আসরের নামাজ সময়মতো পড়তে না পারা | খন্দকের (আহজাবের) যুদ্ধ-৩ | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

আসরের নামাজ সময়মতো পড়তে না পারা | খন্দকের (আহজাবের) যুদ্ধ-৩, সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম এবং আরও কিছু হাদিসগ্রন্থ অনুসারে, অবরোধের সময় একদিন ছোট ছোট বেশ কিছু সংঘর্ষ হয়। একসময় সেগুলো মারাত্মক হয়ে ওঠে। সংঘর্ষে মুসলিমরা এত ব্যতিব্যস্ত ছিলেন যে সেদিনের আসরের নামাজ পড়তে পারেননি। তখন পর্যন্ত ‘সালাত আল-খাওফ’ (বিপদের সময়ে যেভাবে নামাজ পড়তে হয়)-এর বিধান এসেছিল কি না তা নিয়ে ফিকহ শাস্ত্রবিদরা একমত হতে পারেননি।

আসরের নামাজ সময়মতো পড়তে না পারা | খন্দকের (আহজাবের) যুদ্ধ-৩ | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

 

আসরের নামাজ সময়মতো পড়তে না পারা | খন্দকের (আহজাবের) যুদ্ধ-৩ | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

 

এ বিষয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠের মত হলো, বিধানটি আগেই এসেছিল; তবে মুসলিমরা এতই ব্যস্ত ছিলেন যে আসরের নামাজের সময় কখন চলে গেছে তা টের পাননি। এই ঘটনা সম্পর্কে অনেকগুলো হাদিস আছে, যা থেকে নামাজ দেরিতে আদায় করা এবং না-পড়া নামাজ আদায় করার বিষয়ে অনেকগুলো ফিকহ বিধান এসেছে।

নবিজির (সা) কোনো নামাজ ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ পড়েনি। আমাদের কাছে কেবল দুটি উদাহরণ রয়েছে যেখানে বিশেষ পরিস্থিতিতে তিনি সময়মতো নামাজ আদায় করতে পারেননি।

 

১. খন্দকের যুদ্ধের ওই দিনে উমর (রা) নবিজির (সা) কাছে এসে বলেন, “হে আল্লাহর রসুল, আমি সূর্য ডোবার আগে আসরের-নামাজ পড়তে পারিনি।” নবিজিও (সা) তাঁকে বললেন, “আমিও আসরের নামাজ পড়তে পারিনি।”

তারপর দুজনেই ওজু করে সূর্য ডোবার পরে আসরের নামাজ আদায় করেন। সহিহ বুখারিতে উল্লেখ আছে, নবিজি (সা) বলেছেন, “তারা (আহজাবের যুদ্ধের শত্রুপক্ষ) আমাদের এতটাই ব্যতিব্যস্ত রেখেছিল যে, আমরা ‘সালাত আল- উসতা’ (অর্থাৎ আসরের নামাজ) পড়তে পারিনি। আল্লাহ যেন তাদের (শত্রুপক্ষের) বাড়িঘর এবং কবর আগুনে পূর্ণ করেন।” লক্ষ করুন, নবিজি (সা) এতটা রেগে গিয়েছিলেন এজন্য নয় যে শত্রুরা তাঁকে হত্যা করার চেষ্টা করছিল, বরং তিনি রেগে গিয়েছিলেন তাদের কারণে নামাজ পড়তে পারেননি বলে ।

 

আসরের নামাজ সময়মতো পড়তে না পারা | খন্দকের (আহজাবের) যুদ্ধ-৩ | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

 

[আনুষঙ্গিক ফিকহ বিষয়: মাগরিবের সময় হয়ে গেলেও নবিজি (সা) প্রথমে আসরের-নামাজ শেষ করেন, তারপর মাগরিবের নামাজ পড়েন। এ থেকে ফিকহ শাস্ত্রবিদরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, বাদ পড়া নামাজটা আগে পড়তে হবে। কিন্তু দুটি কারণে তা সম্ভব নাও হতে পারে: ১. কেউ যদি বহু বছর ধরে নামাজ না পড়ে থাকে তাহলে তার পক্ষে এত বছরের নামাজ আদায় করা সম্ভব হবে না; ২. যদি বাদ পড়া নামাজটি পড়তে গিয়ে বর্তমান ওয়াক্তের নামাজও কাজা হওয়ার উপক্রম হয় তাহলে বর্তমান ওয়াক্তের নামাজটি আগে পড়তে হবে।]

২. সময়মতো নামাজ বাদ পড়ার আরেকটি উদাহরণ হলো ষষ্ঠ হিজরিতে হুদাইবিয়া থেকে ফেরার পথে। মুসলিমরা সারা রাত বিরামহীনভাবে হেঁটে ফজরের এক ঘণ্টা আগে বিশ্রাম নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। নবিজি (সা) সাহাবিদের বলেন, “তোমাদের মধ্যে কে আমাদের পাহারা দেবে আর ফজরের নামাজের জন্য জাগিয়ে দেবে?” বেলাল (রা) স্বেচ্ছায় এ দায়িত্ব নিয়ে বলেন, “আমি জাগিয়ে দেব।” সবাই ঘুমিয়ে পড়লে একসময় ক্লান্ত বেলাল নিজেও ঘুমিয়ে পড়েন। ফলে সেদিন কেউ ফজরের নামাজ পড়তে পারেনি। আমরা এই ঘটনাটি ৬৬তম পর্বে আরেকটু বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব।

Leave a Comment