your fathers were in plain error.
SHAKIR: He said: Certainly you have been, (both) you and your fathers, in manifest error.
KHALIFA: He said, “Indeed, you and your parents have gone totally astray.”
৫৩। তারা বলেছিলো , ” আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের এদের পূঁজা করতে দেখেছি।”
৫৪। সে বলেছিলো , ” তোমরা এবং তোমাদের পিতৃপুরুষেরা অবশ্যই স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছ।”
৫৫। তারা বলেছিলো, “তুমি কি আমাদের নিকট সত্য এনেছ, না তুমি তাদের একজন যারা ঠাট্টা বিদ্রূপ করে ? ” ২৭১৫
২৭১৫। হযরত ইব্রাহীম জীবনকে বিবেচনা করতেন অত্যন্ত গুরুতররূপে, যেখানে তাঁর সম্প্রদায়ের নিকট জীবনের অর্থ ছিলো গুরুত্বহীন। তারা ধর্মের নামে শুধুমাত্র পূর্বপুরুষদের আনুষ্ঠানিকতাকেই সত্য বলে মনে করতো। যেহেতু হযরত ইব্রাহীম ছিলেন সত্যের পূজারী , সে কারণে তিনি তাঁর সম্প্রদায়ের দ্বারা লাঞ্ছিত হন। কিন্তু কোনও লাঞ্ছনাই তাঁকে ভীত করতে পারে নাই। তিনি ছিলেন সত্য পথের নির্ভিক সৈন্য ফলে আল্লাহ্ তাঁর জন্য বিজয় নির্ধারণ করেন।
তারা বললঃ তুমি কি আমাদের কাছে সত্যসহ আগমন করেছ, না তুমি কৌতুক করছ?
They said: ”Have you brought us the truth, or are you one of those who play about?”
قَالُوا أَجِئْتَنَا بِالْحَقِّ أَمْ أَنتَ مِنَ اللَّاعِبِينَ
Qaloo aji/tana bialhaqqi am anta mina allaAAibeena
YUSUFALI: They said, “Have you brought us the Truth, or are you one of those who jest?”
PICKTHAL: They said: Bringest thou unto us the truth, or art thou some jester?
SHAKIR: They said: Have you brought to us the truth, or are you one of the triflers?
KHALIFA: They said, “Are you telling us the truth, or are you playing?”
৫৩। তারা বলেছিলো , ” আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের এদের পূঁজা করতে দেখেছি।”
৫৪। সে বলেছিলো , ” তোমরা এবং তোমাদের পিতৃপুরুষেরা অবশ্যই স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছ।”
৫৫। তারা বলেছিলো, “তুমি কি আমাদের নিকট সত্য এনেছ, না তুমি তাদের একজন যারা ঠাট্টা বিদ্রূপ করে ? ” ২৭১৫
২৭১৫। হযরত ইব্রাহীম জীবনকে বিবেচনা করতেন অত্যন্ত গুরুতররূপে, যেখানে তাঁর সম্প্রদায়ের নিকট জীবনের অর্থ ছিলো গুরুত্বহীন। তারা ধর্মের নামে শুধুমাত্র পূর্বপুরুষদের আনুষ্ঠানিকতাকেই সত্য বলে মনে করতো। যেহেতু হযরত ইব্রাহীম ছিলেন সত্যের পূজারী , সে কারণে তিনি তাঁর সম্প্রদায়ের দ্বারা লাঞ্ছিত হন। কিন্তু কোনও লাঞ্ছনাই তাঁকে ভীত করতে পারে নাই। তিনি ছিলেন সত্য পথের নির্ভিক সৈন্য ফলে আল্লাহ্ তাঁর জন্য বিজয় নির্ধারণ করেন।
তিনি বললেনঃ না, তিনিই তোমাদের পালনকর্তা যিনি নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলের পালনকর্তা, যিনি এগুলো সৃষ্টি করেছেন; এবং আমি এই বিষয়েরই সাক্ষ্যদাতা।
He said: ”Nay, your Lord is the Lord of the heavens and the earth, Who created them and of that I am one of the witnesses.
قَالَ بَل رَّبُّكُمْ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ الَّذِي فَطَرَهُنَّ وَأَنَا عَلَى ذَلِكُم مِّنَ الشَّاهِدِينَ
Qala bal rabbukum rabbu alssamawati waal-ardi allathee fatarahunna waana AAala thalikum mina alshshahideena
YUSUFALI: He said, “Nay, your Lord is the Lord of the heavens and the earth, He Who created them (from nothing): and I am a witness to this (Truth).
PICKTHAL: He said: Nay, but your Lord is the Lord of the heavens and the earth, Who created them; and I am of those who testify unto that.
SHAKIR: He said: Nay! your Lord is the Lord of the heavens and the earth, Who brought them into existence, and I am of those who bear witness to this:
KHALIFA: He said, “Your only Lord is the Lord of the heavens and the earth, who created them. This is the testimony to which I bear witness.
৫৬। সে বলেছিলো, ” না, তোমাদের প্রভু তো আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর প্রভু, যিনি উহাদের [ শূন্য থেকে ] সৃষ্টি করেছেন। এবং আমি এই [ সত্যের ] একজন সাক্ষী।
৫৭। “আল্লাহ্র শপথ, তোমরা পিছন ফিরে চলে গেলে তোমাদের মূর্তিগুলি সম্বন্ধে আমার পরিকল্পনা আছে ২৭১৭। ”
২৭১৭। হযরত ইব্রাহীম তাঁর সম্প্রদায়ের নিকট মূর্তিপূঁজার অসারতা ও মূর্তিদের ক্ষমতাহীনতা প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তা গোপনে বা শঠতাপূর্ণ উপায়ে করতে চান নাই। সে কারণে তিনি বলেছিলেন যে, “তোমরা চলে গেলে তোমাদের মূর্তিগুলির সম্বন্ধে আমার পরিকল্পনা আছে ” এই বাক্য দ্বারা এই মনোভাবেরই প্রকাশ পায় যে মূর্তিগুলি তাঁর সম্প্রদায়ের লোকদের রক্ষণাবেক্ষনের দ্বারা নির্ভরশীল। তাদের অবর্তমানে হযরত ইব্রাহীম তাদের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। সম্ভবতঃ ইব্রাহীমের এই উক্তি তাঁর সম্প্রদায়ের লোকেরা হাল্কাভাবে গ্রহণ করে এবং তারা দেখতে চেয়েছিলো যে, দেখা যাক ইব্রাহীম কি করেন। তাদের ধারণারও বাইরে ছিলো যে তাদের বংশ পরম্পরায় পূজিত মূর্তির গায়ে হাত দিতে কেউ সাহস করবে। সুতারাং তারা ইব্রাহীমকে সেখানে রেখে যায়।
আল্লাহর কসম, যখন তোমরা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে চলে যাবে, তখন আমি তোমাদের মূর্তিগুলোর ব্যাপারে একটা ব্যবস্থা অবলম্বন করব।
”And by Allâh, I shall plot a plan (to destroy) your idols after you have gone away and turned your backs.”
وَتَاللَّهِ لَأَكِيدَنَّ أَصْنَامَكُم بَعْدَ أَن تُوَلُّوا مُدْبِرِينَ
WataAllahi laakeedanna asnamakum baAAda an tuwalloo mudbireena
YUSUFALI: “And by Allah, I have a plan for your idols – after ye go away and turn your backs”..
PICKTHAL: And, by Allah, I shall circumvent your idols after ye have gone away and turned your backs.
SHAKIR: And, by Allah! I will certainly do something against your idols after you go away, turning back.
KHALIFA: “I swear by GOD, I have a plan to deal with your statues, as soon as you leave.”
৫৬। সে বলেছিলো, ” না, তোমাদের প্রভু তো আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর প্রভু, যিনি উহাদের [ শূন্য থেকে ] সৃষ্টি করেছেন। এবং আমি এই [ সত্যের ] একজন সাক্ষী।
৫৭। “আল্লাহ্র শপথ, তোমরা পিছন ফিরে চলে গেলে তোমাদের মূর্তিগুলি সম্বন্ধে আমার পরিকল্পনা আছে ২৭১৭। ”
২৭১৭। হযরত ইব্রাহীম তাঁর সম্প্রদায়ের নিকট মূর্তিপূঁজার অসারতা ও মূর্তিদের ক্ষমতাহীনতা প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তা গোপনে বা শঠতাপূর্ণ উপায়ে করতে চান নাই। সে কারণে তিনি বলেছিলেন যে, “তোমরা চলে গেলে তোমাদের মূর্তিগুলির সম্বন্ধে আমার পরিকল্পনা আছে ” এই বাক্য দ্বারা এই মনোভাবেরই প্রকাশ পায় যে মূর্তিগুলি তাঁর সম্প্রদায়ের লোকদের রক্ষণাবেক্ষনের দ্বারা নির্ভরশীল। তাদের অবর্তমানে হযরত ইব্রাহীম তাদের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। সম্ভবতঃ ইব্রাহীমের এই উক্তি তাঁর সম্প্রদায়ের লোকেরা হাল্কাভাবে গ্রহণ করে এবং তারা দেখতে চেয়েছিলো যে, দেখা যাক ইব্রাহীম কি করেন। তাদের ধারণারও বাইরে ছিলো যে তাদের বংশ পরম্পরায় পূজিত মূর্তির গায়ে হাত দিতে কেউ সাহস করবে। সুতারাং তারা ইব্রাহীমকে সেখানে রেখে যায়।
অতঃপর তিনি সেগুলোকে চূর্ণ-বিচুর্ণ করে দিলেন ওদের প্রধানটি ব্যতীতঃ যাতে তারা তাঁর কাছে প্রত্যাবর্তন করে।
So he broke them to pieces, (all) except the biggest of them, that they might turn to it.
فَجَعَلَهُمْ جُذَاذًا إِلَّا كَبِيرًا لَّهُمْ لَعَلَّهُمْ إِلَيْهِ يَرْجِعُونَ
FajaAAalahum juthathan illa kabeeran lahum laAAallahum ilayhi yarjiAAoona
YUSUFALI: So he broke them to pieces, (all) but the biggest of them, that they might turn (and address themselves) to it.
PICKTHAL: Then he reduced them to fragments, all save the chief of them, that haply they might have recourse to it.
SHAKIR: So he broke them into pieces, except the chief of them, that haply they may return to it.
KHALIFA: He broke them into pieces, except for a big one, that they may refer to it.
৫৮। সুতারাং সবচেয়ে বড় মূর্তিটি বাদে অন্য মূর্তিগুলি সে টুকরো টুকরো করে ভেঙ্গে ফেললো , যেনো, [ জিজ্ঞাসা করার জন্য ] তারা উহার নিকট ফিরে আসতে পারে ২৭১৮।
২৭১৮। নিষ্প্রাণ ও ক্ষমতাহীন পাথর পূজা যে লজ্জাষ্কর এ কথা প্রমাণ করার জন্য হযরত ইব্রাহীম এক বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তিনি তাঁর সম্প্রদায়ের অনুপস্থিতিতে বড় মূর্তিটি ব্যতীত অন্য মূর্তিগুলি ভেঙ্গে চূর্ণবিচূর্ণ করলেন। দৃশ্যটি এমন যেনো প্রতীমারা নিজেরা মারামারি করেছে এবং বড় মূর্তিটি ছোট গুলিকে ধ্বংস করেছে। যদি সত্যি প্রতিমাদের ক্ষমতা থাকে তবে বড় মূর্তিটিকে তারা জিজ্ঞাসা করুক ঘটনাটি কি ঘটেছিলো। এই কার্য দ্বারা হযরত ইব্রাহীমের উদ্দেশ্য ছিলো তাদের দেখানো যে, তাদের উপাস্য মূর্তিগুলি পূঁজার যোগ্য নয়, এ জ্ঞান তাদের মাঝে ফিরে আসবে। এরপর তারা ইব্রাহীমের ধর্মের দিকে প্রত্যার্পন করবে।
তারা বললঃ আমাদের উপাস্যদের সাথে এরূপ ব্যবহার কে করল? সে তো নিশ্চয়ই কোন জালিম।
They said: ”Who has done this to our âliha (gods)? He must indeed be one of the wrong-doers.”
قَالُوا مَن فَعَلَ هَذَا بِآلِهَتِنَا إِنَّهُ لَمِنَ الظَّالِمِينَ
Qaloo man faAAala hatha bi-alihatina innahu lamina alththalimeena
YUSUFALI: They said, “Who has done this to our gods? He must indeed be some man of impiety!”
PICKTHAL: They said: Who hath done this to our gods? Surely it must be some evil-doer.
SHAKIR: They said: Who has done this to our gods? Most surely he is one of the unjust.
KHALIFA: They said, “Whoever did this to our gods is really a transgressor.”
৫৯। তারা বলেছিলো , ” আমাদের উপাস্যগুলির কে এ দশা করেছে ? অবশ্যই সে একজন নাস্তিক মানুষ।”
৬০। তারা বলেছিলো , ” একজন যুবককে উহাদের সম্বন্ধে বলতে শুনেছি। তার নাম ইব্রাহিম ২৭১৯। ”
২৭১৯। বিভিন্ন দলের লোক বিভিন্ন বক্তব্য প্রদান করতে লাগলো। যারা ইব্রাহীমের বক্তব্য [ ৫৭ ] শুনে নাই তারা বলতে লাগলো, ” কে এই কাজ করেছে ? ” জনতার মধ্যে থেকে ইব্রাহীমের নাম উচ্চারিত হয় ফলে এক মন্ত্রণা সভা গঠন করা হয় এবং ইব্রাহীমকে জবাবদিহির জন্য উপস্থিত করা হয়।
কতক লোকে বললঃ আমরা এক যুবককে তাদের সম্পর্কে বিরূপ আলোচনা করতে শুনেছি; তাকে ইব্রাহীম বলা হয়।
They said: ”We heard a young man talking (against) them who is called Ibrâhim (Abraham).”
قَالُوا سَمِعْنَا فَتًى يَذْكُرُهُمْ يُقَالُ لَهُ إِبْرَاهِيمُ
Qaloo samiAAna fatan yathkuruhum yuqalu lahu ibraheemu
YUSUFALI: They said, “We heard a youth talk of them: He is called Abraham.”
PICKTHAL: They said: We heard a youth make mention of them, who is called Abraham.
SHAKIR: They said: We heard a youth called Ibrahim speak of them.
KHALIFA: They said, “We heard a youth threaten them; he is called Abraham.”
৫৯। তারা বলেছিলো , ” আমাদের উপাস্যগুলির কে এ দশা করেছে ? অবশ্যই সে একজন নাস্তিক মানুষ।”
৬০। তারা বলেছিলো , ” একজন যুবককে উহাদের সম্বন্ধে বলতে শুনেছি। তার নাম ইব্রাহিম ২৭১৯। ”
২৭১৯। বিভিন্ন দলের লোক বিভিন্ন বক্তব্য প্রদান করতে লাগলো। যারা ইব্রাহীমের বক্তব্য [ ৫৭ ] শুনে নাই তারা বলতে লাগলো, ” কে এই কাজ করেছে ? ” জনতার মধ্যে থেকে ইব্রাহীমের নাম উচ্চারিত হয় ফলে এক মন্ত্রণা সভা গঠন করা হয় এবং ইব্রাহীমকে জবাবদিহির জন্য উপস্থিত করা হয়।
তারা বললঃ তাকে জনসমক্ষে উপস্থিত কর, যাতে তারা দেখে।
They said: ”Then bring him before the eyes of the people, that they may testify.”
قَالُوا فَأْتُوا بِهِ عَلَى أَعْيُنِ النَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَشْهَدُونَ
Qaloo fa/too bihi AAala aAAyuni alnnasi laAAallahum yashhadoona
YUSUFALI: They said, “Then bring him before the eyes of the people, that they may bear witness.”
PICKTHAL: They said: Then bring him (hither) before the people’s eyes that they may testify.
SHAKIR: Said they: Then bring him before the eyes of the people, perhaps they may bear witness.
KHALIFA: They said, “Bring him before the eyes of all the people, that they may bear witness.”
৬১। তারা বলেছিলো, ” তাহলে , তাকে লোক সম্মুখে উপস্থিত কর, যাতে তারা সাক্ষী থাকতে পারে।”
৬২। তারা বলেছিলো , ” হে ইব্রাহিম! তুমিই কি আমাদের দেবতাগুলির এই অবস্থা করেছ ? ” ২৭২০

২৭২০। মন্ত্রণা সভার সামনে ইব্রাহীমকে উপস্থিত করা হয় এবং তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জিজ্ঞাসা করা হয়। মূর্তি ভাঙ্গার ব্যাপারে কোনও গোপনীয়তা ছিলো না কারণ হযরত ইব্রাহীম প্রকাশ্যে প্রতীমা গুলির সম্বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেন। সুতারাং যারা তা শুনেছিলো তারা জনতার মাঝে ছিলো এবং তারাই সাক্ষ্য দিয়েছিলো। এবারে হযরত ইব্রাহীম তাদের ব্যঙ্গ করে বললেন যে, ” তোমরা আমাকে জিজ্ঞাসা কর কেন ? তোমাদের পাথরের প্রতীমাগুলিকে জিজ্ঞাসা কর না কেন ? এ কথা কি মনে হচ্ছে না যে ,এই বড় প্রতিমাটিই ঝগড়া করে ছোটগুলিকে ভেঙ্গে ফেলেছে ? যদি তারা তাদের উপাস্য প্রতীমাকে জিজ্ঞাসা না করে ,তাহলে এ কথাই প্রমাণিত হয় যে, প্রতীমাগুলির কথা বলার মত বুদ্ধিমত্তা বা ক্ষমতা নাই।” অবশ্য এই যুক্তির অবতারণা করা হয়েছে আয়াতে [ ২১ : ৬৪ – ৬৭ ]। লক্ষণীয় হচ্ছে যে, কাফেররা যখন তাঁর আল্লাহ্র প্রতি একাগ্রতা ব্যঙ্গ বিদ্রূপ করেছিলো , তাঁর প্রতিউত্তরে তিনি দাঁতভাঙ্গা জবাব দেন – যা তাঁর সত্যকে প্রচার ও প্রসারে সাহায্য করে।
তারা বললঃ হে ইব্রাহীম তুমিই কি আমাদের উপাস্যদের সাথে এরূপ ব্যবহার করেছ?
They said: ”Are you the one who has done this to our gods, O Ibrâhim (Abraham)?”
قَالُوا أَأَنتَ فَعَلْتَ هَذَا بِآلِهَتِنَا يَا إِبْرَاهِيمُ
Qaloo aanta faAAalta hatha bi-alihatina ya ibraheemu
YUSUFALI: They said, “Art thou the one that did this with our gods, O Abraham?”
PICKTHAL: They said: Is it thou who hast done this to our gods, O Abraham?
SHAKIR: They said: Have you done this to our gods, O Ibrahim?
KHALIFA: They said, “Did you do this to our gods, O Abraham?”
৬১। তারা বলেছিলো, ” তাহলে , তাকে লোক সম্মুখে উপস্থিত কর, যাতে তারা সাক্ষী থাকতে পারে।”
৬২। তারা বলেছিলো , ” হে ইব্রাহিম! তুমিই কি আমাদের দেবতাগুলির এই অবস্থা করেছ ? ” ২৭২০
২৭২০। মন্ত্রণা সভার সামনে ইব্রাহীমকে উপস্থিত করা হয় এবং তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জিজ্ঞাসা করা হয়। মূর্তি ভাঙ্গার ব্যাপারে কোনও গোপনীয়তা ছিলো না কারণ হযরত ইব্রাহীম প্রকাশ্যে প্রতীমা গুলির সম্বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেন। সুতারাং যারা তা শুনেছিলো তারা জনতার মাঝে ছিলো এবং তারাই সাক্ষ্য দিয়েছিলো। এবারে হযরত ইব্রাহীম তাদের ব্যঙ্গ করে বললেন যে, ” তোমরা আমাকে জিজ্ঞাসা কর কেন ? তোমাদের পাথরের প্রতীমাগুলিকে জিজ্ঞাসা কর না কেন ? এ কথা কি মনে হচ্ছে না যে ,এই বড় প্রতিমাটিই ঝগড়া করে ছোটগুলিকে ভেঙ্গে ফেলেছে ? যদি তারা তাদের উপাস্য প্রতীমাকে জিজ্ঞাসা না করে ,তাহলে এ কথাই প্রমাণিত হয় যে, প্রতীমাগুলির কথা বলার মত বুদ্ধিমত্তা বা ক্ষমতা নাই।” অবশ্য এই যুক্তির অবতারণা করা হয়েছে আয়াতে [ ২১ : ৬৪ – ৬৭ ]। লক্ষণীয় হচ্ছে যে, কাফেররা যখন তাঁর আল্লাহ্র প্রতি একাগ্রতা ব্যঙ্গ বিদ্রূপ করেছিলো , তাঁর প্রতিউত্তরে তিনি দাঁতভাঙ্গা জবাব দেন – যা তাঁর সত্যকে প্রচার ও প্রসারে সাহায্য করে।
তিনি বললেনঃ না এদের এই প্রধানই তো একাজ করেছে। অতএব তাদেরকে জিজ্ঞেস কর, যদি তারা কথা বলতে পারে।
[Ibrâhim (Abraham)] said: ”Nay, this one, the biggest of them (idols) did it. Ask them, if they can speak!”
قَالَ بَلْ فَعَلَهُ كَبِيرُهُمْ هَذَا فَاسْأَلُوهُمْ إِن كَانُوا يَنطِقُونَ
Qala bal faAAalahu kabeeruhum hatha fais-aloohum in kanoo yantiqoona
YUSUFALI: He said: “Nay, this was done by – this is their biggest one! ask them, if they can speak intelligently!”
PICKTHAL: He said: But this, their chief hath done it. So question them, if they can speak.
SHAKIR: He said: Surely (some doer) has done it; the chief of them is this, therefore ask them, if they can speak.
KHALIFA: He said, “It is that big one who did it. Go ask them, if they can speak.”
৬৩। সে বলেছিলো, ” বরং এদের প্রধান যে সে – ই এ কাজ করেছে। ওদের জিজ্ঞাসা কর, যদি তারা বুদ্ধিমানের মত উত্তর দিতে পারে।”
৬৪। সুতারাং তারা পরস্পরের দিকে ফিরে বললো, ” সত্যিই তো তোমরাই তো ভুল করেছ ” ২৭২১
২৭২১। ইব্রাহীমের নিষ্ঠুর ব্যঙ্গ বিদ্রূপ তাদের অন্তরে বিদ্ধ হতে থাকলো। এই বিদ্রূপের উত্তর তো তাদের জানা নাই। তাদের মধ্যে অনেকেরই ধারণা হলো যে, ইব্রাহীমের যুক্তির সারবত্তা আছে, সুতারাং তারা বললো যে, ইব্রাহীমের সাথে যুক্তি তর্ক করা বৃথা। দোষ তোমাদেরই , তোমরা মূর্তিগুলিকে অরক্ষিত অবস্থায় রেখেছ। সুতারাং তোমরাই তো সীমালংঘণকারী। লজ্জায় তাদের মস্তক অবনত হয়ে গেলো [২১ : ৬৫ ] এবং তারা ইব্রাহীমের ব্যঙ্গকে আক্ষরিক অর্থে ব্যাখ্যা করে তার প্রতিউত্তর দেয়ার জন্য প্রস্তুতি নিল। তারা বললো যে, ” তুমি তো জান প্রতীমারা কথা বলতে অক্ষম।” আর ঠিক এই উত্তরটাই হযরত ইব্রাহীম আশা করেছিলেন প্রতিমা পূজারীদের নিকট থেকে এর পরেই তিনি তার মূল আঘাতটি হানেন প্রতিমা পূজারীদের উপরে, দেখুন টিকা ২৭২৩ ও আয়াত [ ২১ : ৬৬ – ৬৭ ]।
অতঃপর মনে মনে চিন্তা করল এবং বললঃ লোক সকল; তোমরাই বে ইনসাফ।
So they turned to themselves and said: ”Verily, you are the Zâlimûn (polytheists and wrong-doers).”
فَرَجَعُوا إِلَى أَنفُسِهِمْ فَقَالُوا إِنَّكُمْ أَنتُمُ الظَّالِمُونَ
FarajaAAoo ila anfusihim faqaloo innakum antumu alththalimoona
YUSUFALI: So they turned to themselves and said, “Surely ye are the ones in the wrong!”
PICKTHAL: Then gathered they apart and said: Lo! ye yourselves are the wrong-doers.
SHAKIR: Then they turned to themselves and said: Surely you yourselves are the unjust;
KHALIFA: They were taken aback, and said to themselves, “Indeed, you are the ones who have been transgressing.”
৬৩। সে বলেছিলো, ” বরং এদের প্রধান যে সে – ই এ কাজ করেছে। ওদের জিজ্ঞাসা কর, যদি তারা বুদ্ধিমানের মত উত্তর দিতে পারে।”
৬৪। সুতারাং তারা পরস্পরের দিকে ফিরে বললো, ” সত্যিই তো তোমরাই তো ভুল করেছ ” ২৭২১
২৭২১। ইব্রাহীমের নিষ্ঠুর ব্যঙ্গ বিদ্রূপ তাদের অন্তরে বিদ্ধ হতে থাকলো। এই বিদ্রূপের উত্তর তো তাদের জানা নাই। তাদের মধ্যে অনেকেরই ধারণা হলো যে, ইব্রাহীমের যুক্তির সারবত্তা আছে, সুতারাং তারা বললো যে, ইব্রাহীমের সাথে যুক্তি তর্ক করা বৃথা। দোষ তোমাদেরই , তোমরা মূর্তিগুলিকে অরক্ষিত অবস্থায় রেখেছ। সুতারাং তোমরাই তো সীমালংঘণকারী। লজ্জায় তাদের মস্তক অবনত হয়ে গেলো [২১ : ৬৫ ] এবং তারা ইব্রাহীমের ব্যঙ্গকে আক্ষরিক অর্থে ব্যাখ্যা করে তার প্রতিউত্তর দেয়ার জন্য প্রস্তুতি নিল। তারা বললো যে, ” তুমি তো জান প্রতীমারা কথা বলতে অক্ষম।” আর ঠিক এই উত্তরটাই হযরত ইব্রাহীম আশা করেছিলেন প্রতিমা পূজারীদের নিকট থেকে এর পরেই তিনি তার মূল আঘাতটি হানেন প্রতিমা পূজারীদের উপরে, দেখুন টিকা ২৭২৩ ও আয়াত [ ২১ : ৬৬ – ৬৭ ]।
অতঃপর তারা ঝুঁকে গেল মস্তক নত করে, তুমি তো জান যে, এরা কথা বলে না
Then they turned to themselves (their first thought and said): ”Indeed you [Ibrâhim (Abraham)] know well that these (idols) speak not!”
ثُمَّ نُكِسُوا عَلَى رُؤُوسِهِمْ لَقَدْ عَلِمْتَ مَا هَؤُلَاء يَنطِقُونَ
Thumma nukisoo AAala ruoosihim laqad AAalimta ma haola-i yantiqoona
YUSUFALI: Then were they confounded with shame: (they said), “Thou knowest full well that these (idols) do not speak!”
PICKTHAL: And they were utterly confounded, and they said: Well thou knowest that these speak not.
SHAKIR: Then they were made to hang down their heads: Certainly you know that they do not speak.
KHALIFA: Yet, they reverted to their old ideas: “You know full well that these cannot speak.”
৬৫। ফলে লজ্জ্বায় তারা অপ্রতিভ হয়ে [ বললো ] , ” তুমি তো ভালো করেই জানো এই [ মূর্তিগুলো ] কথা বলে না।” ২৭২২
২৭২২। তারা লজ্জায় মাথা নত করেছিলো আক্ষরিক ভাবে অর্থ তাই দাড়ায়। তবে সে লজ্জা মূর্তি পূজার জন্য নয়। তারা যে ইব্রাহীমের কাছে যুক্তি তর্কে পরাভূত হয়েছে এই লজ্জায়। বিভিন্ন জন বিভিন্ন ভাবে এই আয়াতটির ব্যাখ্যা প্রদান করে থাকেন।
তিনি বললেনঃ তোমরা কি আল্লাহর পরিবর্তে এমন কিছুর এবাদত কর, যা তোমাদের কোন উপকার ও করতে পারে না এবং ক্ষতিও করতে পারে না ?
[Ibrâhim (Abraham)] said: ”Do you then worship besides Allâh, things that can neither profit you, nor harm you?
قَالَ أَفَتَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَنفَعُكُمْ شَيْئًا وَلَا يَضُرُّكُمْ
Qala afataAAbudoona min dooni Allahi ma la yanfaAAukum shay-an wala yadurrukum
YUSUFALI: (Abraham) said, “Do ye then worship, besides Allah, things that can neither be of any good to you nor do you harm?
PICKTHAL: He said: Worship ye then instead of Allah that which cannot profit you at all, nor harm you?
SHAKIR: He said: What! do you then serve besides Allah what brings you not any benefit at all, nor does it harm you?
KHALIFA: He said, “Do you then worship beside GOD what possesses no power to benefit you or harm you?
৬৬। [ ইব্রাহিম ] বলেছিলো , ” তবে কি তোমরা আল্লাহ্র পরিবর্তে এমন কিছুর এবাদত কর যা তোমাদের কোন উপকার বা ক্ষতি [ কিছুই ] করতে পারে না?
৬৭। ” ধিক্ তোমাদের এবং আল্লাহ্র পরিবর্তে যাদের এবাদত কর তাদের, তোমাদের কি কোন বিচারশক্তি নাই ? ” ২৭২৩
২৭২৩। যখন প্রতিমা পূজারীরা স্বীকার করলো যে প্রতিমারা কথা বলতে অক্ষম , তখনই মিথ্যা আরধ্যের উপাসকদের সত্যের আলোতে ফিরিয়ে আনার জন্য তিনি তার শেষ চেষ্টা করেন। “ধিক্ তোমাদের এবং আল্লাহ্র পরিবর্তে যাদের এবাদত কর তাদের ” এই বক্তব্যের পরে অপরপক্ষের কোন সদুত্তরই থাকতে পারে না সন্ত্রাস ব্যতীত। যুক্তি তর্কে হেরে যেয়ে তারা গায়ের জোরে জয়লাভের পন্থা হিসেবে গ্রহণ করে। ইব্রাহীমের সত্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণের প্রতি উত্তর ছিলো , ” তাকে পোড়াও।” কিন্তু তাদের সন্ত্রাসী কাজ ইব্রাহীমের কোনও ক্ষতিই করতে পারে নাই [ ২১ : ৭০ ]। ক্ষতি হয়েছিলো যারা সন্ত্রাসী করেছিলো তাদের।
উপদেশ : বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে আয়াতটির গুরুত্ব অসীম। মন্দ বা খারাপ যারা তারা কখনও সত্য বা ভালোকে সহ্য করতে পারবে না। তারা সর্বদা সন্ত্রাস দ্বারা ভালোকে দমন করতে প্রয়াস পাবে। হযরত ইব্রাহীমের মাধ্যমে আল্লাহ্ আমাদের এই শিক্ষাই দিয়েছেন , যা যুগে যুগে প্রযোজ্য ছিলো এবং এখনও প্রযোজ্য।
ধিক তোমাদের জন্যে এবং তোমরা আল্লাহ ব্যতীত যাদেরই এবাদত কর, ওদের জন্যে। তোমরা কি বোঝ না?
”Fie upon you, and upon that which you worship besides Allâh! Have you then no sense?”
أُفٍّ لَّكُمْ وَلِمَا تَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللَّهِ أَفَلَا تَعْقِلُونَ
Offin lakum walima taAAbudoona min dooni Allahi afala taAAqiloona
YUSUFALI: “Fie upon you, and upon the things that ye worship besides Allah! Have ye no sense?”..
PICKTHAL: Fie on you and all that ye worship instead of Allah! Have ye then no sense?
SHAKIR: Fie on you and on what you serve besides Allah; what! do you not then understand?
KHALIFA: “You have incurred shame by worshiping idols beside GOD. Do you not understand?”
৬৬। [ ইব্রাহিম ] বলেছিলো , ” তবে কি তোমরা আল্লাহ্র পরিবর্তে এমন কিছুর এবাদত কর যা তোমাদের কোন উপকার বা ক্ষতি [ কিছুই ] করতে পারে না?
৬৭। ” ধিক্ তোমাদের এবং আল্লাহ্র পরিবর্তে যাদের এবাদত কর তাদের, তোমাদের কি কোন বিচারশক্তি নাই ? ” ২৭২৩
২৭২৩। যখন প্রতিমা পূজারীরা স্বীকার করলো যে প্রতিমারা কথা বলতে অক্ষম , তখনই মিথ্যা আরধ্যের উপাসকদের সত্যের আলোতে ফিরিয়ে আনার জন্য তিনি তার শেষ চেষ্টা করেন। “ধিক্ তোমাদের এবং আল্লাহ্র পরিবর্তে যাদের এবাদত কর তাদের ” এই বক্তব্যের পরে অপরপক্ষের কোন সদুত্তরই থাকতে পারে না সন্ত্রাস ব্যতীত। যুক্তি তর্কে হেরে যেয়ে তারা গায়ের জোরে জয়লাভের পন্থা হিসেবে গ্রহণ করে। ইব্রাহীমের সত্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণের প্রতি উত্তর ছিলো , ” তাকে পোড়াও।” কিন্তু তাদের সন্ত্রাসী কাজ ইব্রাহীমের কোনও ক্ষতিই করতে পারে নাই [ ২১ : ৭০ ]। ক্ষতি হয়েছিলো যারা সন্ত্রাসী করেছিলো তাদের।
উপদেশ : বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে আয়াতটির গুরুত্ব অসীম। মন্দ বা খারাপ যারা তারা কখনও সত্য বা ভালোকে সহ্য করতে পারবে না। তারা সর্বদা সন্ত্রাস দ্বারা ভালোকে দমন করতে প্রয়াস পাবে। হযরত ইব্রাহীমের মাধ্যমে আল্লাহ্ আমাদের এই শিক্ষাই দিয়েছেন , যা যুগে যুগে প্রযোজ্য ছিলো এবং এখনও প্রযোজ্য।
তারা বললঃ একে পুড়িয়ে দাও এবং তোমাদের উপাস্যদের সাহায্য কর, যদি তোমরা কিছু করতে চাও।
They said: ”Burn him and help your âliha (gods), if you will be doing.”
قَالُوا حَرِّقُوهُ وَانصُرُوا آلِهَتَكُمْ إِن كُنتُمْ فَاعِلِينَ
Qaloo harriqoohu waonsuroo alihatakum in kuntum faAAileena
YUSUFALI: They said, “Burn him and protect your gods, If ye do (anything at all)!”
PICKTHAL: They cried: Burn him and stand by your gods, if ye will be doing.
SHAKIR: They said: Burn him and help your gods, if you are going to do (anything).
KHALIFA: They said, “Burn him and support your gods, if this is what you decide to do.”
৬৮। তারা বলেছিলো, ” তাকে পোড়াও এবং যদি তোমরা [ প্রকৃতই কিছু ] করতে চাও, তবে তোমাদের দেবতাদের রক্ষা কর। ”
৬৯। আমি বললাম, ” হে আগুন ২৭২৪। তুমি ইব্রাহিমের জন্য শীতল ও নিরাপত্তার [ কারণ ] হয়ে যাও” ২৭২৫।
২৭২৪। আগুনের ধর্মই হচ্ছে উত্তপ্ত হয়ে কোনও জিনিষকে পুড়িয়ে ফেলা। আল্লাহ্র হুকুমে সেই আগুন তার ধর্ম হারিয়ে শীতল হয়ে যায়।
২৭২৫। হযরত ইব্রাহীমকে কোথায় আগুনে নিক্ষেপ করা হয়েছিলো এবং কোথায় তাঁর জীবন প্রথম শুরু হয় সে সম্বন্ধে ধারণা করার প্রয়াস হোক। পারস্য উপসাগর থেকে একশত মাইল দূরে ইউফ্রেটিস নদীর নিম্ন অববাহিকায় চালদিসের [ Chaldees ] উর নামক স্থানে হযরত ইব্রাহীম জন্ম গ্রহণ করেন। এই স্থানটি হচ্ছে প্রাচীন মানব সভ্যতার ক্রোড়ভূমি বা আদি ভূমি। সেই প্রাচীন যুগেই তারা জ্যোতির্বিদ্যায় পারদর্শীতা লাভ করে। তারা সূর্য , চন্দ্র এবং তারার পূঁজা করতো ধর্ম হিসেবে। হযরত ইব্রাহীম জীবনের শুরুতেই এই মিথ্যা উপাস্যের বিরোধিতা করেন এবং তাঁর বক্তব্যকে তুলে ধরা হয়েছে সূরা [ ৬ : ৭৪ – ৮২ ] আয়াতে। ইব্রাহীমের সম্প্রদায় মন্দিরে পূঁজা করতো। সম্ভবতঃ মূর্তিগুলি স্বর্গীয় বস্তুর প্রতীক ছিলো। ইব্রাহীম যখন মূর্তিগুলি ভাঙ্গেন তখন তিনি ছিলেন একজন তরুণ মাত্র [ ২১ : ৬০ ]। এই ঘটনা ছিলো তাঁর জীবনের দ্বিতীয় অধ্যায়। এই ঘটনার পরে তাঁকে বিদ্রোহী বলে চিহ্নিত করা হয়। সম্ভবতঃ এই ঘটনার পরে কয়েক বৎসর অতিবাহিত হয় এবং তার পরে তাঁকে বিদ্রোহী হিসেবে আগুনে নিক্ষেপ করা হয় [ ২১ : ৬৮ – ৬৯ ]। ঐতিহ্যগত ভাবে যে রাজা ইব্রাহীমকে আগুনে নিক্ষেপ করেন তাকে নমরূদ নামে অভিহিত করা হয় , যার সম্পর্কে আছে [ ১১ : ৬৯ ] আয়াতের টিকা ১৫৬৫ তে। নমরূদের পরিচয় সম্বন্ধে জানা যায় যে, তার রাজধানী ছিলো নিনেভার [ বর্তমান ইরাকের মসুল নগরীর নিকট ] নিকটবর্তী আসেরিয়াতে [ Assyria ]। যদি তাই হয় তবে তার রাজত্ব সমগ্র মেসোপটেমিয়াতে বিস্তৃত ছিলো। কারণ হযরত ইব্রাহীমের জন্ম স্থান থেকে আসেরিয়ার দূরত্ব সমগ্র মেসোপটেমিয়ার মালভূমি। অথবা হযরত ইব্রাহীম বেবীলনের মধ্য দিয়ে উত্তরে পরিভ্রমণ করেন নমরূদের রাজধানী আসেরিয়া পর্যন্ত। হযরত ইব্রাহীমের বিরুদ্ধে শত্রুরা বহু পরিকল্পনা করে [ ২১ : ৭০ ] , কিন্তু আল্লাহ্র করুণা সর্বদা তাকে রক্ষা করেন। শেষ পর্যন্ত তিনি যখন যৌবন প্রাপ্ত হন, তিনি তাঁর পিতার সাথে সর্ম্পক ছেদ করেন। এই ঘটনার বর্ণনা আছে আয়াতে [ ১৯ : ৪১ – ৪৮ ]। তিনি তাঁর পূর্বপুরুষদের দেশ ত্যাগ করে বিদেশে যাত্রা করেন। এই যাত্রাতে তিনি সিরিয়ার মরুভূমিকে পবিহার করে, ক্যানানের [ Canaan ] দক্ষিণে আরাম [Aram ] নামক সিরিয়ার উর্বর স্থানে গমন করেন। এখানেই আয়াতের [ ১১ : ৬৯ – ৭৬ ] বর্ণিত ঘটনার সূত্রপাত হয়। সম্ভবতঃ এই ঘটনার কয়েক বৎসর পরে তিনি ইসমাঈল সহযোগে কাবা ঘর নির্মাণ করেন [ ২ : ১২৪ -১২৯ ]। এবং এ সময়ে তাঁর প্রার্থনার বিবরণ আছে আয়াতে [ ১৪ : ৩৫ – ৪১ ]। তাঁর মিশরে ভ্রমণের কথা অবশ্য কোরাণে উল্লেখ নাই। এর উল্লেখ আছে [ Gen xii 10] তে।
আমি বললামঃ হে অগ্নি, তুমি ইব্রাহীমের উপর শীতল ও নিরাপদ হয়ে যাও।
We (Allâh) said: ”O fire! Be you coolness and safety for Ibrâhim (Abraham)!”
قُلْنَا يَا نَارُ كُونِي بَرْدًا وَسَلَامًا عَلَى إِبْرَاهِيمَ
Qulna ya naru koonee bardan wasalaman AAala ibraheema
YUSUFALI: We said, “O Fire! be thou cool, and (a means of) safety for Abraham!”
PICKTHAL: We said: O fire, be coolness and peace for Abraham,
SHAKIR: We said: O fire! be a comfort and peace to Ibrahim;
KHALIFA: We said, “O fire, be cool and safe for Abraham.”
৬৮। তারা বলেছিলো, ” তাকে পোড়াও এবং যদি তোমরা [ প্রকৃতই কিছু ] করতে চাও, তবে তোমাদের দেবতাদের রক্ষা কর। ”
৬৯। আমি বললাম, ” হে আগুন ২৭২৪। তুমি ইব্রাহিমের জন্য শীতল ও নিরাপত্তার [ কারণ ] হয়ে যাও” ২৭২৫।
২৭২৪। আগুনের ধর্মই হচ্ছে উত্তপ্ত হয়ে কোনও জিনিষকে পুড়িয়ে ফেলা। আল্লাহ্র হুকুমে সেই আগুন তার ধর্ম হারিয়ে শীতল হয়ে যায়।
২৭২৫। হযরত ইব্রাহীমকে কোথায় আগুনে নিক্ষেপ করা হয়েছিলো এবং কোথায় তাঁর জীবন প্রথম শুরু হয় সে সম্বন্ধে ধারণা করার প্রয়াস হোক। পারস্য উপসাগর থেকে একশত মাইল দূরে ইউফ্রেটিস নদীর নিম্ন অববাহিকায় চালদিসের [ Chaldees ] উর নামক স্থানে হযরত ইব্রাহীম জন্ম গ্রহণ করেন। এই স্থানটি হচ্ছে প্রাচীন মানব সভ্যতার ক্রোড়ভূমি বা আদি ভূমি। সেই প্রাচীন যুগেই তারা জ্যোতির্বিদ্যায় পারদর্শীতা লাভ করে। তারা সূর্য , চন্দ্র এবং তারার পূঁজা করতো ধর্ম হিসেবে। হযরত ইব্রাহীম জীবনের শুরুতেই এই মিথ্যা উপাস্যের বিরোধিতা করেন এবং তাঁর বক্তব্যকে তুলে ধরা হয়েছে সূরা [ ৬ : ৭৪ – ৮২ ] আয়াতে। ইব্রাহীমের সম্প্রদায় মন্দিরে পূঁজা করতো। সম্ভবতঃ মূর্তিগুলি স্বর্গীয় বস্তুর প্রতীক ছিলো। ইব্রাহীম যখন মূর্তিগুলি ভাঙ্গেন তখন তিনি ছিলেন একজন তরুণ মাত্র [ ২১ : ৬০ ]। এই ঘটনা ছিলো তাঁর জীবনের দ্বিতীয় অধ্যায়। এই ঘটনার পরে তাঁকে বিদ্রোহী বলে চিহ্নিত করা হয়। সম্ভবতঃ এই ঘটনার পরে কয়েক বৎসর অতিবাহিত হয় এবং তার পরে তাঁকে বিদ্রোহী হিসেবে আগুনে নিক্ষেপ করা হয় [ ২১ : ৬৮ – ৬৯ ]। ঐতিহ্যগত ভাবে যে রাজা ইব্রাহীমকে আগুনে নিক্ষেপ করেন তাকে নমরূদ নামে অভিহিত করা হয় , যার সম্পর্কে আছে [ ১১ : ৬৯ ] আয়াতের টিকা ১৫৬৫ তে। নমরূদের পরিচয় সম্বন্ধে জানা যায় যে, তার রাজধানী ছিলো নিনেভার [ বর্তমান ইরাকের মসুল নগরীর নিকট ] নিকটবর্তী আসেরিয়াতে [ Assyria ]। যদি তাই হয় তবে তার রাজত্ব সমগ্র মেসোপটেমিয়াতে বিস্তৃত ছিলো। কারণ হযরত ইব্রাহীমের জন্ম স্থান থেকে আসেরিয়ার দূরত্ব সমগ্র মেসোপটেমিয়ার মালভূমি। অথবা হযরত ইব্রাহীম বেবীলনের মধ্য দিয়ে উত্তরে পরিভ্রমণ করেন নমরূদের রাজধানী আসেরিয়া পর্যন্ত। হযরত ইব্রাহীমের বিরুদ্ধে শত্রুরা বহু পরিকল্পনা করে [ ২১ : ৭০ ] , কিন্তু আল্লাহ্র করুণা সর্বদা তাকে রক্ষা করেন। শেষ পর্যন্ত তিনি যখন যৌবন প্রাপ্ত হন, তিনি তাঁর পিতার সাথে সর্ম্পক ছেদ করেন। এই ঘটনার বর্ণনা আছে আয়াতে [ ১৯ : ৪১ – ৪৮ ]। তিনি তাঁর পূর্বপুরুষদের দেশ ত্যাগ করে বিদেশে যাত্রা করেন। এই যাত্রাতে তিনি সিরিয়ার মরুভূমিকে পবিহার করে, ক্যানানের [ Canaan ] দক্ষিণে আরাম [Aram ] নামক সিরিয়ার উর্বর স্থানে গমন করেন। এখানেই আয়াতের [ ১১ : ৬৯ – ৭৬ ] বর্ণিত ঘটনার সূত্রপাত হয়। সম্ভবতঃ এই ঘটনার কয়েক বৎসর পরে তিনি ইসমাঈল সহযোগে কাবা ঘর নির্মাণ করেন [ ২ : ১২৪ -১২৯ ]। এবং এ সময়ে তাঁর প্রার্থনার বিবরণ আছে আয়াতে [ ১৪ : ৩৫ – ৪১ ]। তাঁর মিশরে ভ্রমণের কথা অবশ্য কোরাণে উল্লেখ নাই। এর উল্লেখ আছে [ Gen xii 10] তে।
তারা ইব্রাহীমের বিরুদ্ধে ফন্দি আঁটতে চাইল, অতঃপর আমি তাদেরকেই সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্থ করে দিলাম।
And they wanted to harm him, but We made them the worst losers.
وَأَرَادُوا بِهِ كَيْدًا فَجَعَلْنَاهُمُ الْأَخْسَرِينَ
Waaradoo bihi kaydan fajaAAalnahumu al-akhsareena
YUSUFALI: Then they sought a stratagem against him: but We made them the ones that lost most!
PICKTHAL: And they wished to set a snare for him, but We made them the greater losers.
SHAKIR: And they desired a war on him, but We made them the greatest losers.
KHALIFA: Thus, they schemed against him, but we made them the losers.
৭০। অতঃপর তারা তার বিরুদ্ধে প্রতারণা করার ফন্দি করেছিলো। কিন্তু আমি তাদেরই করেছিলাম সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্থ ২৭২৬।
২৭২৬। যখন শত্রুরা আগুনে নিক্ষেপ করেও তাঁকে হত্যা করতে পারলো না , তখন তারা ইব্রাহীমের বিরুদ্ধে গোপনে ষড়যন্ত্র শুরু করলো। কিন্তু আল্লাহ্র করুণায় তাদের সকল ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হলো। তাদের ষড়যন্ত্রে ইব্রাহীমের কোনও ক্ষতি হয় নাই। ক্ষতি যা তা ঐ ষড়যন্ত্রকারীদের। অপর পক্ষে , ইব্রাহীম ষড়যন্ত্রকারীদের ত্যাগ করে হিজরত করেন এবং সেখানে তিনি সমৃদ্ধি লাভ করেন এবং আল্লাহ্ তাঁকে নবী রসুলদের আদি পুরুষরূপে সম্মানিত করেন।
আমি তাঁকে ও লূতকে উদ্ধার করে সেই দেশে পৌঁছিয়ে দিলাম, যেখানে আমি বিশ্বের জন্যে কল্যাণ রেখেছি।
And We rescued him and Lout (Lot) to the land which We have blessed for the ’Alamîn (mankind and jinns).
وَنَجَّيْنَاهُ وَلُوطًا إِلَى الْأَرْضِ الَّتِي بَارَكْنَا فِيهَا لِلْعَالَمِينَ
Wanajjaynahu walootan ila al-ardi allatee barakna feeha lilAAalameena
YUSUFALI: But We delivered him and (his nephew) Lut (and directed them) to the land which We have blessed for the nations.
PICKTHAL: And We rescued him and Lot (and brought them) to the land which We have blessed for (all) peoples.
SHAKIR: And We delivered him as well as Lut (removing them) to the land which We had blessed for all people.
KHALIFA: We saved him, and we saved Lot, to the land that we blessed for all the people.
৭১। আমি তাঁকে এবং [ তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র ] লূতকে উদ্ধার করে নিয়ে গেলাম সেই দেশে যেখানে আমি কল্যাণ রেখেছি বিশ্ববাসীর জন্য ২৭২৭।
২৭২৭। ‘আরাম ‘ [Aram] বা সিরিয়া , অনেকেই বৃহৎ অর্থে ক্যানন বা প্যালেসষ্টাইনকে এর অন্তর্ভূক্ত করে থাকে। সিরিয়া একটি শষ্য শ্যামল জলসিঞ্চিত উর্বর ভূমি। এর এক পার্শ্বের সীমারেখাতে ভূমধ্যসাগর, যেখানে তায়ের [ Tyre ] এবং সিডন [ Sidon ] নামক দুটি বাণিজ্যিক শহর অবস্থিত। সিরিয়ার জনসাধারণ বিভিন্ন জাতির মিশ্রণ, কারণ সেই প্রাচীন যুগ থেকে বিভিন্ন শতাব্দীতে পশ্চিম এশিয়া , মিশর , প্রভৃতি দেশের বড় বড় নৃপতির রাজত্বে, আবার অপর দিকে ইউরোপের বাণিজ্যিক স্বার্থে এ স্থান যুগে যুগে ব্যবহৃত হয়েছে। তার ফলে বিভিন্ন জাতির সংমিশ্রণ ঘটেছে।
আমি তাকে দান করলাম ইসহাক ও পুরস্কার স্বরূপ দিলাম ইয়াকুব এবং প্রত্যেককেই সৎকর্ম পরায়ণ করলাম।
And We bestowed upon him Ishâque (Isaac), and (a grandson) Ya’qûb (Jacob). Each one We made righteous.
وَوَهَبْنَا لَهُ إِسْحَقَ وَيَعْقُوبَ نَافِلَةً وَكُلًّا جَعَلْنَا صَالِحِينَ
Wawahabna lahu ishaqa wayaAAqooba nafilatan wakullan jaAAalna saliheena
YUSUFALI: And We bestowed on him Isaac and, as an additional gift, (a grandson), Jacob, and We made righteous men of every one (of them).
PICKTHAL: And We bestowed upon him Isaac, and Jacob as a grandson. Each of them We made righteous.
SHAKIR: And We gave him Ishaq and Yaqoub, a son’s son, and We made (them) all good.
KHALIFA: And we granted him Isaac and Jacob as a gift, and we made them both righteous.
৭২। এবং আমি তাঁকে দান করেছিলাম ইসাহাককে এবং [ পৌত্র হিসেবে ] অতিরিক্ত উপহার ইয়াকুবকে। এবং [ তাদের ] প্রত্যেককে পূণ্যাত্মা করেছিলাম ২৭২৮।
২৭২৮। “Nafilat” এই শব্দটি বহু অর্থে ব্যবহৃত হয় : ১) লুঠের মাল ২) অতিরিক্ত কাজ বা প্রার্থনা , ৩) অতিরিক্ত বা উপহার , ৪) পৌত্র। এই আয়াতের জন্য শেষের দুটি অর্থ প্রযোজ্য। বৃদ্ধ বয়েসে ইব্রাহীমকে শুধুমাত্র একটিই পুত্র সন্তানই দান করা হয় নাই, শুধুমাত্র ইস্হাককেই আল্লাহ্র দান করেন নাই, তাকে এ ব্যতীত আরও পুত্র সন্তান দিয়েছিলেন। এদের মধ্যে প্রধান ছিলেন ইস্হাক, ও ইসমাঈল। তিনি পৌত্রও দেখে যেতে পারেন। আয়াত [ ২১ : ৮৫ ] তে বিশেষভাবে ইসমাঈলের এবং তাঁর বংশধরদের উল্লেখ আছে। কারণ ইসমাঈলের বংশেই শেষ নবী হযরত মুহম্মদের [ সা ] জন্ম।
আমি তাঁদেরকে নেতা করলাম। তাঁরা আমার নির্দেশ অনুসারে পথ প্রদর্শন করতেন। আমি তাঁদের প্রতি ওহী নাযিল করলাম সৎকর্ম করার, নামায কায়েম করার এবং যাকাত দান করার। তাঁরা আমার এবাদতে ব্যাপৃত ছিল।
And We made them leaders, guiding (mankind) by Our Command, and We inspired in them the doing of good deeds, performing Salât (Iqâmat-as-Salât), and the giving of Zakât and of Us (Alone) they were worshippers.
وَجَعَلْنَاهُمْ أَئِمَّةً يَهْدُونَ بِأَمْرِنَا وَأَوْحَيْنَا إِلَيْهِمْ فِعْلَ الْخَيْرَاتِ وَإِقَامَ الصَّلَاةِ وَإِيتَاء الزَّكَاةِ وَكَانُوا لَنَا عَابِدِينَ
WajaAAalnahum a-immatan yahdoona bi-amrina waawhayna ilayhim fiAAla alkhayrati wa-iqama alssalati wa-eetaa alzzakati wakanoo lana AAabideena
YUSUFALI: And We made them leaders, guiding (men) by Our Command, and We sent them inspiration to do good deeds, to establish regular prayers, and to practise regular charity; and they constantly served Us (and Us only).
PICKTHAL: And We made them chiefs who guide by Our command, and We inspired in them the doing of good deeds and the right establishment of worship and the giving of alms, and they were worshippers of Us (alone).
SHAKIR: And We made them Imams who guided (people) by Our command, and We revealed to them the doing of good and the keeping up of prayer and the giving of the alms, and Us (alone) did they serve;
KHALIFA: We made them imams who guided in accordance with our commandments, and we taught them how to work righteousness, and how to observe the Contact Prayers (Salat) and the obligatory charity (Zakat). To us, they were devoted worshipers.
৭৩। আমি তাদের নেতা করেছিলাম, আমার আদেশ অনুযায়ী তারা [ মানুষদের ] সৎপথ প্রদর্শন করতো। এবং আমি তাদের ওহী প্রেরণ করেছিলাম ভালো কাজ করার জন্য, নিয়মিত সালাত প্রতিষ্ঠা করার জন্য এবং যাকাত দেওয়ার জন্য। তারা সর্বদা [ শুধুমাত্র ] আমারই আনুগত্য করতো ২৭২৯।
২৭২৯। “তারা আমারই এবাদত করতো”। “আমারই ” শব্দটি দ্বারা এই আয়াতে আধ্যাত্মিক পরিশুদ্ধতার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। পূণ্যাত্মা ব্যক্তি কখনও মন্দের সাথে বা পাপের সাথে সমঝোতা করে না। যদি এর জন্য সে উপহাসের পাত্রে পরিণত হয়, তবুও সে তাঁর নীতিতে অনড় ও অটল থাকে। সে প্রকাশ্যে তাঁর ঈমানকে ঘোষণা করে। মন্দ ও অসৎ সর্বদা মোমেন ও সৎ বান্দাদের দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে চাইবে, তাদের ক্ষতি সাধন করতে চাইবে, কিন্তু আল্লাহ্ স্বয়ং তাঁদের রক্ষা করবেন। পাপিষ্ঠরা তাদের পাপের পরিণতিতে ধ্বংস হয়ে যাবে।
এবং আমি লূতকে দিয়েছিলাম প্রজ্ঞা ও জ্ঞান এবং তাঁকে ঐ জনপদ থেকে উদ্ধার করেছিলাম, যারা নোংরা কাজে লিপ্ত ছিল। তারা মন্দ ও নাফরমান সম্প্রদায় ছিল।
And (remember) Lout (Lot), We gave him Hukman (right judgement of the affairs and Prophethood) and (religious) knowledge, and We saved him from the town (folk) who practised Al-Khabâ’ith (evil, wicked and filthy deeds, etc.). Verily, they were a people given to evil, and were Fâsiqûn (rebellious, disobedient, to Allâh).
وَلُوطًا آتَيْنَاهُ حُكْمًا وَعِلْمًا وَنَجَّيْنَاهُ مِنَ الْقَرْيَةِ الَّتِي كَانَت تَّعْمَلُ الْخَبَائِثَ إِنَّهُمْ كَانُوا قَوْمَ سَوْءٍ فَاسِقِينَ
Walootan ataynahu hukman waAAilman wanajjaynahu mina alqaryati allatee kanat taAAmalu alkhaba-itha innahum kanoo qawma saw-in fasiqeena
YUSUFALI: And to Lut, too, We gave Judgment and Knowledge, and We saved him from the town which practised abominations: truly they were a people given to Evil, a rebellious people.
PICKTHAL: And unto Lot we gave judgment and knowledge, and We delivered him from the community that did abominations. Lo! they were folk of evil, lewd.
SHAKIR: And (as for) Lut, We gave him wisdom and knowledge, and We delivered him from the town which wrought abominations; surely they were an evil people, transgressors;
KHALIFA: As for Lot, we granted him wisdom and knowledge, and we saved him from the community that practiced abominations; they were wicked and evil people.
৭৪। আমি লূতকেও দিয়েছিলাম প্রজ্ঞা ও জ্ঞান। এবং আমি তাকে রক্ষা করেছিলাম এমন এক জনপদ থেকে যারা লিপ্ত ছিলো অত্যন্ত ঘৃণ্য কাজে। সত্যিই তারা ছিলো এক মন্দ ও বিদ্রোহী সম্প্রদায় ২৭৩০।
২৭৩০। লূতের সম্প্রদায় এক জঘন্য পাপে লিপ্ত ছিলো। আল্লাহ্ লূতকে প্রেরণ করেন তাদের সাবধান করার জন্য। তিনি তাদের এই পাপ কাজের বিরুদ্ধাচারণ করেন, কিন্তু তারা তা প্রত্যাখান করে। তার ফলে তাদের উপরে আল্লাহ্র শাস্তি খড়গের মতো নেমে আসে, কিন্তু লূত ও তাঁর অনুসারীরা রক্ষা পায়। দেখুন আয়াত [ ১৫ : ৬১ – ৭৪ , ১১ : ৭৭ – ৮২ এবং ৭ : ৮০ – ৮৪ ]।
আমি তাকে আমার অনুগ্রহের অন্তর্ভুক্ত করেছিলাম। সে ছিল সৎকর্মশীলদের একজন।
And We admitted him to Our Mercy, truly, he was of the righteous.
وَأَدْخَلْنَاهُ فِي رَحْمَتِنَا إِنَّهُ مِنَ الصَّالِحِينَ
Waadkhalnahu fee rahmatina innahu mina alssaliheena
YUSUFALI: And We admitted him to Our Mercy: for he was one of the Righteous.
PICKTHAL: And We brought him in unto Our mercy. Lo! he was of the righteous.
SHAKIR: And We took him into Our mercy; surely he was of the good.
KHALIFA: We admitted him into our mercy, for he was righteous.
৭৫। এবং আমি তাঁকে আমার অনুগ্রহভাজন করেছিলাম। কারণ সে ছিলো পূণ্যাত্মাদের একজন।
রুকু – ৬
৭৬। [ স্মরণ কর ! ] নূহকে , পূর্বে সে যখন আবেদন করেছিলো, ২৭৩০ – ক , আমি তাঁর [ প্রার্থনা ] শুনেছিলাম এবং তাঁকে এবং তাঁর পরিবারবর্গকে মহা বিপর্যয় থেকে উদ্ধার করেছিলাম ২৭৩১।
২৭৩০ -ক। হযরত ইব্রাহীমের আগমনের বহু পূর্বে নূহ্ নবীর দুনিয়াতে আগমন।
২৭৩১। নূহ্ এর সম্প্রদায়ের লোকেরা আল্লাহ্র প্রতি অবিশ্বাস, গরীবদের নির্যাতন এবং বৃথা তর্ক কলহে নিমগ্ন ছিলো। হযরত নূহ্ তাদের মাঝে আল্লাহ্র বাণী প্রচার করেন, এবং শত অত্যাচার ও নির্যাতনেও তাঁর ঈমান বা বিশ্বাসে অটল থাকেন। আল্লাহ্ তাঁকে এক সুবিশাল নৌকা তৈরীর হুকুম দান করেন। সেই নৌকায় তিনি ও তার অনুসারীরা মহাপ্লাবন থেকে রক্ষা পায় কিন্তু দুষ্ট লোকেরা ডুবে মারা যায়। দেখুন [ ১১ : ২৫ – ৪৮ ]।
এবং স্মরণ করুন নূহকে; যখন তিনি এর পূর্বে আহবান করেছিলেন। তখন আমি তাঁর দোয়া কবুল করেছিলাম, অতঃপর তাঁকে ও তাঁর পরিবারবর্গকে মহা সংকট থেকে উদ্ধার করেছিলাম।
And (remember) Nûh (Noah), when he cried (to Us) aforetime. We listened to his invocation and saved him and his family from great distress.
وَنُوحًا إِذْ نَادَى مِن قَبْلُ فَاسْتَجَبْنَا لَهُ فَنَجَّيْنَاهُ وَأَهْلَهُ مِنَ الْكَرْبِ الْعَظِيمِ
Wanoohan ith nada min qablu faistajabna lahu fanajjaynahu waahlahu mina alkarbi alAAatheemi
YUSUFALI: (Remember) Noah, when he cried (to Us) aforetime: We listened to his (prayer) and delivered him and his family from great distress.
PICKTHAL: And Noah, when he cried of old, We heard his prayer and saved him and his household from the great affliction.
SHAKIR: And Nuh, when he cried aforetime, so We answered him, and delivered him and his followers from the great calamity.
KHALIFA: And, before that, Noah called and we responded to him. We saved him and his family from the great disaster.
৭৫। এবং আমি তাঁকে আমার অনুগ্রহভাজন করেছিলাম। কারণ সে ছিলো পূণ্যাত্মাদের একজন।
রুকু – ৬
৭৬। [ স্মরণ কর ! ] নূহকে , পূর্বে সে যখন আবেদন করেছিলো, ২৭৩০ – ক , আমি তাঁর [ প্রার্থনা ] শুনেছিলাম এবং তাঁকে এবং তাঁর পরিবারবর্গকে মহা বিপর্যয় থেকে উদ্ধার করেছিলাম ২৭৩১।
২৭৩০ -ক। হযরত ইব্রাহীমের আগমনের বহু পূর্বে নূহ্ নবীর দুনিয়াতে আগমন।
২৭৩১। নূহ্ এর সম্প্রদায়ের লোকেরা আল্লাহ্র প্রতি অবিশ্বাস, গরীবদের নির্যাতন এবং বৃথা তর্ক কলহে নিমগ্ন ছিলো। হযরত নূহ্ তাদের মাঝে আল্লাহ্র বাণী প্রচার করেন, এবং শত অত্যাচার ও নির্যাতনেও তাঁর ঈমান বা বিশ্বাসে অটল থাকেন। আল্লাহ্ তাঁকে এক সুবিশাল নৌকা তৈরীর হুকুম দান করেন। সেই নৌকায় তিনি ও তার অনুসারীরা মহাপ্লাবন থেকে রক্ষা পায় কিন্তু দুষ্ট লোকেরা ডুবে মারা যায়। দেখুন [ ১১ : ২৫ – ৪৮ ]।
এবং আমি তাঁকে ঐ সম্প্রদায়ের বিপক্ষে সাহায্য করেছিলাম, যারা আমার নিদর্শনাবলীকে অস্বীকার করেছিল। নিশ্চয়, তারা ছিল এক মন্দ সম্প্রদায়। অতঃপর আমি তাদের সবাইকে নিমজ্জত করেছিলাম।
We helped him against people who denied Our Ayât (proofs, evidences, verses, lessons, signs, revelations, etc.). Verily, they were a people given to evil. So We drowned them all.
وَنَصَرْنَاهُ مِنَ الْقَوْمِ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا إِنَّهُمْ كَانُوا قَوْمَ سَوْءٍ فَأَغْرَقْنَاهُمْ أَجْمَعِينَ
Wanasarnahu mina alqawmi allatheena kaththaboo bi-ayatina innahum kanoo qawma saw-in faaghraqnahum ajmaAAeena
YUSUFALI: We helped him against people who rejected Our Signs: truly they were a people given to Evil: so We drowned them (in the Flood) all together.
PICKTHAL: And delivered him from the people who denied Our revelations. Lo! they were folk of evil, therefor did We drown them all.
SHAKIR: And We helped him against the people who rejected Our communications; surely they were an evil people, so We drowned them all.
KHALIFA: We supported him against the people who rejected our revelations. They were evil people, so we drowned them all.
৭৭। এবং আমি ঐ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সাহায্য করেছিলাম যারা আমার নিদর্শনকে প্রত্যাখান করেছিলো। প্রকৃতপক্ষে উহারা ছিলো এক মন্দ সম্প্রদায়। সুতারাং আমি তাদের এক সাথে [ বন্যাতে ] নিমজ্জিত করলাম।
৭৮। এবং স্মরণ কর দাউদ ও সুলাইমানকে , যখন তারা বিচার করছিলো কোন সম্প্রদায়ের মেষ পাল সম্বন্ধে , যেগুলি রাত্রিকালে [ অপরের ] শষ্যক্ষেত্রে প্রবেশ করেছিলো। আমি তাদের বিচার কার্য প্রত্যক্ষ করেছিলাম।
৭৯। সুলাইমানকে আমি বিষয়টির [সঠিক ] মীমাংসায় অনুপ্রাণীত করেছিলাম ২৭৩২। তাদের [ উভয়কে ] আমি প্রজ্ঞা ও জ্ঞান দান করেছিলাম। পাহাড় ও বিহঙ্গকুল দাউদের সাথে আমার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করতো, তা ছিলো আমারই ক্ষমতা ২৭৩৩। [ এ সকল ] আমিই কার্যকর করেছিলাম।
২৭৩২। এক মেষ পালকের কয়েকটি মেষ রাত্রিকালে পার্শ্বের কৃষকের [ আঙ্গুর ] ক্ষেতে প্রবেশ করে এবং তার ক্ষেতের চারা গাছগুলি খেয়ে ফেলে। সম্ভবতঃ সারা বছরের ফসলই এভাবে নষ্ট হয়ে যায়। সে সময়ে দাউদ নবী রাজা ছিলেন। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক যখন বিচার প্রার্থী রূপে দাউদ নবীর কাছে বিচার প্রার্থনা করলো , দাউদ ক্ষতিপূরণ স্বরূপ মেষগুলি ক্ষতিগ্রস্থ কৃষককে প্রদান করার রায় দেন। সে সময়ে দাউদের পুত্র সোলায়মান ছিলেন এগার বছরের বালক মাত্র। কিন্তু তিনি সম্পূর্ণ ব্যাপারটির রায় ভিন্নভাবে দিলেন। যা হবে ন্যায় বিচার। ক্ষতিগ্রস্থের ক্ষতি ছিলো সাময়িক যা এক বছরের ফসল। যদি সে জমি হারাতো তবে তা হতো স্থায়ী ক্ষতি। সুতারাং সাময়িক ক্ষতির জন্য মেষ পালকের মেষগুলিকে স্থায়ী ভাবে হারানো ন্যায় বিচার নয়। হযরত সোলায়মান প্রস্তাব ছিলো নিম্ন রূপ : কৃষকের নিকট মেষপাল থাকবে, সে উহার দুগ্ধ পান করবে , উল ব্যবহার করবে এবং মেষ পাল যে নূতন বাচ্চা জন্ম দেবে তার অধিকার লাভ করবে। আর মেষের মালিক ক্ষেতটিতে পানি দেবে, ক্ষেতের চারা গাছের যত্ন নেবে। ক্ষেতটি পূর্বের অবস্থা লাভ করলে সে মেষগুলি ফেরত পাবে। দাউদ নবী নিজের রায় নাকচ করে পুত্রের রায় গ্রহণ করলেন। দাউদের যোগ্যতা হচ্ছে , তিনি ন্যায় ও সত্যকে তৎক্ষণাত চিনতে ও অনুধাবন করতে পেরেছিলেন, যদিও প্রস্তাবটি এসেছিলো মাত্র এগারো বৎসরের বালকের নিকট থেকে। সোলায়মানের যোগ্যতা হচ্ছে তিনি পার্থক্য করতে পেরেছিলেন স্থায়ী আয়ের উৎস এবং অস্থায়ী আয়ের মধ্যে। যদিও তিনি ছিলেন বালকমাত্র। কিন্তু তিনি তাঁর ন্যায় প্রস্তাবকে পিতার নিকট উপস্থাপন করতে দ্বিধা বোধ করেন নাই। কিন্তু এই দ্বিবিধ ক্ষেত্রেই সমস্ত প্রশংসার দাবীদার আল্লাহ্। তিনিই বান্দার অন্তরে ন্যায়নীতি অনুধাবনের ক্ষমতা দান করেন। তিনি সকল বিষয়ের সাক্ষী, তাঁর উপস্থিতি সর্বত্র।
২৭৩৩। [ ১৭ : ৪৪; ৫৭ : ১; ১৬ : ৪৮ – ৫০ ] এই আয়াতগুলির মাধ্যমে বলা হয়েছে আকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে , সকলেই আল্লাহ্র গুণগান করে। আয়াত [ ১৩ : ১৩ ] তে বলা হয়েছে যে, “বজ্র নির্ঘোষ ও ফিরিশতাগণ সভয়ে তাঁহার সপ্রশংস মহিমা ও পবিত্রতা ঘোষণা করে।” সারা বিশ্বব্রহ্মান্ড আল্লাহ্র প্রশংসায় মগ্ন। দাউদ নবীর ধর্মসংগীতে আল্লাহ্র প্রশংসা ব্যপকভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। দাউদ নবী যখন গান গাইতেন তাঁর সাথে বিশ্ব প্রকৃতিও যোগদান করতো। আকাশ , বাতাস , পাহাড় , প্রকৃতি তাঁর সঙ্গীতের প্রতিধ্বনি করতো। দেখুন আয়াত সমূহ [ ৩৪ : ১০ এবং ৩৮ : ১৮ – ১৯ ] যেখানে বলা হয়েছে দাউদ নবীর সাথে তাঁর ধর্ম সংগীতে বিশ্ব প্রকৃতিও যোগ দান করতো।
মন্তব্য : এই আয়াত থেকে এই কথাই প্রতীয়মান হয় যে, সঙ্গীতের মাধ্যমে আল্লাহ্র প্রশংসা গীতি নিষিদ্ধ নয়। কারণ সঙ্গীতের এই বিশেষ ক্ষমতা দাউদ নবীকে আল্লাহ্ দান করেছিলেন। সঙ্গীত মনের এক বিশেষ ক্ষমতা [ Faculty of mind]। সংগীত মানুষের মনে বিশেষ প্রভাব বিস্তার করে বিধায় কোরাণ শরীফ মানুষ সংগীতের সুরে পাঠ করে , আজান সুললিত সুরে ধ্বনিত হয়। তবে সংগীতের খারাপ ব্যবহার অবশ্যই খারাপ।
এবং স্মরণ করুন দাউদ ও সুলায়মানকে, যখন তাঁরা শস্যক্ষেত্র সম্পর্কে বিচার করেছিলেন। তাতে রাত্রিকালে কিছু লোকের মেষ ঢুকে পড়েছিল। তাদের বিচার আমার সম্মুখে ছিল।
And (remember) Dawûd (David) and Sulaimân (Solomon), when they gave judgement in the case of the field in which the sheep of certain people had pastured at night and We were witness to their judgement.
وَدَاوُودَ وَسُلَيْمَانَ إِذْ يَحْكُمَانِ فِي الْحَرْثِ إِذْ نَفَشَتْ فِيهِ غَنَمُ الْقَوْمِ وَكُنَّا لِحُكْمِهِمْ شَاهِدِينَ
Wadawooda wasulaymana ith yahkumani fee alharthi ith nafashat feehi ghanamu alqawmi wakunna lihukmihim shahideena
YUSUFALI: And remember David and Solomon, when they gave judgment in the matter of the field into which the sheep of certain people had strayed by night: We did witness their judgment. PICKTHAL: And David and Solomon, when they gave judgment concerning the field, when people’s sheep had strayed and browsed therein by night; and We were witnesses to their judgment.
SHAKIR: And Dawood and Sulaiman when they gave judgment concerning the field when the people’s sheep pastured therein by night, and We were bearers of witness to their judgment.
KHALIFA: And David and Solomon, when they once ruled with regard to someone’s crop that was destroyed by another’s sheep, we witnessed their judgment.
৭৭। এবং আমি ঐ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সাহায্য করেছিলাম যারা আমার নিদর্শনকে প্রত্যাখান করেছিলো। প্রকৃতপক্ষে উহারা ছিলো এক মন্দ সম্প্রদায়। সুতারাং আমি তাদের এক সাথে [ বন্যাতে ] নিমজ্জিত করলাম।
৭৮। এবং স্মরণ কর দাউদ ও সুলাইমানকে , যখন তারা বিচার করছিলো কোন সম্প্রদায়ের মেষ পাল সম্বন্ধে , যেগুলি রাত্রিকালে [ অপরের ] শষ্যক্ষেত্রে প্রবেশ করেছিলো। আমি তাদের বিচার কার্য প্রত্যক্ষ করেছিলাম।
৭৯। সুলাইমানকে আমি বিষয়টির [সঠিক ] মীমাংসায় অনুপ্রাণীত করেছিলাম ২৭৩২। তাদের [ উভয়কে ] আমি প্রজ্ঞা ও জ্ঞান দান করেছিলাম। পাহাড় ও বিহঙ্গকুল দাউদের সাথে আমার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করতো, তা ছিলো আমারই ক্ষমতা ২৭৩৩। [ এ সকল ] আমিই কার্যকর করেছিলাম।
২৭৩২। এক মেষ পালকের কয়েকটি মেষ রাত্রিকালে পার্শ্বের কৃষকের [ আঙ্গুর ] ক্ষেতে প্রবেশ করে এবং তার ক্ষেতের চারা গাছগুলি খেয়ে ফেলে। সম্ভবতঃ সারা বছরের ফসলই এভাবে নষ্ট হয়ে যায়। সে সময়ে দাউদ নবী রাজা ছিলেন। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক যখন বিচার প্রার্থী রূপে দাউদ নবীর কাছে বিচার প্রার্থনা করলো , দাউদ ক্ষতিপূরণ স্বরূপ মেষগুলি ক্ষতিগ্রস্থ কৃষককে প্রদান করার রায় দেন। সে সময়ে দাউদের পুত্র সোলায়মান ছিলেন এগার বছরের বালক মাত্র। কিন্তু তিনি সম্পূর্ণ ব্যাপারটির রায় ভিন্নভাবে দিলেন। যা হবে ন্যায় বিচার। ক্ষতিগ্রস্থের ক্ষতি ছিলো সাময়িক যা এক বছরের ফসল। যদি সে জমি হারাতো তবে তা হতো স্থায়ী ক্ষতি। সুতারাং সাময়িক ক্ষতির জন্য মেষ পালকের মেষগুলিকে স্থায়ী ভাবে হারানো ন্যায় বিচার নয়। হযরত সোলায়মান প্রস্তাব ছিলো নিম্ন রূপ : কৃষকের নিকট মেষপাল থাকবে, সে উহার দুগ্ধ পান করবে , উল ব্যবহার করবে এবং মেষ পাল যে নূতন বাচ্চা জন্ম দেবে তার অধিকার লাভ করবে। আর মেষের মালিক ক্ষেতটিতে পানি দেবে, ক্ষেতের চারা গাছের যত্ন নেবে। ক্ষেতটি পূর্বের অবস্থা লাভ করলে সে মেষগুলি ফেরত পাবে। দাউদ নবী নিজের রায় নাকচ করে পুত্রের রায় গ্রহণ করলেন। দাউদের যোগ্যতা হচ্ছে , তিনি ন্যায় ও সত্যকে তৎক্ষণাত চিনতে ও অনুধাবন করতে পেরেছিলেন, যদিও প্রস্তাবটি এসেছিলো মাত্র এগারো বৎসরের বালকের নিকট থেকে। সোলায়মানের যোগ্যতা হচ্ছে তিনি পার্থক্য করতে পেরেছিলেন স্থায়ী আয়ের উৎস এবং অস্থায়ী আয়ের মধ্যে। যদিও তিনি ছিলেন বালকমাত্র। কিন্তু তিনি তাঁর ন্যায় প্রস্তাবকে পিতার নিকট উপস্থাপন করতে দ্বিধা বোধ করেন নাই। কিন্তু এই দ্বিবিধ ক্ষেত্রেই সমস্ত প্রশংসার দাবীদার আল্লাহ্। তিনিই বান্দার অন্তরে ন্যায়নীতি অনুধাবনের ক্ষমতা দান করেন। তিনি সকল বিষয়ের সাক্ষী, তাঁর উপস্থিতি সর্বত্র।
২৭৩৩। [ ১৭ : ৪৪; ৫৭ : ১; ১৬ : ৪৮ – ৫০ ] এই আয়াতগুলির মাধ্যমে বলা হয়েছে আকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে , সকলেই আল্লাহ্র গুণগান করে। আয়াত [ ১৩ : ১৩ ] তে বলা হয়েছে যে, “বজ্র নির্ঘোষ ও ফিরিশতাগণ সভয়ে তাঁহার সপ্রশংস মহিমা ও পবিত্রতা ঘোষণা করে।” সারা বিশ্বব্রহ্মান্ড আল্লাহ্র প্রশংসায় মগ্ন। দাউদ নবীর ধর্মসংগীতে আল্লাহ্র প্রশংসা ব্যপকভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। দাউদ নবী যখন গান গাইতেন তাঁর সাথে বিশ্ব প্রকৃতিও যোগদান করতো। আকাশ , বাতাস , পাহাড় , প্রকৃতি তাঁর সঙ্গীতের প্রতিধ্বনি করতো। দেখুন আয়াত সমূহ [ ৩৪ : ১০ এবং ৩৮ : ১৮ – ১৯ ] যেখানে বলা হয়েছে দাউদ নবীর সাথে তাঁর ধর্ম সংগীতে বিশ্ব প্রকৃতিও যোগ দান করতো।
মন্তব্য : এই আয়াত থেকে এই কথাই প্রতীয়মান হয় যে, সঙ্গীতের মাধ্যমে আল্লাহ্র প্রশংসা গীতি নিষিদ্ধ নয়। কারণ সঙ্গীতের এই বিশেষ ক্ষমতা দাউদ নবীকে আল্লাহ্ দান করেছিলেন। সঙ্গীত মনের এক বিশেষ ক্ষমতা [ Faculty of mind]। সংগীত মানুষের মনে বিশেষ প্রভাব বিস্তার করে বিধায় কোরাণ শরীফ মানুষ সংগীতের সুরে পাঠ করে , আজান সুললিত সুরে ধ্বনিত হয়। তবে সংগীতের খারাপ ব্যবহার অবশ্যই খারাপ।
অতঃপর আমি সুলায়মানকে সে ফায়সালা বুঝিয়ে দিয়েছিলাম এবং আমি উভয়কে প্রজ্ঞা ও জ্ঞান দিয়েছিলাম। আমি পর্বত ও পক্ষীসমূহকে দাউদের অনুগত করে দিয়েছিলাম; তারা আমার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করত। এই সমস্ত আমিই করেছিলাম।
And We made Sulaimân (Solomon) to understand (the case), and to each of them We gave Hukman (right judgement of the affairs and Prophethood) and knowledge. And We subjected the mountains and the birds to glorify Our Praises along with Dawûd (David), And it was We Who were the doers (of all these things).
فَفَهَّمْنَاهَا سُلَيْمَانَ وَكُلًّا آتَيْنَا حُكْمًا وَعِلْمًا وَسَخَّرْنَا مَعَ دَاوُودَ الْجِبَالَ يُسَبِّحْنَ وَالطَّيْرَ وَكُنَّا فَاعِلِينَ
Fafahhamnaha sulaymana wakullan atayna hukman waAAilman wasakhkharna maAAa dawooda aljibala yusabbihna waalttayra wakunna faAAileena
YUSUFALI: To Solomon We inspired the (right) understanding of the matter: to each (of them) We gave Judgment and Knowledge; it was Our power that made the hills and the birds celebrate Our praises, with David: it was We Who did (all these things).
PICKTHAL: And We made Solomon to understand (the case); and unto each of them We gave judgment and knowledge. And we subdued the hills and the birds to hymn (His) praise along with David. We were the doers (thereof).
SHAKIR: So We made Sulaiman to understand it; and to each one We gave wisdom and knowledge; and We made the mountains, and the birds to celebrate Our praise with Dawood; and We were the doers.
KHALIFA: We granted Solomon the correct understanding, though we endowed both of them with wisdom and knowledge. We committed the mountains to serve David in glorifying (God), as well as the birds. This is what we did.
৭৭। এবং আমি ঐ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সাহায্য করেছিলাম যারা আমার নিদর্শনকে প্রত্যাখান করেছিলো। প্রকৃতপক্ষে উহারা ছিলো এক মন্দ সম্প্রদায়। সুতারাং আমি তাদের এক সাথে [ বন্যাতে ] নিমজ্জিত করলাম।
৭৮। এবং স্মরণ কর দাউদ ও সুলাইমানকে , যখন তারা বিচার করছিলো কোন সম্প্রদায়ের মেষ পাল সম্বন্ধে , যেগুলি রাত্রিকালে [ অপরের ] শষ্যক্ষেত্রে প্রবেশ করেছিলো। আমি তাদের বিচার কার্য প্রত্যক্ষ করেছিলাম।
৭৯। সুলাইমানকে আমি বিষয়টির [সঠিক ] মীমাংসায় অনুপ্রাণীত করেছিলাম ২৭৩২। তাদের [ উভয়কে ] আমি প্রজ্ঞা ও জ্ঞান দান করেছিলাম। পাহাড় ও বিহঙ্গকুল দাউদের সাথে আমার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করতো, তা ছিলো আমারই ক্ষমতা ২৭৩৩। [ এ সকল ] আমিই কার্যকর করেছিলাম।
২৭৩২। এক মেষ পালকের কয়েকটি মেষ রাত্রিকালে পার্শ্বের কৃষকের [ আঙ্গুর ] ক্ষেতে প্রবেশ করে এবং তার ক্ষেতের চারা গাছগুলি খেয়ে ফেলে। সম্ভবতঃ সারা বছরের ফসলই এভাবে নষ্ট হয়ে যায়। সে সময়ে দাউদ নবী রাজা ছিলেন। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক যখন বিচার প্রার্থী রূপে দাউদ নবীর কাছে বিচার প্রার্থনা করলো , দাউদ ক্ষতিপূরণ স্বরূপ মেষগুলি ক্ষতিগ্রস্থ কৃষককে প্রদান করার রায় দেন। সে সময়ে দাউদের পুত্র সোলায়মান ছিলেন এগার বছরের বালক মাত্র। কিন্তু তিনি সম্পূর্ণ ব্যাপারটির রায় ভিন্নভাবে দিলেন। যা হবে ন্যায় বিচার। ক্ষতিগ্রস্থের ক্ষতি ছিলো সাময়িক যা এক বছরের ফসল। যদি সে জমি হারাতো তবে তা হতো স্থায়ী ক্ষতি। সুতারাং সাময়িক ক্ষতির জন্য মেষ পালকের মেষগুলিকে স্থায়ী ভাবে হারানো ন্যায় বিচার নয়। হযরত সোলায়মান প্রস্তাব ছিলো নিম্ন রূপ : কৃষকের নিকট মেষপাল থাকবে, সে উহার দুগ্ধ পান করবে , উল ব্যবহার করবে এবং মেষ পাল যে নূতন বাচ্চা জন্ম দেবে তার অধিকার লাভ করবে। আর মেষের মালিক ক্ষেতটিতে পানি দেবে, ক্ষেতের চারা গাছের যত্ন নেবে। ক্ষেতটি পূর্বের অবস্থা লাভ করলে সে মেষগুলি ফেরত পাবে। দাউদ নবী নিজের রায় নাকচ করে পুত্রের রায় গ্রহণ করলেন। দাউদের যোগ্যতা হচ্ছে , তিনি ন্যায় ও সত্যকে তৎক্ষণাত চিনতে ও অনুধাবন করতে পেরেছিলেন, যদিও প্রস্তাবটি এসেছিলো মাত্র এগারো বৎসরের বালকের নিকট থেকে। সোলায়মানের যোগ্যতা হচ্ছে তিনি পার্থক্য করতে পেরেছিলেন স্থায়ী আয়ের উৎস এবং অস্থায়ী আয়ের মধ্যে। যদিও তিনি ছিলেন বালকমাত্র। কিন্তু তিনি তাঁর ন্যায় প্রস্তাবকে পিতার নিকট উপস্থাপন করতে দ্বিধা বোধ করেন নাই। কিন্তু এই দ্বিবিধ ক্ষেত্রেই সমস্ত প্রশংসার দাবীদার আল্লাহ্। তিনিই বান্দার অন্তরে ন্যায়নীতি অনুধাবনের ক্ষমতা দান করেন। তিনি সকল বিষয়ের সাক্ষী, তাঁর উপস্থিতি সর্বত্র।
২৭৩৩। [ ১৭ : ৪৪; ৫৭ : ১; ১৬ : ৪৮ – ৫০ ] এই আয়াতগুলির মাধ্যমে বলা হয়েছে আকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে , সকলেই আল্লাহ্র গুণগান করে। আয়াত [ ১৩ : ১৩ ] তে বলা হয়েছে যে, “বজ্র নির্ঘোষ ও ফিরিশতাগণ সভয়ে তাঁহার সপ্রশংস মহিমা ও পবিত্রতা ঘোষণা করে।” সারা বিশ্বব্রহ্মান্ড আল্লাহ্র প্রশংসায় মগ্ন। দাউদ নবীর ধর্মসংগীতে আল্লাহ্র প্রশংসা ব্যপকভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। দাউদ নবী যখন গান গাইতেন তাঁর সাথে বিশ্ব প্রকৃতিও যোগদান করতো। আকাশ , বাতাস , পাহাড় , প্রকৃতি তাঁর সঙ্গীতের প্রতিধ্বনি করতো। দেখুন আয়াত সমূহ [ ৩৪ : ১০ এবং ৩৮ : ১৮ – ১৯ ] যেখানে বলা হয়েছে দাউদ নবীর সাথে তাঁর ধর্ম সংগীতে বিশ্ব প্রকৃতিও যোগ দান করতো।
মন্তব্য : এই আয়াত থেকে এই কথাই প্রতীয়মান হয় যে, সঙ্গীতের মাধ্যমে আল্লাহ্র প্রশংসা গীতি নিষিদ্ধ নয়। কারণ সঙ্গীতের এই বিশেষ ক্ষমতা দাউদ নবীকে আল্লাহ্ দান করেছিলেন। সঙ্গীত মনের এক বিশেষ ক্ষমতা [ Faculty of mind]। সংগীত মানুষের মনে বিশেষ প্রভাব বিস্তার করে বিধায় কোরাণ শরীফ মানুষ সংগীতের সুরে পাঠ করে , আজান সুললিত সুরে ধ্বনিত হয়। তবে সংগীতের খারাপ ব্যবহার অবশ্যই খারাপ।
মি তাঁকে তোমাদের জন্যে বর্ম নির্মান শিক্ষা দিয়েছিলাম, যাতে তা যুদ্ধে তোমাদেরকে রক্ষা করে। অতএব তোমরা কি কৃতজ্ঞ হবে?
And We taught him the making of metal coats of mail (for battles), to protect you in your fighting. Are you then grateful?
وَعَلَّمْنَاهُ صَنْعَةَ لَبُوسٍ لَّكُمْ لِتُحْصِنَكُم مِّن بَأْسِكُمْ فَهَلْ أَنتُمْ شَاكِرُونَ
WaAAallamnahu sanAAata laboosin lakum lituhsinakum min ba/sikum fahal antum shakiroona
YUSUFALI: It was We Who taught him the making of coats of mail for your benefit, to guard you from each other’s violence: will ye then be grateful?
PICKTHAL: And We taught him the art of making garments (of mail) to protect you in your daring. Are ye then thankful?
SHAKIR: And We taught him the making of coats of mail for you, that they might protect you in your wars; will you then be grateful?
KHALIFA: And we taught him the skill of making shields to protect you in war. Are you then thankful?
৮০। আমিই তোমাদের উপকারেরর জন্য তাঁকে লোহার কোট [ বর্ম ] তৈরী করতে শিখিয়েছিলাম , যেনো তোমরা [যুদ্ধক্ষেত্রে ] পরস্পরের আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে পার। সুতারাং তোমরা কি কৃতজ্ঞ হবে না ? ২৭৩৪, ২৭৩৫।
২৭৩৪। দাউদ নবী সর্বপ্রথম লোহার বর্ম তৈরী করেন। প্রাচীনযুগে যখন তরবারীর সাহায্যে যুদ্ধ হতো , সে ক্ষেত্রে আত্মরক্ষার জন্য লোহার বর্মের আবিষ্কার এক অত্যাশ্চর্য আবিষ্কার বইকি। [ ৩৪ : ১০ – ১১ ] আয়াতে আল্লাহ্ বলেছেন যে,এই বিশেষ দক্ষতাটি দাউদ নবীকে আল্লাহ্ দান করেছেন, কারণ দাউদ নবী ছিলেন একজন ন্যায়পরায়ণ ও পূণ্যাত্মা ব্যক্তি [ ৩৪ : ১১ ]। তাঁর এই বিশেষ দক্ষতাটি তিনি ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা ও নির্যাতিতের রক্ষার জন্য ব্যয় করবেন। অর্থাৎ তাঁর যুদ্ধ হবে ধর্মযুদ্ধ। এই আয়াতের মাধ্যমে এই উপদেশ দেয়া হয়েছে যে, আল্লাহ্র দান যে কোন দক্ষতাকে মহত্বর উদ্দেশ্যের প্রতি নিবেদন করতে হবে। বর্তমান যুগে বিশ্ব জুড়ে যে অস্ত্র প্রতিযোগীতা শুরু হয়েছে তার পিছনে কোন মহত্বর উদ্দেশ্য নাই, কোন কল্যাণ নাই; যা আছে তা হচ্ছে হিংসা ও সন্ত্রাস ও অন্যকে অবদমিত করার প্রয়াস মাত্র।
২৭৩৫। দাউদ নবীর গুণাবলী কোরাণ শরীফে এ পর্যন্ত যে ভাবে বর্ণনা করা হয়েছে তার সারসংক্ষেপ হচ্ছে : ১) তিনি খুব সহজেই ন্যায়কে অন্যায় থেকে পার্থক্য করতে পারতেন, ২) তিনি যে প্রার্থনা সংগীত বা ধর্ম সংগীত গাইতেন তা বিশ্ব প্রকৃতিতে আলোড়ন তুলতো, তারা দাউদ নবীর সংগীতের প্রতিধ্বনি তুলতো, ৩) তিনি লোহার আত্মরক্ষামূলক বর্ম তৈরীতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি এ সব করতে সক্ষম ছিলেন কারণ আল্লাহ্ তাকে এই বিশেষ দক্ষতা বা ক্ষমতা দান করেছিলেন। এই আয়াতে আল্লাহ্ এই উপদেশ দিয়েছেন যে, জ্ঞান , বিজ্ঞান, শিল্প, সাহিত্য , সংগীত, ইত্যাদি বিভিন্ন মানসিক দক্ষতা বা ক্ষমতা যার সাহায্যে মানুষ সৃজনশীল ক্ষমতার অধিকারী হয় তা সবই আল্লাহ্র বিশেষ দান। মানুষ এই সাধারণ কথাটি ভুলে যেয়ে নিজস্ব কৃতিত্বের অহংকারে মত্ত হয়ে যায় তাই আল্লাহ্ বলেছেন, ” সুতারাং তোমরা কি কৃতজ্ঞ হইবে না ? ” এসব নেয়ামতের জন্য মানুষের কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত।
এবং সুলায়মানের অধীন করে দিয়েছিলাম প্রবল বায়ুকে; তা তাঁর আদেশে প্রবাহিত হত ঐ দেশের দিকে, যেখানে আমি কল্যাণ দান করেছি। আমি সব বিষয়েই সম্যক অবগত রয়েছি।
And to Sulaimân (Solomon) (We subjected) the wind strongly raging, running by his command towards the land which We had blessed. And of everything We are the All-Knower.
وَلِسُلَيْمَانَ الرِّيحَ عَاصِفَةً تَجْرِي بِأَمْرِهِ إِلَى الْأَرْضِ الَّتِي بَارَكْنَا فِيهَا وَكُنَّا بِكُلِّ شَيْءٍ عَالِمِينَ
Walisulaymana alrreeha AAasifatan tajree bi-amrihi ila al-ardi allatee barakna feeha wakunna bikulli shay-in AAalimeena
YUSUFALI: (It was Our power that made) the violent (unruly) wind flow (tamely) for Solomon, to his order, to the land which We had blessed: for We do know all things.
PICKTHAL: And unto Solomon (We subdued) the wind in its raging. It set by his command toward the land which We had blessed. And of everything We are Aware.
SHAKIR: And (We made subservient) to Sulaiman the wind blowing violent, pursuing its course by his command to the land which We had blessed, and We are knower of ail things.
KHALIFA: For Solomon, we committed the wind gusting and blowing at his disposal. He could direct it as he wished, to whatever land he chose, and we blessed such land for him. We are fully aware of all things.
৮১। এবং আমি প্রবল বাতাসকে সুলাইমানের আজ্ঞাধীন করেছিলাম ২৭৩৬, যেনো বাতাস তাঁর হুকুমে [ মুদু গতিতে ] বয়ে যেতে পারে সেই সব দেশে যে দেশকে আমি আর্শীবাদ ধন্য করেছি। নিশ্চয়ই আমি সকল বিষয় সম্বন্ধে অবগত ২৭৩৭।
২৭৩৬। দেখুন আয়াত [ ৩৪ : ১২ এবং ৩৮ : ৩৬ – ৩৮ ]। এই আয়াতগুলিতে বলা হয়েছে যে, সোলেমান নবীকে আল্লাহ্ অলৌকিক ক্ষমতা দান করেছিলেন। বাতাস তাঁর হুকুমে প্রবাহিত হতো। হযরত সোলায়মান এই ক্ষমতা লাভ করেন আল্লাহ্র বিশেষ নেয়ামত স্বরূপ। তাঁর সমস্ত ক্ষমতার উৎস ছিলেন আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন। এ ভাবেই মহাক্ষমতাধর আল্লাহ্ মানুষকে ক্ষমতা দান করে থাকেন যেনো সে প্রকৃতিকে জয় করতে পারে। বিজ্ঞানের ক্ষমতা বলে আজকের মানুষ প্রকৃতিকে জয় করতে সক্ষম। কিন্তু বিজ্ঞানের জ্ঞান বা এই অত্যাশ্চর্য দক্ষতা আল্লাহ্র -ই দান এ কথা লোকে ভুলে যায়।
২৭৩৭। “সেই দেশে, যে দেশকে আমি আর্শীবাদ ধন্য করেছি “। অর্থাৎ প্যালেস্টাইনের দিকে যেখানে সোলায়মান বাদশার বাজধানী ছিলো ; যদিও তাঁর রাজত্ব সিরিয়ার উত্তর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো।
এবং অধীন করেছি শয়তানদের কতককে, যারা তার জন্যে ডুবুরীর কাজ করত এবং এ ছাড়া অন্য আরও অনেক কাজ করত। আমি তাদেরকে নিয়ন্ত্রন করে রাখতাম।
And of the Shayâtin (devils) (from the jinns) were some who dived for him, and did other work besides that; and it was We Who guarded them.
وَمِنَ الشَّيَاطِينِ مَن يَغُوصُونَ لَهُ وَيَعْمَلُونَ عَمَلًا دُونَ ذَلِكَ وَكُنَّا لَهُمْ حَافِظِينَ
Wamina alshshayateeni man yaghoosoona lahu wayaAAmaloona AAamalan doona thalika wakunna lahum hafitheena
YUSUFALI: And of the evil ones, were some who dived for him, and did other work besides; and it was We Who guarded them.
PICKTHAL: And of the evil ones (subdued We unto him) some who dived (for pearls) for him and did other work, and We were warders unto them.
SHAKIR: And of the rebellious people there were those who dived for him and did other work besides that, and We kept guard over them;
KHALIFA: And of the devils there were those who would dive for him (to harvest the sea), or do whatever else he commanded them to do. We committed them in his service.
৮২। এবং কিছু মন্দ [ জ্বিন ] তার জন্য ডুবুরীর কাজ এবং এছাড়াও অন্যান্য কাজও করতো ২৭৩৮। আমিই তাদের পাহারা দিয়ে রাখতাম।
২৭৩৮। পৃথিবীর বিভিন্ন শক্তিকে হযরত সোলায়মানের বশীভূত করে দেয়া হয়েছিলো ; কিন্তু সকল শক্তির বা ক্ষমতার উৎস এক আল্লাহ্। আল্লাহ্র অনুগ্রহের ফলে সোলায়মান জ্বিনদের বশীভূত করেন।
এবং স্মরণ করুন আইয়্যুবের কথা, যখন তিনি তাঁর পালনকর্তাকে আহবান করে বলেছিলেনঃ আমি দুঃখকষ্টে পতিত হয়েছি এবং আপনি দয়াবানদের চাইতেও সর্বশ্রেষ্ট দয়াবান।
And (remember) Ayûb (Job), when he cried to his Lord: ”Verily, distress has seized me, and You are the Most Merciful of all those who show mercy.”
وَأَيُّوبَ إِذْ نَادَى رَبَّهُ أَنِّي مَسَّنِيَ الضُّرُّ وَأَنتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ
Waayyooba ith nada rabbahu annee massaniya alddurru waanta arhamu alrrahimeena
YUSUFALI: And (remember) Job, when He cried to his Lord, “Truly distress has seized me, but Thou art the Most Merciful of those that are merciful.”
PICKTHAL: And Job, when he cried unto his Lord, (saying): Lo! adversity afflicteth me, and Thou art Most Merciful of all who show mercy.
SHAKIR: And Ayub, when he cried to his Lord, (saying): Harm has afflicted me, and Thou art the most Merciful of the merciful.
KHALIFA: And Job implored his Lord: “Adversity has befallen me, and, of all the merciful ones, You are the Most Merciful.”
৮৩। এবং [ স্মরণ কর ! ] , যখন আইউব তাঁর প্রভুর নিকট কেঁদে বলেছিলো, ” দুঃখ – দুর্দ্দশা আমাকে গ্রেফতার করে ফেলেছে ২৭৩৯। কিন্তু তুমি তো দয়ালুদের মধ্যেও সর্বশ্রেষ্ঠ। ”
২৭৩৯। আইউব নবী আরবের উত্তর পূর্ব প্রান্তের কোন এক জায়গায় থাকতেন। প্রথম জীবনে তিনি ছিলেন সম্পদশালী। কিন্তু পরবর্তীতে তাঁর উপরে বিপর্যয়ের ঝড় বয়ে যায়। তাঁর পশু সম্পদ বিনষ্ট হয়, ভৃত্যরা নিহত হয়, পরিবার পরিজন ধ্বসে পড়া বাড়ীর নীচে চাপা পড়ে মৃত্যু বরণ করে। এত বিপর্যয়েও আইউব নবী তাঁর ধৈর্য্য হারান নাই, তিনি আল্লাহ্র প্রতি ছিলেন বিশ্বাসে অটল। তার বিপদ বিপর্যয় এখানেই শেষ হয় নাই। তাঁর সমস্ত শরীর পা থেকে মাথা পর্যন্ত পুজ রক্ত পূর্ণ ক্ষততে ভরে যায়। ওল্ড টেস্টামেন্টের বর্ণনা অনুযায়ী শেষ পর্যন্ত আইউব নবীর ধৈর্য্যচ্যুতি ঘটে। তিনি পৃথিবীতে তাঁর জন্মকেই অভিশপ্ত মনে করতে থাকেন। তার বন্ধু বলে আখ্যায়িত ব্যক্তিরা তাঁকে ত্যাগ করে চলে যায় এবং বলে যে এ সব তাঁর পাপের পরিণতি। তাঁর এ সব বন্ধুরা প্রকৃত পক্ষে বন্ধু ছিলো না। ফলে শেষ পর্যন্ত তিনি মানসিক ভারসাম্য হারান। কিন্ত শেষ পর্যন্ত তাঁর প্রতি আল্লাহ্র করুণা হয় এবং তিনি তাঁর মনের ধৈর্য্য, সহিষ্ণুতা, বিনয় বিশ্বাসের দৃঢ়তা, এবং বিচার বুদ্ধি ফিরে পান। আল্লাহ্ তাকে সুস্থ করে তোলেন এবং তাঁর ধন সম্পদ ,মান – মর্যাদা , পরিবার – পরিজন সব ফিরিয়ে দেন এবং তা পূর্বাপেক্ষা দ্বিগুণ ভাবে ফিরিয়ে দেন। তাঁর বন্ধুবান্ধব আত্মীয় – স্বজনেরা আবার তাঁর নিকট ফিরে আসে। তিনি নূতন ভাবে পরিবারের সৃষ্টি করেন। এবারে তার সাত ছেলে ও তিন মেয়ে জন্ম লাভ করে। এরপর তিনি বহু বছর জীবিত ছিলেন। ওল্ড টেস্টামেন্টে হীব্রু ভাষাতে এসব কথা লেখা আছে। বাইবেলে হযরত আইউবের চরিত্রকে যেভাবে অংকন করা হয়েছে তার থেকে কোরানের এবং হাদীসের ভাষ্য ভিন্নতর। মুসলিম ধর্মগ্রন্থে তাঁকে চিত্রিত করা হয়েছে ধৈর্য্যের প্রতীক হিসেবে , সম্মানীয় নবী এবং সর্ব অবস্থায় আল্লাহ্র উপরে নির্ভরশীল এবং বিশ্বস্ত হিসেবে। বাইবেলে তাঁকে এভাবে চিত্রিত করা হয়েছে যে, তিনি বিপদ বিপর্যয়ের দ্বারা অধৈর্য্য হয়ে মনের ভারসাম্য হারান এবং নিজেকে অভিশপ্ত মনে করেন। একথা সত্যের অপলাপ ব্যতীত আর কিছু নয়। কারণ কোরাণ তাঁকে বর্ণনা করেছে বিপদ বিপর্যয়ের দ্বারা আল্লাহ্র পরীক্ষার মাঝে তিনি ছিলেন দৃঢ়তা ,সহিষ্ণুতার প্রতীক স্বরূপ। তিনি সবর করে যান, অবশেষে আল্লাহ্র রহমতে মুক্তি পান। সবরের মাধ্যমেই আল্লাহ্ তাঁর প্রিয় বান্দাদের কাছে টেনে নেন।
অতঃপর আমি তাঁর আহবানে সাড়া দিলাম এবং তাঁর দুঃখকষ্ট দূর করে দিলাম এবং তাঁর পরিবরাবর্গ ফিরিয়ে দিলাম, আর তাদের সাথে তাদের সমপরিমাণ আরও দিলাম আমার পক্ষ থেকে কৃপাবশতঃ আর এটা এবাদত কারীদের জন্যে উপদেশ স্বরূপ।
So We answered his call, and We removed the distress that was on him, and We restored his family to him (that he had lost), and the like thereof along with them, as a mercy from Ourselves and a Reminder for all who worship Us.
فَاسْتَجَبْنَا لَهُ فَكَشَفْنَا مَا بِهِ مِن ضُرٍّ وَآتَيْنَاهُ أَهْلَهُ وَمِثْلَهُم مَّعَهُمْ رَحْمَةً مِّنْ عِندِنَا وَذِكْرَى لِلْعَابِدِينَ
Faistajabna lahu fakashafna ma bihi min durrin waataynahu ahlahu wamithlahum maAAahum rahmatan min AAindina wathikra lilAAabideena
YUSUFALI: So We listened to him: We removed the distress that was on him, and We restored his people to him, and doubled their number,- as a Grace from Ourselves, and a thing for commemoration, for all who serve Us.
PICKTHAL: Then We heard his prayer and removed that adversity from which he suffered, and We gave him his household (that he had lost) and the like thereof along with them, a mercy from Our store, and a remembrance for the worshippers;
SHAKIR: Therefore We responded to him and took off what harm he had, and We gave him his family and the like of them with them: a mercy from Us and a reminder to the worshippers.
KHALIFA: We responded to him, relieved his adversity, and restored his family for him, even twice as much. That was a mercy from us, and a reminder for the worshipers.
৮৪। সুতারাং আমি তাঁর ডাকে সাড়া দিলাম ও তাঁর দুঃখ-দুর্দ্দশা দূর করে দিলাম। এবং তাঁকে তাঁর পরিবার -পরিজন প্রত্যার্পন করলাম এবং তাদের সংখ্যা দ্বিগুণ করলাম – আমার রহমত স্বরূপ ,এবং যারা আমার আনুগত্য করে তাদের জন্য উপদেশ স্বরূপ ২৭৪০।
২৭৪০। আইউব নবী ছিলেন বিনয়, ধৈর্য্য এবং আল্লাহ্র প্রতি অটল বিশ্বাসের প্রতীক স্বরূপ। এই অস্ত্রের সাহায্যেই তিনি সকল প্রতিকূলতা, বিপদ, বিপর্যয়কে দূর করেন। যারা এবাদতকারী তাদের জন্য হযরত আইউবের জীবনী উপদেশ স্বরূপ।
এবং ইসমাঈল, ই’দ্রীস ও যুলকিফলের কথা স্মরণ করুন, তাঁরা প্রত্যেকেই ছিলেন সবরকারী।
And (remember) Isma’îl (Ishmael), and Idris (Enoch) and Dhul-Kifl (Isaiah), all were from among As-Sâbirin (the patient ones, etc.).
وَإِسْمَاعِيلَ وَإِدْرِيسَ وَذَا الْكِفْلِ كُلٌّ مِّنَ الصَّابِرِينَ
Wa-ismaAAeela wa-idreesa watha alkifli kullun mina alssabireena
YUSUFALI: And (remember) Isma’il, Idris, and Zul-kifl, all (men) of constancy and patience;
PICKTHAL: And (mention) Ishmael, and Idris, and Dhu’l-Kifl. All were of the steadfast.
SHAKIR: And Ismail and Idris and Zulkifl; all were of the patient ones;
KHALIFA: Also, Ismail, Idris, Zal-Kifl; all were steadfast, patient.
৮৫। এবং [স্মরণ কর ] ইসমাঈল ২৭৪১, ইদ্রিস ২৭৪২, এবং যুল – কিফল এর কথা ২৭৪৩, এরা প্রত্যেকেই ছিলো দৃঢ় চরিত্রের এবং ধৈর্য্যশীল।
২৭৪১। হযরত ইব্রাহীমের বংশের সম্মানীয় দুইটি ধারা হযরত ইসহাক ও হযরত ইসমাঈল দ্বারা সূচিত হয়। হযরত ইস্হাকের বংশধারা যা [ ২১ : ৭২ ] আয়াতে বর্ণনা করা হয়েছে তা ব্যতীত এই আয়াতে হযরত ইসমাঈলের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি হচ্ছেন বিশাল মুসলিম উম্মার প্রতিষ্ঠাতা। ধৈর্য্য, সহিষ্ণুতা ও দৃঢ়তার তিনিও ছিলেন অগ্রপথিক। যুগে যুগে যারা আল্লাহ্র প্রিয় বান্দা তাদের আল্লাহ্র বিপদ বিপর্যয়ের পরীক্ষার মাধ্যমে কাছে টেনে নেন। যারা সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারে তারাই আল্লাহ্র সান্নিধ্য লাভের যোগ্যতা অর্জন করে। হযরত ইসমাঈলের দুঃখ কষ্ট শিশু অবস্থায় শৈশবেই শুরু হয় , [ দেখুন টিকা ১৬০ এবং আয়াত ২ : ১৫৮ ] যখন তিনি নির্বাসিত হন। তিনি ধৈর্য্য , দৃঢ়তা ও সহিষ্ণুতার পরীক্ষায় সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হন যখন তিনি দৃঢ় ও নির্ভিকভাবে আল্লাহ্র কাছে কোরবানীর জন্য প্রস্তত হন। তিনি যথার্থই ” আল্লাহ্র জন্য উৎসর্গীত ” বা “Sacrifice to Allah” এই উপাধির যোগ্য [দেখুন টিকা ২৫০৬ এবং আয়াত ১৯ : ৫৪ ] তাঁর ধৈর্য্য ও দৃঢ়তার প্রধান বৈশিষ্ট্যই হচ্ছে তিনি ছিলেন সম্পূর্ণরূপে আল্লাহ্র ইচ্ছার কাছে নিবেদিত।
২৭৪২। হযরত ইদরীসের জন্য দেখুন টিকা ২৫০৮ এবং আয়াত [ ১৯ : ৫৬ ] জীবনে তিনি উচ্চ সম্মানে অধিষ্ঠিত ছিলেন, কিন্তু তা তাকে বিপথে চালিত করতে পারে নাই। তিনি ছিলেন সত্যের প্রতি একনিষ্ঠ। তাঁর চরিত্রের দৃঢ়তা ছিলো ধৈর্য্য ও সংকল্পের দৃঢ়তার বৈশিষ্ট্য।
২৭৪৩। “Zul-Kifl” শব্দটির আক্ষরিক অর্থ ‘মালিক’ বা “দ্বিগুণ প্রতিদান” বা “অংশ” অথবা “যে দু-পরল বা দু-স্তরে কাপড় পরিধান করে।”তফসীর কার গণ মতদ্বৈত প্রকাশ করেন যে এই উপাধিটি কাকে এবং কখন দান করা হয় এবং কেন তাঁকে হযরত ইসমাঈল এবং ইদরীসদের মত নবীদের সাথে এক সাথে উল্লেখ করা হয়। মনে হয় এ ব্যাপারে “Karsten Niebuhr” এর গ্রন্থ Reisebeschreibung nach Arabien [ ii 264- 266] , যা ১৭৭৮ খৃষ্টাব্দে কোপেনহেগেন থেকে প্রকাশিত হয় তার প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য। যেখানে তিনি Encyclopaedia of Islam under ‘Dhul – Kifl’ থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন। তিনি ইরাকের Meshed Ali এবং Najaf এবং Hilla [ Babylon ] মধ্যবর্তী ছোট শহর Kefil পরিদর্শন করেন। তাঁর মতে EzeKielএর মন্দির এই শহরে অবস্থিত। ইহুদীরা তীর্থযাত্রার জন্য এই শহরে আগমন করে।
যদি আমরা “Zul – Kifl” কে গুণবাচক উপাধি হিসেবে গ্রহণ না করে “EzeKiel” এর আরবী সংস্করণ হিসেবে গ্রহণ করি তবে তা আমাদের বর্তমান প্রসঙ্গের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। “EzeKiel ” ছিলেন ইহুদীদের একজন নবী যিনি বেবীলনের রাজা নেবুচাঁদনেজার দ্বারা দ্বিতীয় বার জেরুজালেম আক্রমণের পরে [ খৃষ্ট পূর্ব ৫৯৯ শতাব্দী ] বন্দী হন। তাঁর বাণী ইংরেজী বাইবেলে [ Old Testament ] স্থান পেয়েছে। নেবুচাঁদনেজার তাকে শৃঙ্খলিত করে কারাগারে পাঠান এবং সেখানেই তাঁকে দীর্ঘদিন ফেলে রাখা হয়। তিনি তাঁর এই দুঃসহ নির্যাতন ধৈর্য্য ; দৃঢ়তা ও সহিষ্ণুতার সাথে মোকাবিলা করেন এবং শত নির্যাতনেও ইহুদীদের পাপ কার্যের তীব্র নিন্দা অব্যাহত রাখেন। জ্বালাময়ী ভাষায় তিনি তাদের বিপথগামী নেতাদের সমালোচনা ও অস্বীকার করেন।
“Zul – Kifl” এর উল্লেখ আবারও কোরাণে করা হয়েছে [ ৩৮ : ৪৮ ] আয়াতে ইসমাঈল এবং আল- আইসার সাথে।
আমি তাঁদেরকে আমার রহমাতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভূক্ত করেছিলাম। তাঁরা ছিলেন সৎকর্মপরায়ণ।
And We admitted them to Our Mercy. Verily, they were of the righteous.
وَأَدْخَلْنَاهُمْ فِي رَحْمَتِنَا إِنَّهُم مِّنَ الصَّالِحِينَ
Waadkhalnahum fee rahmatina innahum mina alssaliheena
YUSUFALI: We admitted them to Our mercy: for they were of the righteous ones.
PICKTHAL: And We brought them in unto Our mercy. Lo! they are among the righteous.
SHAKIR: And We caused them to enter into Our mercy, surely they were of the good ones.
KHALIFA: We admitted them into our mercy, for they were righteous.
৮৬। আমি তাদের আমার অনুগ্রহভাজন করেছিলাম। কারণ তারা ছিলো পূণ্যাত্মা।
৮৭। এবং স্মরণ কর যুন নুন ২৭৪৪, এর কথা , যখন সে ক্রোধভরে বের হয়ে গিয়েছিলো এবং মনে করেছিলো যে, তার উপরে আমার কোন ক্ষমতা নাই। অতঃপর সে অতল অন্ধকার থেকে আর্তনাদ করেছিলো , ” তুমি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নাই। তুমি পবিত্র মহান ! আমি তো পাপী।”
২৭৪৪। “যুন -নুন ” অর্থ মাছের অধিকারী বা মাছের সাথে সর্ম্পকিত ব্যক্তি। এই উপাধিটি দেয়া হয় হযরত ইউনুসকে। কারণ তাঁকে এক বিরাট মাছ [তিমি মাছ ] গিলে ফেলেছিলো। আল্লাহ্ তাঁকে আসেরিয়ান সম্রাজ্যের রাজধানী নিনেভাতে নবী হিসেবে পাঠান। নিনেভার জন্য দেখুন টিকা ১৪৭৮ এবং আয়াত [ ১০ : ১৮ ] এবং হযরত ইউনুসের কাহিনীর জন্য দেখুন [ ৩৭ : ১৩৯ – ১৪৯ ] আয়াত। যখন নিনেভা নগরীর বাসিন্দারা ইউনুস নবীর প্রথম সাবধান বাণীকে উপেক্ষা করলো। তিনি অধৈর্য্য হয়ে তাদের উপরে আল্লাহ্র গজব কামনা করলেন। কিন্তু নিনেভার অধিবাসীরা সময় থাকতেই অনুতপ্ত হয়েছিলো , এবং আল্লাহ্র ক্ষমা লাভে সমর্থ হয়েছিলো। কিন্তু ইতিমধ্যে ইউনুস নবী , আল্লাহ্ কর্তৃক প্রদত্ত কর্মে সাময়িক ভাবে দৃশ্যতঃ অকৃতকার্য হওয়ার দরুণ নিনেভাবাসীদের উপরে প্রচন্ড ক্রুদ্ধ হয়ে ওঠেন এবং রাগে দুঃখে তিনি নগরী ত্যাগ করেন।
কিন্তু আল্লাহ্র নবী হিসেবে তাঁর উচিত ছিলো সেই হতাশাভরা দুঃখের দিনগুলিতেও আল্লাহ্র করুণার উপরে নির্ভর করে ধৈর্য্য অবলম্বন করা এবং দৃঢ় পদক্ষেপে কর্তব্যকর্মে অগ্রসর হওয়া। সাফল্যের দাবীদার একমাত্র করুণাময় আল্লাহ্। কারণ আল্লাহ্ সর্ব ক্ষমতার অধিকারী। আল্লাহ্-ই একমাত্র ক্ষমতাশালী নিনেভাবাসী ও তার নবীর উপরে। ইউনুস নবী নিনেভা নগরী ত্যাগ করে সমুদ্র যাত্রা করেন। কিন্তু জাহাজের নাবিকেরা তাঁকে “অপয়া” বা অশুভ কল্পনা করে তাঁকে গভীর সমুদ্রে নিক্ষেপ করে। সেখানে তাঁকে এক বিরাট মাছ গিলে ফেলে। মাছের পেটের ভিতরে সেই নিচ্ছিদ্র অন্ধকারে তিনি ব্যকুলভাবে আল্লাহ্র সাহায্য কামনা করেন, নিজের কৃত অপরাধ স্বীকার করেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে আল্লাহ্র হুকুম ব্যতীত তাঁর উপরে অর্পিত দায়িত্ব ত্যাগ করা এক মহা অপরাধ। ” অন্ধকার থেকে আর্তনাদ করেছিলো।” ” অন্ধকার ” শব্দটি দ্বারা রাত্রির মত অন্ধকার যা মাছের পেটের মাঝে বিদ্যমান ছিলো তা বোঝানো হয়েছে। আক্ষরিক ভাবে , আবার আত্মার অন্ধকারকেও বোঝানো হয়েছে। কারণ ইউনুস নবী এ সময়ে হতাশার অন্ধকারে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। আর এই হতাশার অন্ধকার তাঁর আত্মাকে আচ্ছাদিত করে ফেলেছিলো। আল্লাহ্ পরম করুণাময়। তিনি তাঁকে ক্ষমা করেন। ফলে তিনি মাছের পেট থেকে অব্যহতি লাভ করেন এবং মাছ তাঁকে তীরে বমি করে ফেলে। ক্লান্ত অবসন্ন ইউনুস নবী তীরের তরুলতা দ্বারা আশ্রয় ও নিরাপত্তা লাভ করেন। অবশেষে তিনি বিপদমুক্ত হন এবং সুস্থতা লাভ করে স্বাস্থ্য ফিরে পেয়ে নিজের কর্তব্য কর্মে মনোনিবেশ করেন এবং শেষ পর্যন্ত সাফল্য লাভ করেন। এ ভাবেই তিনি অনুতাপ এবং আল্লাহ্র উপরে নির্ভরশীলতা দ্বারা হতাশা ও ব্যর্থতা থেকে মুক্তি লাভ করেন। আল্লাহ্ তাঁকে ক্ষমা করেন।
উপদেশ : আমাদের প্রত্যেককে আল্লাহ্ কিছু না কিছু কর্তব্য কর্ম দ্বারা এই পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। জীবনের কোনও অবস্থাতেই সেই কর্মকে পরিত্যাগ করার অধিকার আমাদের নাই। ধৈর্য্য ও দৃঢ়তা দ্বারাই শেষ পর্যন্ত আল্লাহ্র অনুগ্রহ লাভ করা যায়। কারণ পরের আয়াতে আল্লাহ্ বলেছিলেন, ” আমি মুমিনদের উদ্ধার করে থাকি।”
এবং মাছওয়ালার কথা স্মরণ করুন তিনি ক্রুদ্ধ হয়ে চলে গিয়েছিলেন, অতঃপর মনে করেছিলেন যে, আমি তাঁকে ধৃত করতে পারব না। অতঃপর তিনি অন্ধকারের মধ্যে আহবান করলেনঃ তুমি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই; তুমি নির্দোষ আমি গুনাহগার।
And (remember) Dhan-Nûn (Jonah), when he went off in anger, and imagined that We shall not punish him (i.e. the calamites which had befallen him)! But he cried through the darkness (saying): Lâ ilâha illa Anta [none has the right to be worshipped but You (O Allâh)], Glorified (and Exalted) are You [above all that (evil) they associate with You]. Truly, I have been of the wrong-doers.”
وَذَا النُّونِ إِذ ذَّهَبَ مُغَاضِبًا فَظَنَّ أَن لَّن نَّقْدِرَ عَلَيْهِ فَنَادَى فِي الظُّلُمَاتِ أَن لَّا إِلَهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ
Watha alnnooni ith thahaba mughadiban fathanna an lan naqdira AAalayhi fanada fee alththulumati an la ilaha illa anta subhanaka innee kuntu mina alththalimeena
YUSUFALI: And remember Zun-nun, when he departed in wrath: He imagined that We had no power over him! But he cried through the deptHs of darkness, “There is no god but thou: glory to thee: I was indeed wrong!”
PICKTHAL: And (mention) Dhu’n-Nun, when he went off in anger and deemed that We had no power over him, but he cried out in the darkness, saying: There is no Allah save Thee. Be Thou Glorified! Lo! I have been a wrong-doer.
SHAKIR: And Yunus, when he went away in wrath, so he thought that We would not straiten him, so he called out among afflictions: There is no god but Thou, glory be to Thee; surely I am of those who make themselves to suffer loss.
KHALIFA: And Zan-Noon (Jonah, “the one with an `N’ in his name”), abandoned his mission in protest, thinking that we could not control him. He ended up imploring from the darkness (of the big fish’s belly): “There is no god other than You. Be You glorified. I have committed a gross sin.”
৮৬। আমি তাদের আমার অনুগ্রহভাজন করেছিলাম। কারণ তারা ছিলো পূণ্যাত্মা।
৮৭। এবং স্মরণ কর যুন নুন ২৭৪৪, এর কথা , যখন সে ক্রোধভরে বের হয়ে গিয়েছিলো এবং মনে করেছিলো যে, তার উপরে আমার কোন ক্ষমতা নাই। অতঃপর সে অতল অন্ধকার থেকে আর্তনাদ করেছিলো , ” তুমি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নাই। তুমি পবিত্র মহান ! আমি তো পাপী।”
২৭৪৪। “যুন -নুন ” অর্থ মাছের অধিকারী বা মাছের সাথে সর্ম্পকিত ব্যক্তি। এই উপাধিটি দেয়া হয় হযরত ইউনুসকে। কারণ তাঁকে এক বিরাট মাছ [তিমি মাছ ] গিলে ফেলেছিলো। আল্লাহ্ তাঁকে আসেরিয়ান সম্রাজ্যের রাজধানী নিনেভাতে নবী হিসেবে পাঠান। নিনেভার জন্য দেখুন টিকা ১৪৭৮ এবং আয়াত [ ১০ : ১৮ ] এবং হযরত ইউনুসের কাহিনীর জন্য দেখুন [ ৩৭ : ১৩৯ – ১৪৯ ] আয়াত। যখন নিনেভা নগরীর বাসিন্দারা ইউনুস নবীর প্রথম সাবধান বাণীকে উপেক্ষা করলো। তিনি অধৈর্য্য হয়ে তাদের উপরে আল্লাহ্র গজব কামনা করলেন। কিন্তু নিনেভার অধিবাসীরা সময় থাকতেই অনুতপ্ত হয়েছিলো , এবং আল্লাহ্র ক্ষমা লাভে সমর্থ হয়েছিলো। কিন্তু ইতিমধ্যে ইউনুস নবী , আল্লাহ্ কর্তৃক প্রদত্ত কর্মে সাময়িক ভাবে দৃশ্যতঃ অকৃতকার্য হওয়ার দরুণ নিনেভাবাসীদের উপরে প্রচন্ড ক্রুদ্ধ হয়ে ওঠেন এবং রাগে দুঃখে তিনি নগরী ত্যাগ করেন।
কিন্তু আল্লাহ্র নবী হিসেবে তাঁর উচিত ছিলো সেই হতাশাভরা দুঃখের দিনগুলিতেও আল্লাহ্র করুণার উপরে নির্ভর করে ধৈর্য্য অবলম্বন করা এবং দৃঢ় পদক্ষেপে
কর্তব্যকর্মে অগ্রসর হওয়া। সাফল্যের দাবীদার একমাত্র করুণাময় আল্লাহ্। কারণ আল্লাহ্ সর্ব ক্ষমতার অধিকারী। আল্লাহ্-ই একমাত্র ক্ষমতাশালী নিনেভাবাসী ও তার নবীর উপরে। ইউনুস নবী নিনেভা নগরী ত্যাগ করে সমুদ্র যাত্রা করেন। কিন্তু
জাহাজের নাবিকেরা তাঁকে “অপয়া” বা অশুভ কল্পনা করে তাঁকে গভীর সমুদ্রে নিক্ষেপ করে। সেখানে তাঁকে এক বিরাট মাছ গিলে ফেলে। মাছের পেটের ভিতরে সেই নিচ্ছিদ্র অন্ধকারে তিনি ব্যকুলভাবে আল্লাহ্র সাহায্য কামনা করেন, নিজের কৃত অপরাধ স্বীকার করেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে আল্লাহ্র হুকুম ব্যতীত তাঁর উপরে অর্পিত দায়িত্ব ত্যাগ করা এক মহা অপরাধ। ” অন্ধকার থেকে আর্তনাদ করেছিলো।” ” অন্ধকার ” শব্দটি দ্বারা রাত্রির মত অন্ধকার যা মাছের পেটের মাঝে বিদ্যমান ছিলো তা বোঝানো হয়েছে। আক্ষরিক ভাবে , আবার আত্মার অন্ধকারকেও বোঝানো হয়েছে। কারণ ইউনুস নবী এ সময়ে হতাশার অন্ধকারে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। আর এই হতাশার অন্ধকার তাঁর আত্মাকে আচ্ছাদিত করে ফেলেছিলো। আল্লাহ্ পরম করুণাময়। তিনি তাঁকে ক্ষমা করেন। ফলে তিনি মাছের পেট থেকে অব্যহতি লাভ করেন এবং মাছ তাঁকে তীরে বমি করে ফেলে। ক্লান্ত অবসন্ন ইউনুস নবী তীরের তরুলতা দ্বারা আশ্রয় ও নিরাপত্তা লাভ করেন। অবশেষে তিনি বিপদমুক্ত হন এবং সুস্থতা লাভ করে স্বাস্থ্য ফিরে পেয়ে নিজের কর্তব্য কর্মে মনোনিবেশ করেন এবং শেষ পর্যন্ত সাফল্য লাভ করেন। এ ভাবেই তিনি অনুতাপ এবং আল্লাহ্র উপরে নির্ভরশীলতা দ্বারা হতাশা ও ব্যর্থতা থেকে মুক্তি লাভ করেন। আল্লাহ্ তাঁকে ক্ষমা করেন।
উপদেশ : আমাদের প্রত্যেককে আল্লাহ্ কিছু না কিছু কর্তব্য কর্ম দ্বারা এই পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। জীবনের কোনও অবস্থাতেই সেই কর্মকে পরিত্যাগ করার অধিকার আমাদের নাই। ধৈর্য্য ও দৃঢ়তা দ্বারাই শেষ পর্যন্ত আল্লাহ্র অনুগ্রহ লাভ করা যায়। কারণ পরের আয়াতে আল্লাহ্ বলেছিলেন, ” আমি মুমিনদের উদ্ধার করে থাকি।”
অতঃপর আমি তাঁর আহবানে সাড়া দিলাম এবং তাঁকে দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দিলাম। আমি এমনি ভাবে বিশ্ববাসীদেরকে মুক্তি দিয়ে থাকি।
So We answered his call, and delivered him from the distress. And thus We do deliver the believers (who believe in the Oneness of Allâh, abstain from evil and work righteousness).
فَاسْتَجَبْنَا لَهُ وَنَجَّيْنَاهُ مِنَ الْغَمِّ وَكَذَلِكَ نُنجِي الْمُؤْمِنِينَ
Faistajabna lahu wanajjaynahu mina alghammi wakathalika nunjee almu/mineena
YUSUFALI: So We listened to him: and delivered him from distress: and thus do We deliver those who have faith.
PICKTHAL: Then we heard his prayer and saved him from the anguish. Thus we save believers.
SHAKIR: So We responded to him and delivered him from the grief and thus do We deliver the believers.
KHALIFA: We responded to him, and saved him from the crisis; we thus save the believers.
৮৮। সুতারাং আমি তাঁর ডাকে সাড়া দিলাম এবং তাঁকে দুর্দ্দশা থেকে উদ্ধার করলাম। এভাবেই আমি তাদের উদ্ধার করি যাদের ঈমান আছে।
৮৯। এবং [স্মরণ কর ] জাকারিয়ার ২৭৪৫ কথা , যখন সে তাঁর প্রভুর নিকট কেঁদে বলেছিলো, ” হে আমার প্রভু! আমাকে নিঃসন্তান [ অবস্থায় ] ত্যাগ করো না, যদিও তুমিই সর্বশ্রেষ্ঠ উত্তরাধিকারী ২৭৪৬। ”
২৭৪৫। ” আমাকে নিঃসন্তান অবস্থায় ত্যাগ করো না ” এ স্থলে দেখুন আয়াত [ ১৯ : ২ – ১৫ ] এবং [ ৩ : ৩৮ – ৪১]। জাকারিয়া একজন পুরোহিত ছিলেন। তিনি এবং তাঁর স্ত্রী দুজনেই ছিলেন একান্ত অনুগত এবং কর্তব্য কর্মে অত্যন্ত নিষ্ঠাবান ও দৃঢ়। তাঁরা বৃদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন কিন্তু তাঁদের কোনও বংশধর ছিলো না। এ ব্যাপারে জাকারিয়া মানসিক দিক থেকে অত্যন্ত উদ্বেগ বোধ করছিলেন। উদ্বেগের কারণ এ নয় যে তিনি তাঁর বংশধর না রেখে এ ধরাধাম ত্যাগ করবেন, উদ্বেগের কারণ হচ্ছে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে তাঁর অবর্তমানে তাঁর কর্মভার বহন করার লোকের বড় অভাব হবে। কারণ তিনি যদি কাউকে আল্লাহ্র কাজের জন্য উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে না যান তবে আল্লাহ্র কাজের জন্য নিঃস্বার্থ ও বিশ্বস্ত লোক তাঁর মৃত্যুর পরে থাকবে না। আল্লাহ্ তাঁকে এক পুত্র সন্তান দান করেন। যার নাম রাখা হয়েছিলো ইয়াহিয়া [ John the Baptist ]। ইয়াহিয়া তাঁর বংশের আল্লাহ্র প্রতি একান্ত আনুগত্যের ধারাটি রক্ষা করেন। আল্লাহ্ তাঁকে বলেছেন, ” নেতা, জিতেন্দ্রীয় এবং পূণ্যবানদের মধ্যে একজন নবী ” [ ৩ : ৩৯]।
এভাবেই পিতা, মাতা এবং পুত্র প্রত্যেকেই ছিলো সৎকাজের যোগ্যতা সম্পন্ন , তারা সৎকাজে প্রতিযোগীতা করতো, পাপ থেকে দূরে থাকতো এবং আশা ও ভীতির সাথে আল্লাহ্র নিকট বিণীত থাকতো।
২৭৪৬। ” তুমিই সর্বশ্রেষ্ঠ উত্তরাধিকারী ” আকাশ , পৃথিবী বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের মালিক একমাত্র আল্লাহ্। এই বিপুল বিশ্ব ভূবনের সৃষ্টি , রক্ষণাবেক্ষণ তাঁরই করুণা, তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিপালক ও মালিক। জাকারিয়া ছিলেন পূণ্যাত্মা। তিনি বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের এই সত্যকে অনুধাবন করেছিলেন খুব সহজেই যে, পৃথিবীর কিছুই স্থায়ী নয়। সুতারাং উত্তরাধিকারী বা বংশধারা যার জন্য মানুষ খুব ব্যগ্র থাকে তাও কিছু স্থায়ী নয়। তিনি উত্তরাধিকারী বা বংশধর রেখে যাওয়ার জন্য ব্যগ্র ছিলেন না। তাঁর আশঙ্কা ছিলো যে, হয়তো বা তাঁর মৃত্যুর পর আল্লাহ্র পথে আহ্বান করার জন্য অকৃত্রিম নিবেদিত প্রাণ আর কেউ থাকবে না। সেই কারণে তিনি এক পুত্র সন্তান কামনা করেন যাকে তিনি উপযুক্ত রূপে গড়ে তুলতে পারবেন।
এবং যাকারিয়ার কথা স্মরণ করুন, যখন সে তার পালনকর্তাকে আহবান করেছিল; হে আমার পালনকর্তা আমাকে একা রেখো না। তুমি তো উত্তম ওয়ারিস।
And (remember) Zakariya (Zachariah), when he cried to his Lord: ”O My Lord! Leave me not single (childless), though You are the Best of the inheritors.”
وَزَكَرِيَّا إِذْ نَادَى رَبَّهُ رَبِّ لَا تَذَرْنِي فَرْدًا وَأَنتَ خَيْرُ الْوَارِثِينَ
Wazakariyya ith nada rabbahu rabbi la tatharnee fardan waanta khayru alwaritheena
YUSUFALI: And (remember) Zakariya, when he cried to his Lord: “O my Lord! leave me not without offspring, though thou art the best of inheritors.”
PICKTHAL: And Zachariah, when he cried unto his Lord: My Lord! Leave me not childless, though Thou art the Best of inheritors.
SHAKIR: And Zakariya, when he cried to his Lord: O my Lord leave me not alone; and Thou art the best of inheritors.
KHALIFA: And Zachariah implored his Lord: “My Lord, do not keep me without an heir, though You are the best inheritor.”
৮৮। সুতারাং আমি তাঁর ডাকে সাড়া দিলাম এবং তাঁকে দুর্দ্দশা থেকে উদ্ধার করলাম। এভাবেই আমি তাদের উদ্ধার করি যাদের ঈমান আছে।
৮৯। এবং [স্মরণ কর ] জাকারিয়ার ২৭৪৫ কথা , যখন সে তাঁর প্রভুর নিকট কেঁদে বলেছিলো, ” হে আমার প্রভু! আমাকে নিঃসন্তান [ অবস্থায় ] ত্যাগ করো না, যদিও তুমিই সর্বশ্রেষ্ঠ উত্তরাধিকারী ২৭৪৬। ”
২৭৪৫। ” আমাকে নিঃসন্তান অবস্থায় ত্যাগ করো না ” এ স্থলে দেখুন আয়াত [ ১৯ : ২ – ১৫ ] এবং [ ৩ : ৩৮ – ৪১]। জাকারিয়া একজন পুরোহিত ছিলেন। তিনি এবং তাঁর স্ত্রী দুজনেই ছিলেন একান্ত অনুগত এবং কর্তব্য কর্মে অত্যন্ত নিষ্ঠাবান ও দৃঢ়। তাঁরা বৃদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন কিন্তু তাঁদের কোনও বংশধর ছিলো না। এ ব্যাপারে জাকারিয়া মানসিক দিক থেকে অত্যন্ত উদ্বেগ বোধ করছিলেন। উদ্বেগের কারণ এ নয় যে তিনি তাঁর বংশধর না রেখে এ ধরাধাম ত্যাগ করবেন, উদ্বেগের কারণ হচ্ছে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে তাঁর অবর্তমানে তাঁর কর্মভার বহন করার লোকের বড় অভাব হবে। কারণ তিনি যদি কাউকে আল্লাহ্র কাজের জন্য উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে না যান তবে আল্লাহ্র কাজের জন্য নিঃস্বার্থ ও বিশ্বস্ত লোক তাঁর মৃত্যুর পরে থাকবে না। আল্লাহ্ তাঁকে এক পুত্র সন্তান দান করেন। যার নাম রাখা হয়েছিলো ইয়াহিয়া [ John the Baptist ]। ইয়াহিয়া তাঁর বংশের আল্লাহ্র প্রতি একান্ত আনুগত্যের ধারাটি রক্ষা করেন। আল্লাহ্ তাঁকে বলেছেন, ” নেতা, জিতেন্দ্রীয় এবং পূণ্যবানদের মধ্যে একজন নবী ” [ ৩ : ৩৯]।
এভাবেই পিতা, মাতা এবং পুত্র প্রত্যেকেই ছিলো সৎকাজের যোগ্যতা সম্পন্ন , তারা সৎকাজে প্রতিযোগীতা করতো, পাপ থেকে দূরে থাকতো এবং আশা ও ভীতির সাথে আল্লাহ্র নিকট বিণীত থাকতো।
২৭৪৬। ” তুমিই সর্বশ্রেষ্ঠ উত্তরাধিকারী ” আকাশ , পৃথিবী বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের মালিক একমাত্র আল্লাহ্। এই বিপুল বিশ্ব ভূবনের সৃষ্টি , রক্ষণাবেক্ষণ তাঁরই করুণা, তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিপালক ও মালিক। জাকারিয়া ছিলেন পূণ্যাত্মা। তিনি বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের এই সত্যকে অনুধাবন করেছিলেন খুব সহজেই যে, পৃথিবীর কিছুই স্থায়ী নয়। সুতারাং উত্তরাধিকারী বা বংশধারা যার জন্য মানুষ খুব ব্যগ্র থাকে তাও কিছু স্থায়ী নয়। তিনি উত্তরাধিকারী বা বংশধর রেখে যাওয়ার জন্য ব্যগ্র ছিলেন না। তাঁর আশঙ্কা ছিলো যে, হয়তো বা তাঁর মৃত্যুর পর আল্লাহ্র পথে আহ্বান করার জন্য অকৃত্রিম নিবেদিত প্রাণ আর কেউ থাকবে না। সেই কারণে তিনি এক পুত্র সন্তান কামনা করেন যাকে তিনি উপযুক্ত রূপে গড়ে তুলতে পারবেন।
অতঃপর আমি তার দোয়া কবুল করেছিলাম, তাকে দান করেছিলাম ইয়াহইয়া এবং তার জন্যে তার স্ত্রীকে প্রসব যোগ্য করেছিলাম। তারা সৎকর্মে ঝাঁপিয়ে পড়ত, তারা আশা ও ভীতি সহকারে আমাকে ডাকত এবং তারা ছিল আমার কাছে বিনীত।
So We answered his call, and We bestowed upon him Yahya (John), and cured his wife (to bear a child) for him. Verily, they used to hasten on to do good deeds, and they used to call on Us with hope and fear, and used to humble themselves before Us.
فَاسْتَجَبْنَا لَهُ وَوَهَبْنَا لَهُ يَحْيَى وَأَصْلَحْنَا لَهُ زَوْجَهُ إِنَّهُمْ كَانُوا يُسَارِعُونَ فِي الْخَيْرَاتِ وَيَدْعُونَنَا رَغَبًا وَرَهَبًا وَكَانُوا لَنَا خَاشِعِينَ
Faistajabna lahu wawahabna lahu yahya waaslahna lahu zawjahu innahum kanoo yusariAAoona fee alkhayrati wayadAAoonana raghaban warahaban wakanoo lana khashiAAeena
YUSUFALI: So We listened to him: and We granted him Yahya: We cured his wife’s (Barrenness) for him. These (three) were ever quick in emulation in good works; they used to call on Us with love and reverence, and humble themselves before Us.
PICKTHAL: Then We heard his prayer, and bestowed upon him John, and adjusted his wife (to bear a child) for him. Lo! they used to vie one with the other in good deeds, and they cried unto Us in longing and in fear, and were submissive unto Us.
SHAKIR: So We responded to him and gave him Yahya and made his wife fit for him; surely they used to hasten, one with another In deeds of goodness and to call upon Us, hoping and fearing and they were humble before Us.
KHALIFA: We responded to him and granted him John; we fixed his wife for him. That is because they used to hasten to work righteousness, and implored us in situations of joy, as well as fear. To us, they were reverent.
৯০। সুতারাং আমি তাঁর ডাকে সাড়া দিয়েছিলাম এবং ইয়াহ্ইয়াকে দান করেছিলাম। আমি তাঁর স্ত্রীর [ বন্ধ্যাত্ব ] আরোগ্য করেছিলাম ২৭৪৭। তারা [ তিনজন ] সৎ কাজে প্রতিযোগীতা করত। তারা আমাকে ভালোবাসা ও ভক্তি সহকারে ডাকতো , এবং নিজেদের আমার সামনে করতো বিনীত।
২৭৪৭। “Aslaha” – সংশোধন করে উন্নত করা। এখানে শব্দটি যোগ করা হয়েছে জাকারিয়ার স্ত্রীর সম্পর্কে। শব্দটির প্রয়োগ সম্পর্কে দুরকমের ব্যাখ্যা করা যায়। ১) তাঁর বন্ধ্যাত্ব দূর করে তাঁকে মাতৃত্ব ধারণের উপযোগী করা এবং ২) তাঁর আধ্যাত্মিক জগতের অন্ধকার দূর করে তাঁকে সমুন্নত করা হয়েছিলো মহামানব ইয়াহিয়ার [ John the Baptist ] মাতৃত্বের উপযোগী করার জন্য।
এবং সেই নারীর কথা আলোচনা করুন, যে তার কামপ্রবৃত্তিকে বশে রেখেছিল, অতঃপর আমি তার মধ্যে আমার রূহ ফুঁকে দিয়েছিলাম এবং তাকে তার পুত্রকে বিশ্ববাসীর জন্য নিদর্শন করেছিলাম।
And (remember) she who guarded her chastity [Virgin Maryam (Mary)], We breathed into (the sleeves of) her (shirt or garment) [through Our Rûh Jibrael (Gabriel)], and We made her and her son [’Iesa (Jesus)] a sign for Al-’Alamin (the mankind and jinns).
وَالَّتِي أَحْصَنَتْ فَرْجَهَا فَنَفَخْنَا فِيهَا مِن رُّوحِنَا وَجَعَلْنَاهَا وَابْنَهَا آيَةً لِّلْعَالَمِينَ
Waallatee ahsanat farjaha fanafakhna feeha min roohina wajaAAalnaha waibnaha ayatan lilAAalameena
YUSUFALI: And (remember) her who guarded her chastity: We breathed into her of Our spirit, and We made her and her son a sign for all peoples.
PICKTHAL: And she who was chaste, therefor We breathed into her (something) of Our Spirit and made her and her son a token for (all) peoples.
SHAKIR: And she who guarded her chastity, so We breathed into her of Our inspiration and made her and her son a sign for the nations.
KHALIFA: As for the one who maintained her virginity, we blew into her from our spirit, and thus, we made her and her son a portent for the whole world.
৯১। এবং [ স্মরণ কর ] সেই নারীকে যে তার সতীত্ব রক্ষা করেছিলো। আমি তাঁর মধ্য আমার রুহুকে ফুঁকে দিয়েছিলাম এবং আমি তাঁকে ও তাঁর পুত্রকে বিশ্বাসীর জন্য করেছিলাম এক নিদর্শন ২৭৪৮।
২৭৪৮। মরিয়ম [ আ ] ছিলেন হযরত ঈসা [ আ ] এর মাতা। এই আয়াতে আল্লাহ্ বলছেন যে সতীত্ব ছিলো তাঁর বিশেষ গুণ। তিনি ছিলেন কুমারী মাতা। পিতা ব্যতীত সন্তানের জন্ম দান দ্বারা তিনি এবং তাঁর পুত্রকে আল্লাহ্ বিশ্ববাসীর জন্য করেছেন এক অলৌকিক নিদর্শন।
তারা সকলেই তোমাদের ধর্মের; একই ধর্মে তো বিশ্বাসী সবাই এবং আমিই তোমাদের পালনকর্তা, অতএব আমার বন্দেগী কর।
Truly! This, your Ummah [Sharia or religion (Islâmic Monotheism)] is one religion, and I am your Lord, therefore worship Me (Alone). [Tafsîr Ibn Kathîr]
إِنَّ هَذِهِ أُمَّتُكُمْ أُمَّةً وَاحِدَةً وَأَنَا رَبُّكُمْ فَاعْبُدُونِ
Inna hathihi ommatukum ommatan wahidatan waana rabbukum faoAAbudooni
YUSUFALI: Verily, this brotherhood of yours is a single brotherhood, and I am your Lord and Cherisher: therefore serve Me (and no other).
PICKTHAL: Lo! this, your religion, is one religion, and I am your Lord, so worship Me.
SHAKIR: Surely this Islam is your religion, one religion (only), and I am your Lord, therefore serve Me.
KHALIFA: Your congregation is but one congregation, and I alone am your Lord; you shall worship Me alone.
৯২। অবশ্যই তোমাদের এই উম্মত হচ্ছে একই উম্মত ২৭৪৯। এবং আমি তোমাদের প্রভু ও প্রতিপালক। সুতারাং আমার আনুগত্য কর [অন্য কারও নয় ]।
২৭৪৯। “Ummat ” এই শব্দটি ‘জাতি’ শব্দটির দ্বারা অনুবাদ করা যায়। ‘সম্প্রদায় ‘ ‘শ্রেণী’ বা ‘বংশ ‘ , “জাতি” ইত্যাদি শব্দগুলিও উম্মত শব্দটি দ্বারা বোঝানো হয়। আবার ‘উম্মত’ শব্দটির থেকে যে ভাবধারা প্রয়োগ হতে পারে তা হচ্ছে , “একই ধর্ম বিশিষ্ট ” বা “জীবনধারা বিশিষ্ট “যার প্রয়োগ অন্যান্য স্থানে করা হয়েছে ; কিন্তু এ আয়াতে তা প্রযোজ্য নয়। এই আয়াতে আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করা হয়েছে পৃথিবীর বিভিন্ন জাতির প্রতি। বিভিন্ন জাতি, বিভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি ও জীবনধারার অধিকারী। যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে জাতির বা সম্প্রদায়ের জীবনে তাদের জীবনধারা ও সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটে। কারণ এগুলি কোনটাই স্থায়ী নয়। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় বিজ্ঞানের নব নব আবিষ্কারের ফলে মানুষের জীবনধারা আমূল পাল্টে যায়। ফলে জাতির শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি সবই হয়ে পরে পরিবর্তনশীল। পৃথিবীতে স্থান ও কালের দূরত্বের জন্য , সময়ের ব্যবধানের জন্য , ভাষার পার্থক্যের জন্য, পরিবেশ ও প্রকৃতির বিভিন্নতার কারণে, মানুষে মানুষে, জাতিতে জাতিতে ভাষাগত , সংস্কৃতিগত পার্থক্যের উদ্ভব ঘটে। কিন্তু যারা আল্লাহ্র সেবায় নিয়োজিত, যাদের জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য আল্লাহ্র সন্তুষ্টি অর্জন ও সান্নিধ্য লাভের কামনা , তারা পৃথিবীর যেখানেই বাস করুন না কেন, যে পরিবেশেই থাকুন না কেন তারা “একই জাতি” বা সম্প্রদায়। কারণ দেশে দেশে জাতিতে জাতিতে যে পার্থক্য তা মানুষের রচনা। যে মুহুর্তে যে কোন ব্যক্তি আল্লাহ্র সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে জীবনকে নিয়োজিত করে সে বৃহত্তর উম্মত বা সম্প্রদায়ের তালিকাভূক্ত হয়ে যায়। সে নারীই হোক বা পুরুষই হোক সে বিশ্বমানবতার জন্য উৎসর্গীকৃত এক সম্মানজনক সম্প্রদায়ের সদস্যভূক্ত হয়ে যায়। যারা শুধুমাত্র এক আল্লাহ্র এবাদত করে ও তাঁর সন্তুষ্টি লাভের জন্য তাঁর সেবা বা তাঁর সৃষ্টির সেবায় আত্ম নিয়োগ করে। এ ভাবেই তারা একই জাতি বা ধর্ম বিশিষ্ট। এভাবেই ইসলাম বিশ্ব মানবতার অগ্রপথিক।
এবং মানুষ তাদের কার্যকলাপ দ্বারা পারস্পরিক বিষয়ে ভেদ সৃষ্টি করেছে। প্রত্যেকেই আমার কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে।
But they have broken up and differed as regards their religion among themselves. (And) they all shall return to Us.
وَتَقَطَّعُوا أَمْرَهُم بَيْنَهُمْ كُلٌّ إِلَيْنَا رَاجِعُونَ
WataqattaAAoo amrahum baynahum kullun ilayna rajiAAoona
YUSUFALI: But (later generations) cut off their affair (of unity), one from another: (yet) will they all return to Us.
PICKTHAL: And they have broken their religion (into fragments) among them, (yet) all are returning unto Us.
SHAKIR: And they broke their religion (into sects) between them: to Us shall all come back.
KHALIFA: However, they divided themselves into disputing religions. All of them will come back to us (for judgment).
৯৩। কিন্তু [ পরবর্তী প্রজন্ম ] তাদের ধর্মের ব্যাপারে নিজেদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে ফেলেছে , কিন্তু সকলেই আমার নিকট ফিরে আসতে হবে ২৭৫০।
২৭৫০। কালের প্রবাহে যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষ আল্লাহ্র প্রেরিত বিশ্বমানবতার এই শ্বাশত বাণীকে ভুলে যায়। ভুলে যায় যে, ধর্ম কোন আনুষ্ঠানিক ব্যাপার নয়। ধর্ম ও জীবন এক এবং অবিচ্ছেদ্য। সৃষ্টির আদি থেকে একটাই ধর্ম প্রচলিত হচ্ছে আর তা হচ্ছে আল্লাহ্র একত্ববাদের ধর্ম। আল্লাহ্র হুকুম হচ্ছে ” [ শুধুমাত্র ] আমার ইবাদত কর।” এভাবেই বিশ্বমানব সম্প্রদায় এক সম্প্রদায় , এক জাতিতে পরিণত হয়। সে কারণে আল্লাহ্র প্রেরিত সকল নবী রসুলকে ইসলামের দৃষ্টিতে সম্মানীয় বিবেচনা করা হয় এবং মুসলমান মাত্রই বিশ্বাস করে যে, তারা সকলেই এক মহাপরাক্রমশালী, মহাজ্ঞানী আল্লাহ্র নিকট থেকে প্রেরিত। এখানেই ইসলামে সাম্য বিরাজ করে। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে পূর্ববর্তী সম্প্রদায় আল্লাহ্র এই অমোঘ বাণীর তাৎপর্য অনুধাবন করে না, ফলে সঙ্কীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গীর কারণে, শুধুমাত্র নাম সর্বস্ব ধর্মীয় মূল্যবোধকে আকড়ে ধরে। এর ফলে মানুষে মানুষে, জাতিতে জাতিতে ভেদাভেদ সৃষ্টি হয়। আল্লাহ্র বাণীর মূল মর্মার্থ জীবন থেকে হারিয়ে যায়। সৃষ্টি হয় ধর্মের নামে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়। এক জাতির পরিবর্তে সৃষ্টি হয় বহু বিশ্বাসের ভিত্তিতে বহু জাতি, বহু সম্প্রদায়। এ সবই মানুষের সংকীর্ণতা ও ধর্মীয় বিশ্বাসের মূল মূল্যবোধ অনুধাবন না করার ফলশ্রুতি।
উপদেশ : পূর্ববর্তী ধর্মীয় ভেদাভেদ সম্বন্ধে যা বলা হয়েছে আজকের মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য এ কথা আজ সমভাবে প্রযোজ্য। বিশ্বব্যপী মুসলমানেরা আজ ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতে বিচ্ছিন্ন হয়ে বিশ্ব সভাতে হচ্ছে নির্যাতিত ও লাঞ্ছিত।
অতঃপর যে বিশ্বাসী অবস্থায় সৎকর্ম সম্পাদন করে, তার প্রচেষ্টা অস্বীকৃত হবে না এবং আমি তা লিপিবদ্ধ করে রাখি।
So whoever does righteous good deeds while he is a believer (in the Oneness of Allâh Islâmic Monotheism), his efforts will not be rejected. Verily! We record it in his Book of deeds.
فَمَن يَعْمَلْ مِنَ الصَّالِحَاتِ وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَا كُفْرَانَ لِسَعْيِهِ وَإِنَّا لَهُ كَاتِبُونَ
Faman yaAAmal mina alssalihati wahuwa mu/minun fala kufrana lisaAAyihi wa-inna lahu katiboona
YUSUFALI: Whoever works any act of righteousness and has faith,- His endeavour will not be rejected: We shall record it in his favour.
PICKTHAL: Then whoso doeth some good works and is a believer, there will be no rejection of his effort. Lo! We record (it) for him.
SHAKIR: Therefore whoever shall do of good deeds and he is a believer, there shall be no denying of his exertion, and surely We will write (It) down for him.
KHALIFA: As for those who work righteousness, while believing, their work will not go to waste; we are recording it.
রুকু – ৭
৯৪। যদি কারও ঈমান থাকে ও কোন সৎকাজ করে , তার প্রচেষ্টা কখনও প্রত্যাখান করা হবে না। আমি তা তাঁর অনুকূলে লিখে রাখবো ২৭৫১।
২৭৫১। ‘সৎকাজ’ অর্থাৎ ‘ভালোকাজ’ – মানুষের যে কোনও সৎকাজকে আল্লাহ্ হারিয়ে যেতে দেন না, তা যত ক্ষুদ্রই হোক না কেন। সৎকাজকে আল্লাহ্ অত্যন্ত সম্মান করেন এবং আল্লাহ্ বান্দাকে তাঁর সৎকাজের প্রতিদান করেন বহুগুণ বৃদ্ধি করে। যদি আল্লাহ্র প্রতি আন্তরিক বিশ্বাস রেখে, শুধু তাঁর সন্তুষ্টির জন্য সৎ কাজ করা হয় তবে বান্দার জীবনে তা হবে আত্মিক উন্নতির সোপান স্বরূপ। সৎ কাজ কখনও মহাকালের গর্ভে হারিয়ে যায় না। আল্লাহ্র কাছে তার হিসাব লেখা থাকে।
যেসব জনপদকে আমি ধ্বংস করে দিয়েছি, তার অধিবাসীদের ফিরে না আসা অবধারিত।
And a ban is laid on every town (population) which We have destroyed that they shall not return (to this world again, nor repent to Us).
وَحَرَامٌ عَلَى قَرْيَةٍ أَهْلَكْنَاهَا أَنَّهُمْ لَا يَرْجِعُونَ
Waharamun AAala qaryatin ahlaknaha annahum la yarjiAAoona
YUSUFALI: But there is a ban on any population which We have destroyed: that they shall not return,
PICKTHAL: And there is a ban upon any community which We have destroyed: that they shall not return.
SHAKIR: And it is binding on a town which We destroy that they shall not return.
KHALIFA: It is forbidden for any community we had annihilated to return.
৯৫। যে জনপদকে আমি ধ্বংস করেছি তার লোকদের উপরে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে; তারা আর ফিরে আসবে না ২৭৫২,

২৭৫২। যখন কোন ব্যক্তি বা জাতি পাপের সর্বোচ্চ সীমায় উপণীত হয়, তখন সে ধ্বংসের প্রান্তসীমায় নীত হয়। আল্লাহ্ শাস্তির সময়কাল সেই ব্যক্তি বা জাতির জন্য অতি আসন্ন। কোরাণ শরীফে এরূপ বহু জাতির বিবরণ আছে যারা আল্লাহ্র ক্রোধের পাত্রে পরিণত হয়ে ধবংস হয়ে যায়। যেমন সদম ও গোমরাহ্ শহরের বাসিন্দাদের পাপ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার আর কোনও আশা ছিলো না। এ সব ক্ষেত্রে কোরাণ শরীফে উল্লেখ আছে যে, যারা পূণ্যাত্মা আল্লাহ্র ক্রোধের প্রকাশের পূর্বেই তাদের সাবধান করে দেয়া হয় এবং তাঁদের ধ্বংসজজ্ঞ থেকে রক্ষা করা হয় যেমনটি করা হয়েছিলো হযরত নূহ্ ও লূতকে। এই আয়াতে বলা হয়েছে যে, যারা ধ্বংস প্রাপ্ত হবে সে সব পাপীদের অনুতাপের ও সংশোধনের জন্য আর কোনও সুযোগ দেয়া হবে না। কারণ তারা তাদের সুযোগের সদ্ব্যবহার করার পরিবর্তে তা হাসি ঠাট্টার বিষয়বস্তুতে এবং অবজ্ঞার পাত্রে পরিণত করেছিলো। সুতারাং তাদের আর পৃথিবীতে ফিরে আসার সুযোগ দেয়া হবে না। শেষ বিচারের দিনে তাদের পুনরুত্থিত করা হবে।
যে পর্যন্ত না ইয়াজুজ ও মাজুজকে বন্ধন মুক্ত করে দেয়া হবে এবং তারা প্রত্যেক উচ্চভুমি থেকে দ্রুত ছুটে আসবে।
Until, when Ya’jûj and Ma’jûj (Gog and Magog) are let loose (from their barrier), and they swiftly swarm from every mound.
حَتَّى إِذَا فُتِحَتْ يَأْجُوجُ وَمَأْجُوجُ وَهُم مِّن كُلِّ حَدَبٍ يَنسِلُونَ
Hatta itha futihat ya/jooju wama/jooju wahum min kulli hadabin yansiloona
YUSUFALI: Until the Gog and Magog (people) are let through (their barrier), and they swiftly swarm from every hill.
PICKTHAL: Until, when Gog and Magog are let loose, and they hasten out of every mound,
SHAKIR: Even when Gog and Magog are let loose and they shall break forth from every elevated place.
KHALIFA: Not until Gog and Magog reappear, will they then return – they will come from every direction.
৯৬। যতক্ষণ না ইয়াযুজ মাজুজ [ সম্প্রদায়কে ] তাদের বন্ধন মুক্ত করা হবে ২৭৫৩। এবং তারা প্রত্যেক উচ্চস্থান থেকে পতঙ্গের পালের ন্যায় [ ঝাঁকে ঝাঁকে ] ছুটে আসবে।
২৭৫৩। ইয়াজুজ ও মাজুজ সম্বন্ধে দেখুন টিকা ২৪৩৯ এবং আয়াত [ ১৮ : ৯৪ ]। এই নাম দুটি অসভ্য বর্বর জাতিদের প্রতি প্রতীক স্বরূপ ব্যবহার করা হয়। বুনো বর্বর জাতিরা পঙ্গপালের মত ঝাঁকে ঝাঁকে সমস্ত বাধা নিষেধের প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলে সমস্ত পৃথিবী অধিকার করে ফেলবে। ইয়াজুজ , মাজুজের নাম এখানে প্রতীক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ রোজ কেয়ামতের পূর্বে সারা পৃথিবীতে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটবে। অন্যায়কারী উচ্ছৃঙ্খল জনতার দখলে পৃথিবীর শাসন ভার চলে যাবে। এই হবে রোজ কেয়ামতের পূর্ব লক্ষণ। কোরাণের ভবিষ্যত বাণী এরূপ।
আমোঘ প্রতিশ্রুত সময় নিকটবর্তী হলে কাফেরদের চক্ষু উচ্চে স্থির হয়ে যাবে; হায় আমাদের দূর্ভাগ্য, আমরা এ বিষয়ে বেখবর ছিলাম; বরং আমরা গোনাহগরই ছিলাম।
And the true promise (Day of Resurrection) shall draw near (of fulfillment). Then (when mankind is resurrected from their graves), you shall see the eyes of the disbelievers fixedly stare in horror. (They will say): ”Woe to us! We were indeed heedless of this; nay, but we were Zâlimûn (polytheists and wrong-doers, etc.).”
وَاقْتَرَبَ الْوَعْدُ الْحَقُّ فَإِذَا هِيَ شَاخِصَةٌ أَبْصَارُ الَّذِينَ كَفَرُوا يَا وَيْلَنَا قَدْ كُنَّا فِي غَفْلَةٍ مِّنْ هَذَا بَلْ كُنَّا ظَالِمِينَ
Waiqtaraba alwaAAdu alhaqqu fa-itha hiya shakhisatun absaru allatheena kafaroo ya waylana qad kunna fee ghaflatin min hatha bal kunna thalimeena
YUSUFALI: Then will the true promise draw nigh (of fulfilment): then behold! the eyes of the Unbelievers will fixedly stare in horror: “Ah! Woe to us! we were indeed heedless of this; nay, we truly did wrong!”
PICKTHAL: And the True Promise draweth nigh; then behold them, staring wide (in terror), the eyes of those who disbelieve! (They say): Alas for us! We (lived) in forgetfulness of this. Ah, but we were wrong-doers!
SHAKIR: And the true promise shall draw nigh, then lo! the eyes of those who disbelieved shall be fixedly open: O woe to us! surely we were m a state of heedlessness as to this; nay, we were unjust.
KHALIFA: That is when the inevitable prophecy will come to pass, and the disbelievers will stare in horror: “Woe to us; we have been oblivious. Indeed, we have been wicked.”
৯৭। তখন অমোঘ প্রতিশ্রুতি কাল নিকটে এসে পৌঁছবে। অতঃপর দেখো! অবিশ্বাসীদের চক্ষু আতঙ্কে স্থির হয়ে যাবে ২৭৫৪। ” হায় ! দুর্ভোগ আমাদের ! সত্যই আমরা এ থেকে অমনোযোগী ছিলাম , আমরা [ বাস্তবিকই ] পাপ করেছিলাম। ”
২৭৫৪। দেখুন আয়াত [ ১৪ : ৪২ ]।
তোমরা এবং আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যাদের পুজা কর, সেগুলো দোযখের ইন্ধন। তোমরাই তাতে প্রবেশ করবে।
Certainly! You (disbelievers) and that which you are worshipping now besides Allâh, are (but) fuel for Hell! (Surely), you will enter it.
إِنَّكُمْ وَمَا تَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللَّهِ حَصَبُ جَهَنَّمَ أَنتُمْ لَهَا وَارِدُونَ
Innakum wama taAAbudoona min dooni Allahi hasabu jahannama antum laha waridoona
YUSUFALI: Verily ye, (unbelievers), and the (false) gods that ye worship besides Allah, are (but) fuel for Hell! to it will ye (surely) come!
PICKTHAL: Lo! ye (idolaters) and that which ye worship beside Allah are fuel of hell. Thereunto ye will come.
SHAKIR: Surely you and what you worship besides Allah are the firewood of hell; to it you shall come.
KHALIFA: You and the idols you worship besides GOD will be fuel for Hell; this is your inevitable destiny.
৯৮। নিশ্চয়ই তোমরা [ অবিশ্বাসীরা ] এবং আল্লাহ্ বাদে তোমরা যে [মিথ্যা ] উপাস্যের এবাদত করতে সকলকেই জাহান্নামের ইন্ধন হতে হবে। [ অবশ্যই ] তোমরা সকলে তাতে প্রবেশ করবে।
৯৯। যদি তারা [ প্রকৃত ] উপাস্য হতো ,তবে তারা সেখানে প্রবেশ করতো না ২৭৫৫। কিন্তু প্রত্যেকেই সেখানে চিরকাল থাকবে।
২৭৫৫। সত্য এবং মিথ্যার মধ্যে সর্বোচ্চ প্রমাণ হচ্ছে ; সত্য শেষ পর্যন্ত বিকাশমান ও স্থায়ী , অপর পক্ষে মিথ্যা অস্থায়ী ও এর ধ্বংস অনিবার্য। সেরূপ যারা সত্যের পূজারী তাঁরা তাঁদের আত্মার মাঝে সত্যের আলোকে অনুধাবনে সক্ষম হবেন। সত্যের আলো তাদের পথের ঠিকানা বাতলে দেবে। এই সত্য হচ্ছে একত্ববাদ , সত্যের অনুধাবন হচ্ছে একত্ববাদের আলো। একত্ববাদ আত্মাকে সর্বোচ্চ সত্যকে অনুভবের ক্ষমতা দান করে যা একজন বহু ইলাহী এর এবাদতকারীর চরিত্রে জন্ম লাভ করে না। কারণ তাদের শেষ পরিণতি দোযখের আগুন। পৃথিবীতে তারা এই শাস্তির পরিণাম কল্পনাও করতে পারে নাই। সুতারাং যখন তারা শাস্তিকে প্রত্যক্ষ করবে , তখন অনুতাপের মাধ্যমে ফিরে আসার উপায় থাকবে না। তখন শুধু আর্তনাদ , হাহাকার এবং দীর্ঘশ্বাস হবে তাদের স্থায়ী জীবন।
এই মূর্তিরা যদি উপাস্য হত, তবে জাহান্নামে প্রবেশ করত না। প্রত্যেকেই তাতে চিরস্থায়ী হয়ে পড়ে থাকবে।
Had these (idols, etc.) been âliha (gods), they would not have entered there (Hell), and all of them will abide therein.
لَوْ كَانَ هَؤُلَاء آلِهَةً مَّا وَرَدُوهَا وَكُلٌّ فِيهَا خَالِدُونَ
Law kana haola-i alihatan ma waradooha wakullun feeha khalidoona
YUSUFALI: If these had been gods, they would not have got there! but each one will abide therein.
PICKTHAL: If these had been gods they would not have come thither, but all will abide therein.
SHAKIR: Had these been gods, they would not have come to it and all shall abide therein.
KHALIFA: If those were gods, they would not have ended up in Hell. All its inhabitants abide in it forever.
৯৮। নিশ্চয়ই তোমরা [ অবিশ্বাসীরা ] এবং আল্লাহ্ বাদে তোমরা যে [মিথ্যা ] উপাস্যের এবাদত করতে সকলকেই জাহান্নামের ইন্ধন হতে হবে। [ অবশ্যই ] তোমরা সকলে তাতে প্রবেশ করবে।
৯৯। যদি তারা [ প্রকৃত ] উপাস্য হতো ,তবে তারা সেখানে প্রবেশ করতো না ২৭৫৫। কিন্তু প্রত্যেকেই সেখানে চিরকাল থাকবে।
২৭৫৫। সত্য এবং মিথ্যার মধ্যে সর্বোচ্চ প্রমাণ হচ্ছে ; সত্য শেষ পর্যন্ত বিকাশমান ও স্থায়ী , অপর পক্ষে মিথ্যা অস্থায়ী ও এর ধ্বংস অনিবার্য। সেরূপ যারা সত্যের পূজারী তাঁরা তাঁদের আত্মার মাঝে সত্যের আলোকে অনুধাবনে সক্ষম হবেন। সত্যের আলো তাদের পথের ঠিকানা বাতলে দেবে। এই সত্য হচ্ছে একত্ববাদ , সত্যের অনুধাবন হচ্ছে একত্ববাদের আলো। একত্ববাদ আত্মাকে সর্বোচ্চ সত্যকে অনুভবের ক্ষমতা দান করে যা একজন বহু ইলাহী এর এবাদতকারীর চরিত্রে জন্ম লাভ করে না। কারণ তাদের শেষ পরিণতি দোযখের আগুন। পৃথিবীতে তারা এই শাস্তির পরিণাম কল্পনাও করতে পারে নাই। সুতারাং যখন তারা শাস্তিকে প্রত্যক্ষ করবে , তখন অনুতাপের মাধ্যমে ফিরে আসার উপায় থাকবে না। তখন শুধু আর্তনাদ , হাহাকার এবং দীর্ঘশ্বাস হবে তাদের স্থায়ী জীবন।
তারা সেখানে চীৎকার করবে এবং সেখানে তারা কিছুই শুনতে পাবে না।
Therein breathing out with deep sighs and roaring will be their portion, and therein they will hear not.
لَهُمْ فِيهَا زَفِيرٌ وَهُمْ فِيهَا لَا يَسْمَعُونَ
Lahum feeha zafeerun wahum feeha la yasmaAAoona
YUSUFALI: There, sobbing will be their lot, nor will they there hear (aught else).
PICKTHAL: Therein wailing is their portion, and therein they hear not.
SHAKIR: For them therein shall be groaning and therein they shall not hear.
KHALIFA: They will sigh and groan therein, and they will have no access to any news.
১০০। তাদের নিয়তি হবে কাঁদা; সেখানে তারা কিছুই শুনতে পাবে না।
১০১। যাদের জন্য আমার পক্ষ থেকে পূর্বেই মঙ্গল নির্ধারিত হয়েছে তাদের সেখান থেকে বহু দূরে রাখা হবে ২৭৫৬।
২৭৫৬। অপর পক্ষে , যারা সৎকর্মশীল এবং একত্ববাদের সত্যে বিশ্বাসী তাদের তুলনা করা হয়েছে ঐ সব বহুশরীকবাদী দোযখবাসীদে সাথে। এ সব সৎকর্মশীল ও সত্যে বিশ্বাসীদের নিকট দোযখের কোন আর্তনাদ, হাহাকার বা দীর্ঘশ্বাস পৌঁছবে না। সত্যের আলোতে উদ্ভাসিত এ সব আত্মার সকল আশা আকাঙ্খা পরিপূর্ণভাবে এবং অনন্তকালের জন্য পূর্ণ করা হবে এবং তাদের পৌঁছে দেয়া হবে স্থায়ী সুখ শান্তির ঠিকানায়। এই ঠিকানা পৃথিবীর সুখের মত ক্ষণস্থায়ী হবে না। তা হবে অনন্তকাল ব্যপী, চিরস্থায়ী।
যাদের জন্য প্রথম থেকেই আমার পক্ষ থেকে কল্যাণ নির্ধারিত হয়েছে তারা দোযখ থেকে দূরে থাকবে।
Verily those for whom the good has preceded from Us, they will be removed far therefrom (Hell) [e.g. ’Iesa (Jesus), son of Maryam (Mary); ’Uzair (Ezra), etc.].
إِنَّ الَّذِينَ سَبَقَتْ لَهُم مِّنَّا الْحُسْنَى أُوْلَئِكَ عَنْهَا مُبْعَدُونَ
Inna allatheena sabaqat lahum minna alhusna ola-ika AAanha mubAAadoona
YUSUFALI: Those for whom the good (record) from Us has gone before, will be removed far therefrom.
PICKTHAL: Lo! those unto whom kindness hath gone forth before from Us, they will be far removed from thence.
SHAKIR: Surely (as for) those for whom the good has already gone forth from Us, they shall be kept far off from it;
KHALIFA: As for those who deserved our magnificent rewards, they will be protected from it.
১০০। তাদের নিয়তি হবে কাঁদা; সেখানে তারা কিছুই শুনতে পাবে না।
১০১। যাদের জন্য আমার পক্ষ থেকে পূর্বেই মঙ্গল নির্ধারিত হয়েছে তাদের সেখান থেকে বহু দূরে রাখা হবে ২৭৫৬।
২৭৫৬। অপর পক্ষে , যারা সৎকর্মশীল এবং একত্ববাদের সত্যে বিশ্বাসী তাদের তুলনা করা হয়েছে ঐ সব বহুশরীকবাদী দোযখবাসীদে সাথে। এ সব সৎকর্মশীল ও সত্যে বিশ্বাসীদের নিকট দোযখের কোন আর্তনাদ, হাহাকার বা দীর্ঘশ্বাস পৌঁছবে না। সত্যের আলোতে উদ্ভাসিত এ সব আত্মার সকল আশা আকাঙ্খা পরিপূর্ণভাবে এবং অনন্তকালের জন্য পূর্ণ করা হবে এবং তাদের পৌঁছে দেয়া হবে স্থায়ী সুখ শান্তির ঠিকানায়। এই ঠিকানা পৃথিবীর সুখের মত ক্ষণস্থায়ী হবে না। তা হবে অনন্তকাল ব্যপী, চিরস্থায়ী।
তারা তার ক্ষীণতম শব্দও শুনবে না এবং তারা তাদের মনের বাসনা অনুযায়ী চিরকাল বসবাস করবে।
They shall not hear the slightest sound of it (Hell), while they abide in that which their ownselves desire.
لَا يَسْمَعُونَ حَسِيسَهَا وَهُمْ فِي مَا اشْتَهَتْ أَنفُسُهُمْ خَالِدُونَ
La yasmaAAoona haseesaha wahum fee ma ishtahat anfusuhum khalidoona
YUSUFALI: Not the slightest sound will they hear of Hell: what their souls desired, in that will they dwell.
PICKTHAL: They will not hear the slightest sound thereof, while they abide in that which their souls desire.
SHAKIR: They will not hear its faintest sound, and they shall abide in that which their souls long for.
KHALIFA: They will not hear its hissing. They will enjoy an abode where they can get everything they desire, forever.
১০২। তারা [ পূণ্যাত্মারা ] দোযখের ক্ষীণতম শব্দও শুনবে না। তাদের আত্মা যা চায়, তারা তার মধ্যেই [ চিরকাল ] থাকবে।
১০৩। মহাভীতি তাদের কোন দুঃখ দেবে না ২৭৫৭। পক্ষান্তরে ফেরেশতারা তাদের অভ্যর্থনা করবে এই বলে, ” আজকে তোমাদের দিন, যে দিন সম্বন্ধে তোমাদের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিলো। ”
২৭৫৭। শেষ বিচারের দিনে পাপীদের অন্তর জবাবদিহিতার আতঙ্কে পরিপূর্ণ হয়ে যাবে। কিন্তু যারা পূণ্যাত্মা তারা থাকবেন এসব ভয় ভীতি , উদ্বেগ, দুঃশ্চিন্তা ও দুঃখ দুর্দ্দশা মুক্ত। এই সেই দিন যেদিন তাদের আশা আকাঙ্খার পরিপূর্ণতা লাভ করবে। সুখ ও শান্তি তাদের জীবনকে ধন্য করবে। পৃথিবীর সৎ কর্মফল পরলোকে তাদের সাফল্যের স্বর্ণ দুয়ারে পৌঁছে দেবে। সেখানে তাদের ফেরেশতারা স্বাগতম জানাবে, সাদরে অভ্যর্থনা করবে। আল্লাহ্র সান্নিধ্যে লাভের মাধ্যমে তাদের মানব জীবনের সর্বোচ্চ সফলতা লাভ করবে, অপার নিঃসীম শান্তির ক্রোড়ে হবে তাঁদের অবস্থান।
মহা ত্রাস তাদেরকে চিন্তান্বিত করবে না এবং ফেরেশতারা তাদেরকে অভ্যর্থনা করবেঃ আজ তোমাদের দিন, যে দিনের ওয়াদা তোমাদেরকে দেয়া হয়েছিল।
The greatest terror (on the Day of Resurrection) will not grieve them, and the angels will meet them, (with the greeting): ”This is your Day which you were promised.”
لَا يَحْزُنُهُمُ الْفَزَعُ الْأَكْبَرُ وَتَتَلَقَّاهُمُ الْمَلَائِكَةُ هَذَا يَوْمُكُمُ الَّذِي كُنتُمْ تُوعَدُونَ
La yahzunuhumu alfazaAAu al-akbaru watatalaqqahumu almala-ikatu hatha yawmukumu allathee kuntum tooAAadoona
YUSUFALI: The Great Terror will bring them no grief: but the angels will meet them (with mutual greetings): “This is your Day,- (the Day) that ye were promised.”
PICKTHAL: The Supreme Horror will not grieve them, and the angels will welcome them, (saying): This is your Day which ye were promised;
SHAKIR: The great fearful event shall not grieve them, and the angels shall meet them: This is your day which you were promised.
KHALIFA: The great horror will not worry them, and the angels will receive them joyfully: “This is your day, that has been promised to you.”
১০২। তারা [ পূণ্যাত্মারা ] দোযখের ক্ষীণতম শব্দও শুনবে না। তাদের আত্মা যা চায়, তারা তার মধ্যেই [ চিরকাল ] থাকবে।
১০৩। মহাভীতি তাদের কোন দুঃখ দেবে না ২৭৫৭। পক্ষান্তরে ফেরেশতারা তাদের অভ্যর্থনা করবে এই বলে, ” আজকে তোমাদের দিন, যে দিন সম্বন্ধে তোমাদের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিলো। ”
২৭৫৭। শেষ বিচারের দিনে পাপীদের অন্তর জবাবদিহিতার আতঙ্কে পরিপূর্ণ হয়ে যাবে। কিন্তু যারা পূণ্যাত্মা তারা থাকবেন এসব ভয় ভীতি , উদ্বেগ, দুঃশ্চিন্তা ও দুঃখ দুর্দ্দশা মুক্ত। এই সেই দিন যেদিন তাদের আশা আকাঙ্খার পরিপূর্ণতা লাভ করবে। সুখ ও শান্তি তাদের জীবনকে ধন্য করবে। পৃথিবীর সৎ কর্মফল পরলোকে তাদের সাফল্যের স্বর্ণ দুয়ারে পৌঁছে দেবে। সেখানে তাদের ফেরেশতারা স্বাগতম জানাবে, সাদরে অভ্যর্থনা করবে। আল্লাহ্র সান্নিধ্যে লাভের মাধ্যমে তাদের মানব জীবনের সর্বোচ্চ সফলতা লাভ করবে, অপার নিঃসীম শান্তির ক্রোড়ে হবে তাঁদের অবস্থান।
সেদিন আমি আকাশকে গুটিয়ে নেব, যেমন গুটানো হয় লিখিত কাগজপত্র। যেভাবে আমি প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলাম, সেভাবে পুনরায় সৃষ্টি করব। আমার ওয়াদা নিশ্চিত, আমাকে তা পূর্ণ করতেই হবে।
And (remember) the Day when We shall roll up the heavens like a scroll rolled up for books, as We began the first creation, We shall repeat it, (it is) a promise binding upon Us. Truly, We shall do it.
يَوْمَ نَطْوِي السَّمَاء كَطَيِّ السِّجِلِّ لِلْكُتُبِ كَمَا بَدَأْنَا أَوَّلَ خَلْقٍ نُّعِيدُهُ وَعْدًا عَلَيْنَا إِنَّا كُنَّا فَاعِلِينَ
Yawma natwee alssamaa katayyi alssijlli lilkutubi kama bada/na awwala khalqin nuAAeeduhu waAAdan AAalayna inna kunna faAAileena
YUSUFALI: The Day that We roll up the heavens like a scroll rolled up for books (completed),- even as We produced the first creation, so shall We produce a new one: a promise We have undertaken: truly shall We fulfil it.
PICKTHAL: The Day when We shall roll up the heavens as a recorder rolleth up a written scroll. As We began the first creation, We shall repeat it. (It is) a promise (binding) upon Us. Lo! We are to perform it.
SHAKIR: On the day when We will roll up heaven like the rolling up of the scroll for writings, as We originated the first creation, (so) We shall reproduce it; a promise (binding on Us); surely We will bring it about.
KHALIFA: On that day, we will fold the heaven, like the folding of a book. Just as we initiated the first creation, we will repeat it. This is our promise; we will certainly carry it out.
১০৪। সেদিন আকাশমন্ডলীকে আমি গুটানো কাগজের ন্যায় পেঁচিয়ে গুটিয়ে ফেলবো। যে ভাবে আমি প্রথম সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম , সেভাবেই আমি নূতন সৃষ্টি করবো ২৭৫৮। যে প্রতিশ্রুতির দায়িত্ব আমি নিয়েছি, আমি তা অবশ্যই পালন করবো।
২৭৫৮। প্রাচীন কালে দলীল দস্তাবীজ, ফরমান ইত্যাদি গুটিয়ে রাখা হতো। এই গুটানোকে উপমা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এই সেই দিন যেদিন সারা বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের সকল কাজকে শেষ করে গুটিয়ে ফেলা হবে। এখানে আকাশমন্ডলী দ্বারা পৃথিবী এবং সারা বিশ্ব জাহান অর্থাৎ নভোমন্ডল, গ্যালাক্সী ইত্যাদি সকলকে বোঝানো হয়েছে। আল্লাহ্ যদি শূন্য থেকে পৃথিবী সৃষ্টির ক্ষমতা রাখেন [Big Bang Theory ] , তবে তাঁর পক্ষে নূতন পৃথিবী সৃষ্টিও সম্ভব। এ হবে সম্পূর্ণ নূতন পৃথিবী , হয়তো বা তা হবে নূতন মাত্রা বিশিষ্ট [ Another Plane ] , যার সম্বন্ধে বর্তমান মানুষের ধারণা করাও সম্ভব নয়। এই হচ্ছে বিশ্ববিধাতার পরিকল্পনা, এই তাঁর প্রতিজ্ঞা। নূতন মাত্রার পৃথিবীর জন্য দেখুন [ ১৪ : ৪৮ ] , [ ৫৬ : ৬১ ] আয়াত।
আমি উপদেশের পর যবুরে লিখে দিয়েছি যে, আমার সৎকর্মপরায়ণ বান্দাগণ অবশেষে পৃথিবীর অধিকারী হবে।
And indeed We have written in Zabûr (Psalms) [i.e. all the revealed Holy Books the Taurât (Torah), the Injeel (Gospel), the Qur’ân] after (We have already written in) Al-Lauh Al-Mahfûz (the Book, that is in the heaven with Allâh), that My righteous slaves shall inherit the land (i.e. the land of Paradise).
وَلَقَدْ كَتَبْنَا فِي الزَّبُورِ مِن بَعْدِ الذِّكْرِ أَنَّ الْأَرْضَ يَرِثُهَا عِبَادِيَ الصَّالِحُونَ
Walaqad katabna fee alzzaboori min baAAdi alththikri anna al-arda yarithuha AAibadiya alssalihoona
YUSUFALI: Before this We wrote in the Psalms, after the Message (given to Moses): My servants the righteous, shall inherit the earth.”
PICKTHAL: And verily we have written in the Scripture, after the Reminder: My righteous slaves will inherit the earth:
SHAKIR: And certainly We wrote in the Book after the reminder that (as for) the land, My righteous servants shall inherit it.
KHALIFA: We have decreed in the Psalms, as well as in other scriptures, that the earth shall be inherited by My righteous worshipers.
১০৫। নিশ্চয়ই আমি [ মুসার ] সর্তককারী তাওরাতের পরে যবুরের মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছি যে , ” আমার পূণ্যাত্মা সৎ বান্দারাই পৃথিবীর উত্তরাধিকারী হবে।” ২৭৫৯, ২৭৬০।
২৭৫৯। “” দাউদ নবীর কাছে প্রার্থনা সংগীত পূর্ণ যে কিতাব প্রেরণ করা হয় তার নাম যবুর “। দাউদ নবীর উল্লেখের সাথে আয়াতে [ ৪ : ১৬৩ এবং ১৭ : ৫৫ ], ‘যবুরের’ উল্লেখ আছে। যবুরে যে সব উপদেশ আছে তা নিম্নরূপ : “Psalms xxv : 13 , ” his seed shall inherit the earth” xxxvii : 11, ” The meek shall inherit the earth” [ quoted by Jesus in Matt v . 3 ] ; and xxxvii : 29 , “The righteous shall inherit the land” কোরাণের উপদেশ হচ্ছে, My servants / the righteous , shall inherit the earth. যার বাংলা অনুবাদ হয়েছে, ” পূণ্যাত্মা সৎ বান্দারাই পৃথিবীর অধিকারী হবে।”
২৭৬০। একই প্রতিশ্রুতি আছে Pentatench বা বাইবেলের প্রথম পাঁচটি খন্ডে Exod xxxii : 13.
এতে এবাদতকারী সম্প্রদায়ের জন্যে পর্যাপ্ত বিষয়বস্তু আছে।
Verily, in this (the Qur’ân) there is a plain Message for people who worship Allâh (i.e. the true, real believers of Islâmic Monotheism who act practically on the Qur’ân and the Sunnah legal ways of the Prophet SAW).
إِنَّ فِي هَذَا لَبَلَاغًا لِّقَوْمٍ عَابِدِينَ
Inna fee hatha labalaghan liqawmin AAabideena
YUSUFALI: Verily in this (Qur’an) is a Message for people who would (truly) worship Allah.
PICKTHAL: Lo! there is a plain statement for folk who are devout.
SHAKIR: Most surely in this is a message to a people who serve
KHALIFA: This is a proclamation for people who are worshipers.
১০৬। নিশ্চয়ই এই [ কোর-আন হচ্ছে ] তাদের জন্য উপদেশ যারা [ প্রকৃতই ] আল্লাহ্র এবাদত করে ২৭৬১।
২৭৬১। আল্লাহ্র প্রত্যাদেশের সর্বোচ্চ পূর্ণতা প্রাপ্ত হয়েছে কোরাণ শরীফ নাজেল হওয়ার মাধ্যমে। কোরাণ পূর্ববর্তী প্রত্যাদেশ সমূহকে সত্যায়ন করে, মানুষ এ সব প্রত্যাদেশের যে সব অংশ বিকৃত করে ফেলেছিলো , কোরাণ তা সংশোধন করে এবং যারা আল্লাহ্র প্রকৃত এবাদতকারী তাদের জন্য আছে বিশদ ব্যাখ্যা ও সত্য পথের পথ- নির্দ্দেশ। কোরাণ জাতি , ধর্ম , স্থান কাল নির্বিশেষে , সকলের জন্য , তারা পূর্ববর্তী কিতাবের অনুসারী হোক কিংবা না হোক, সকলের জন্য সুপথ প্রদর্শক। কারণ এখানে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে , ” এতে রয়েছে তাদের জন্য উপদেশ যারা আল্লাহ্র এবাদত করে।” অর্থাৎ যারা শুধুমাত্র আল্লাহ্র একত্বে বিশ্বাসী। যাদের এবাদতে কোনও অংশীদারিত্ব নাই, জাতি, ধর্ম , নির্বিশেষে তাদের জন্য কোরাণ হচ্ছে সত্য পথের দিশারী , পথ প্রদর্শক।
আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্যে রহমত স্বরূপই প্রেরণ করেছি।
And We have sent you (O Muhammad SAW) not but as a mercy for the ’Alamîn (mankind, jinns and all that exists).
وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِّلْعَالَمِينَ
Wama arsalnaka illa rahmatan lilAAalameena
YUSUFALI: We sent thee not, but as a Mercy for all creatures.
PICKTHAL: We sent thee not save as a mercy for the peoples.
SHAKIR: And We have not sent you but as a mercy to the worlds.
KHALIFA: We have sent you out of mercy from us towards the whole world.
১০৭। এবং আমি তোমাকে সকল সৃষ্টির জন্য রহমত স্বরূপ পাঠিয়েছি ২৭৬২।
২৭৬২। এই আয়াতটির মাধ্যমে এই সত্যের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, হযরত মুহম্মদ [ সা ] কে আল্লাহ্ পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন জাতি ধর্ম নির্বিশেষে ‘বিশ্ব জগত’ অর্থাৎ সারা দুনিয়ার জন্য রহমত স্বরূপ। জাতিতে – জাতিতে, বা আল্লাহ্র নির্বাচিত শ্রেণীর দাবীদার, বা ইব্রাহীমের প্রজন্ম , বা দাউদ নবীর প্রজন্ম, হিন্দু বা ইহুদী অথবা অ-ইহুদী, আরব – অথবা অ-আরব, তুর্কী অথবা তাজিক, ইউরোপীয়ান অথবা এশিয়ান, সাদা অথবা কালো, আর্য অথবা অনার্য , মঙ্গোলিয়ান অথবা আফ্রিকান, আমেরিকান অথবা অস্ট্রেলিয়ান , একেশ্বরবাদী অথবা বহু ঈশ্বরবাদী পৃথিবীর সকলের জন্য তিনি হচ্ছেন রহমত স্বরূপ। যাদেরই আল্লাহ্ আধ্যাত্মিক দায়িত্ব দান করেছেন তাদের সকলের জন্য এই আয়াতের বক্তব্য প্রযোজ্য। ইসলাম হচ্ছে সার্বজনীন বিশ্ব ধর্ম।
বলুনঃ আমাকে তো এ আদেশই দেয়া হয়েছে যে, তোমাদের উপাস্য একমাত্র উপাস্য। সুতরাংতোমরা কি আজ্ঞাবহ হবে?
Say (O Muhammad SAW): ”It is revealed to me that your Ilâh (God) is only one Ilâh (God – Allâh). Will you then submit to His Will (become Muslims and stop worshipping others besides Allâh)?”
قُلْ إِنَّمَا يُوحَى إِلَيَّ أَنَّمَا إِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ فَهَلْ أَنتُم مُّسْلِمُونَ
Qul innama yooha ilayya annama ilahukum ilahun wahidun fahal antum muslimoona
YUSUFALI: Say: “What has come to me by inspiration is that your Allah is One Allah: will ye therefore bow to His Will (in Islam)?”
PICKTHAL: Say: It is only inspired in me that your Allah is One Allah. Will ye then surrender (unto Him)?
SHAKIR: Say: It is only revealed to me that your Allah is one Allah; will you then submit?
KHALIFA: Proclaim, “I have been given divine inspiration that your god is one god. Will you then submit?”
১০৮। বল, ” আমার নিকট যে ওহী এসেছে তা হচ্ছে , তোমাদের একমাত্র প্রভু হচ্ছেন আল্লাহ্। সুতারাং তোমরা কি তাহলে আল্লাহ্র ইচ্ছার কাছে অনুগত হবে [ ইসলামে ] ? ” ২৭৬৩।
২৭৬৩। এই বিশাল মহা-বিশ্ব , আকাশ – পৃথিবীর স্রষ্টা একজনই , আর তিনি-ই শুধুমাত্র সকলের এবাদতের অধিকারী। তিনি এক এবং অদ্বিতীয় , তিনি স্রষ্টা , পালনকর্তা ও রক্ষাকর্তা।
অতঃপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে বলে দিনঃ আমি তোমাদেরকে পরিস্কার ভাবে সতর্ক করেছি এবং আমি জানি না, তোমাদেরকে যে ওয়াদা দেয়া হয়েছে, তা নিকটবর্তী না দূরবর্তী।
But if they (disbelievers, idolaters, Jews, Christians, polytheists, etc.) turn away (from Islâmic Monotheism) say (to them O Muhammad SAW): ”I give you a notice (of war as) to be known to us all alike. And I know not whether that which you are promised (i.e. the torment or the Day of Resurrection) is near or far.”
فَإِن تَوَلَّوْا فَقُلْ آذَنتُكُمْ عَلَى سَوَاء وَإِنْ أَدْرِي أَقَرِيبٌ أَم بَعِيدٌ مَّا تُوعَدُونَ
Fa-in tawallaw faqul athantukum AAala sawa-in wa-in adree aqareebun am baAAeedun ma tooAAadoona
YUSUFALI: But if they turn back, Say: “I have proclaimed the Message to you all alike and in truth; but I know not whether that which ye are promised is near or far.
PICKTHAL: But if they are averse, then say: I have warned you all alike, although I know not whether nigh or far is that which ye are promised.
SHAKIR: But if they turn back, say: I have given you warning in fairness and I do not know whether what you are threatened with is near or far;
KHALIFA: If they turn away, then say, “I have warned you sufficiently, and I have no idea how soon or late (the retribution) will come to you.
১০৯। কিন্তু যদি তারা [ অবাধ্যভাবে ] ফিরে যায়, তবে বল, ” আমি তোমাদের সকলের নিকট সমান ভাবে উপদেশ ও সত্যকে ঘোষণা করেছি। কিন্তু আমি জানি না তোমাদের যে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে তা নিকটে না দূরে ২৭৬৪।
২৭৬৪। রসুলুল্লাহ্ [ সা ] যে বাণী প্রচার করেছেন , কেউ যদি তার মর্মার্থ অনুধাবন করতে না পারে , তবে সে দায়িত্ব রসুলুল্লাহ্ -র [ সা ] নয়। মানুষ স্রষ্টার শ্রেষ্ঠ জীব কারণ স্রষ্টা তাকে সীমিত আকারে হলেও “স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি”দান করেছেন, সে ইচ্ছা করলে ভালোকে গ্রহণ ও মন্দকে বর্জন করতে পারে। অথবা মন্দকে গ্রহণ ও ভালোকে বর্জন করতে পারে। এই স্বাধীনতা স্রষ্টা আদম – সন্তানকে দান করেছেন এবং এখানেই মানুষের প্রাণী জগতে শ্রেষ্ঠত্ব। তবে এই “স্বাধীন সীমিত ইচ্ছা শক্তির ” জবাবদিহিতা তাকে করতে হবে পরকালে। রসুল [সা] পূণ্যাত্মাদের সুখবর ও পাপীদের সাবধান করেছেন। এ ব্যাপারে তিনি নিরপেক্ষ , কোনও ব্যক্তি বা জাতি বা গোষ্ঠির প্রতি কোন বিশেষ অনুগ্রহ দেখান নাই এবং একবিন্দু সত্যকেও তিনি গোপন করেন নাই। সত্যকে তিনি প্রচার করেছেন মুক্ত ভাবে সততার সাথে। অবিশ্বাসীরা রসুলকে কেয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। এই আয়াতে আল্লাহ্ রসুলকে বলতে বলেছেন, ” আমি জানি না, তা নিকট না দূরে ” একমাত্র আল্লাহ্র নিকট কেয়ামত দিবসের জ্ঞান, তিনি ব্যতীত এ জ্ঞান আর কারও কাছে নাই।
তিনি জানেন, যে কথা সশব্দে বল এবং যে কথা তোমরা গোপন কর।
(Say O Muhammad SAW) Verily, He (Allâh) knows that which is spoken aloud (openly) and that which you conceal.
إِنَّهُ يَعْلَمُ الْجَهْرَ مِنَ الْقَوْلِ وَيَعْلَمُ مَا تَكْتُمُونَ
Innahu yaAAlamu aljahra mina alqawli wayaAAlamu ma taktumoona
YUSUFALI: “It is He Who knows what is open in speech and what ye hide (in your hearts).
PICKTHAL: Lo! He knoweth that which is said openly, and that which ye conceal.
SHAKIR: Surely He knows what is spoken openly and He knows what you hide;
KHALIFA: “He is fully aware of your public utterances, and He is fully aware of everything you conceal.
১১০। ” তোমাদের কথায় যা প্রকাশ কর এবং যা [ তোমাদের অন্তরে ] গোপন রাখ তিনি [সব ] জানেন ২৭৬৫।
২৭৬৫। আল্লাহ্র রসুল [ সা ] আল্লাহ্র সত্যকে সারা বিশ্ব জাহানের জন্য প্রচার করেছেন। এই সত্যকে গ্রহণের মাধ্যমেই মানুষ ‘সরল পথ’ বা সঠিক পথের ঠিকানা খুঁজে পায়, কে সঠিক পথে চলার জন্য আন্তরিক আর কে শুধুমাত্র নিজস্ব স্বার্থ উদ্ধারের জন্য ভান করে তা সবই রাব্বুল আলামীন মহান আল্লাহ্র নিকট দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট। মোনফেকরা নিজস্ব স্বার্থ উদ্ধারের জন্য ভালো মানুষের ছদ্মবেসে নিজেকে জাহির করে এবং মুসলিম উম্মার সৎ সম্প্রদায়ের নিকট গমন করে। তাদের কাজে কোনও মহৎ উদ্দেশ্য বা আল্লাহ্র প্রতি ভালোবাসা থাকে না। পৃথিবীর কেউ মোনাফেকদের মনের এই ভাব বা চিন্তাধারার টের না পেলেও মহাশক্তিধর আল্লাহ্র নিকট কিছুই গোপন থাকে না।
আমি জানি না সম্ভবতঃ বিলম্বের মধ্যে তোমাদের জন্যে একটি পরীক্ষা এবং এক সময় পর্যন্ত ভোগ করার সুযোগ।
And I know not, perhaps it may be a trial for you, and an enjoyment for a while.
وَإِنْ أَدْرِي لَعَلَّهُ فِتْنَةٌ لَّكُمْ وَمَتَاعٌ إِلَى حِينٍ
Wa-in adree laAAallahu fitnatun lakum wamataAAun ila heenin
YUSUFALI: “I know not but that it may be a trial for you, and a grant of (worldly) livelihood (to you) for a time.”
PICKTHAL: And I know not but that this may be a trial for you, and enjoyment for a while.
SHAKIR: And I do not know if this may be a trial for you and a provision till a time.
KHALIFA: “For all that I know, this world is a test for you, and a temporary enjoyment.”
১১১। ” আমি জানি না , [তোমাদের জন্য পার্থিব ] জীবনোপকরণ কিছুকালের জন্য অনুমোদন করা , হয়তো তোমাদের জন্য এক পরীক্ষা বিশেষ।” ২৭৬৬
২৭৬৬। সৎ উদ্দেশ্য ও সৎ কর্ম যে পৃথিবীতে সর্বদা স্বীকৃতি লাভ করে তা সত্য নয়। বরং জগৎ সংসারে এর বিপরীত ব্যবস্থাই ঘটে থাকে। যারা অসৎ ও মোনাফেক তারাই জগৎ সংসারে খুব সহজেই প্রতিষ্ঠা পায়। এই আয়াতে বলা হয়েছে যে কারও জাগতিক ও পার্থিব সমৃদ্ধিতে যেনো সৎ লোকদের মনঃকষ্ট না হয়। কারণ এই জাগতিক ও পার্থিব বিষয়বস্তু বান্দার জন্য পরীক্ষা স্বরূপ। এ সবের সঠিক ব্যবহার করতে না পারলে পরলোকের জবাবদিহিতা হবে অত্যন্ত কঠিন। এ সব পার্থিব সম্পদ না থাকা মানেই দুর্ভাগ্য নয়। হয়তো প্রলোভন, পাপ ইত্যাদি থেকে ইহকালে অব্যহতি দেয়ার জন্যই স্রষ্টার এই ব্যবস্থা পূণ্যাত্মাদের জন্য। রসুলকে [ সা ] আল্লাহ্র এই বার্তা প্রচারের জন্য নির্দ্দেশ দান করেছেন এই আয়াতে।
পয়গাম্বর বললেনঃ হে আমার পালনকর্তা, আপনি ন্যায়ানুগ ফয়সালা করে দিন। আমাদের পালনকর্তা তো দয়াময়, তোমরা যা বলছ, সে বিষয়ে আমরা তাঁর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি।
He (Muhammad SAW) said:”My Lord! Judge You in truth! Our Lord is the Most Beneficent, Whose Help is to be sought against that which you attribute (unto Allâh that He has offspring, and unto Muhammad SAW that he is a sorcerer, and unto the Qur’ân that it is poetry, etc.)!”
قَالَ رَبِّ احْكُم بِالْحَقِّ وَرَبُّنَا الرَّحْمَنُ الْمُسْتَعَانُ عَلَى مَا تَصِفُونَ
Qala rabbi ohkum bialhaqqi warabbuna alrrahmanu almustaAAanu AAala ma tasifoona
YUSUFALI: Say: “O my Lord! judge Thou in truth!” “Our Lord Most Gracious is the One Whose assistance should be sought against the blasphemies ye utter!” PICKTHAL: He saith: My Lord! Judge Thou with truth. Our Lord is the Beneficent, Whose help is to be implored against that which ye ascribe (unto Him).
SHAKIR: He said: O my Lord! judge Thou with truth; and our Lord is the Beneficent Allah, Whose help is sought against what you ascribe (to Him).
KHALIFA: Say, “My Lord, Your judgment is the absolute justice. Our Lord is the Most Gracious; only His help is sought in the face of your claims.”
১১২। বল, ২৭৬৭, ” হে আমার প্রভু ! তুমি ন্যায়ের সাথে ফয়সালা করে দিও ” ২৭৬৮। ” আমাদের প্রভু পরম করুণাময়, তোমরা আল্লাহর প্রতি যে বিদ্রোহ বাক্য উচ্চারণ করছো তার বিরুদ্ধে আমরা তাহারই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি।” ২৭৬৯।
২৭৬৭। দেখুন টিকা ২৬৬৬ এবং আয়াত [ ২১ : ৪ ]। ইউসুফ আলী সাহেবের মতে অনুবাদ হওয়া উচিত “বল” – যার দ্বারা রসুলের [ সা ] প্রতি আল্লাহ্র আদেশকে বোঝায়। আয়াত [ ২১ : ১০৯ – ১১২ ] গুলির মাধ্যমে আল্লাহ্ রাসুলকে [ সা ] তিনটি বিষয়ের প্রতি মনোযোগী হতে আদেশ দিয়েছেন। ১) আয়াত [ ২১ : ১০৯ – ১১১ ] গুলিতে যারা আল্লাহ্র হেদায়েত থেকে বিমুখ তাদের সম্বোধন করা হয়েছে। ২) [২১ :১১২ ] আয়াতের প্রথমার্ধে ” হে আমার প্রতিপালক ! তুমি ন্যায় বিচার করো ” আল্লাহ্র নিকট প্রার্থনা জ্ঞাপন করা হয়েছে। এবং ৩) [ ২১ : ১১২ ] আয়াতের শেষার্ধে ” আমাদের প্রভু পরম করুণাময়, তোমরা আল্লাহর প্রতি যে বিদ্রোহ বাক্য উচ্চারণ করছো তার বিরুদ্ধে আমরা তাহারই সাহায্য প্রার্থনা করি।” বিশ্বাসীদের জন্য পরোক্ষভাবে উপদেশ প্রদান করা হয়েছে।
২৭৬৮। ” ন্যায়ের সহিত ফয়সালা করে দিও ” এই বাক্যটি দ্বারা বিভিন্ন ভাবকে বোঝানো হয়েছে। আল্লাহ্র ফয়সালা কামনা করেছেন তাঁর প্রেরিত দূত ও অবিশ্বাসীদের মধ্যে অথবা মোমেন বান্দা ও তাদের যারা উপহাস করতো নিম্ন অবস্থার জন্য তাদের মধ্যে। আর এই ফয়সালা একদিন হবেই – এ অবধারিত সত্য। এবং আল্লাহ্র বাণীর প্রচারক ও মোমেন বান্দারা অবশ্যই এ ব্যাপারে শুধুমাত্র আল্লাহ্র উপরেই নির্ভর করবে।
২৭৬৯। আল্লাহ্র নিন্দা এক মহাপাপ। আমরা সর্বদা আমাদের নিজেদের এই মহাপাপ থেকে বিরত রাখবো। শুধু নিবৃত রাখা নয় সদা সর্বদা নিজেদের সর্তকাবস্থায় রাখবো যেনো এ পাপ আমাদের স্পর্শ না করে। কিন্তু অন্যকে যদি আমরা এ পাপ থেকে বিরত রাখতে না পারি তখন আমাদের যে কর্তব্য তারই ইঙ্গিত এখানে দেয়া হয়েছে। সে ক্ষেত্রে আমরা সেই সর্বশক্তিমানের ক্ষমতার উপরে নির্ভর করবো। কখনও জিঘাংসা বৃত্তির আশ্রয় গ্রহণ করবো না। “তোমরা আল্লাহর প্রতি যে বিদ্রোহ বাক্য ………….. ” অর্থাৎ তিনিই একমাত্র আশ্রয়স্থল।
মন্তব্য : আজকে বাংলাদেশে ধর্মের নামে যে হানাহানি চলছে তার সমাধান আছে এই আয়াতে।
