সালমান আল-ফারিসির মুক্তি | খন্দকের যুদ্ধ-১, আমরা চতুর্থ পর্বে সালমান আল-ফারিসির কাহিনি আলোচনা করেছি। স্মরণ করুন, দীর্ঘ যাত্রা শেষে তিনি তখন বনু কুরায়জার এক ইহুদির ক্রীতদাস হিসেবে মদিনার বাসিন্দা। তিনি দাসত্ব থেকে মুক্তি চাইলে তাঁর মনিব মুক্তিপণ হিসেবে যেসব শর্ত দেন সেগুলো হলো: তাঁকে ১০০টিরও বেশি খেজুরের বীজ বপন করতে হবে, সেগুলো থেকে চারা গজিয়ে বড় হওয়া পর্যন্ত তাঁকে অপেক্ষা করতে হবে, যা অন্ততপক্ষে ১৫ বছরের ব্যাপার। অর্থাৎ ১৫ বছরের আগে সালমানের দাসত্ব থেকে মুক্তি পাওয়ার আর কোনো উপায় নেই ।
সালমান আল-ফারিসির মুক্তি | খন্দকের যুদ্ধ-১ | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

সালমান নবিজির (সা) কাছে এসে বিষয়টি জানালেন। নবিজি (সা) তাঁকে বললেন, “বীজ বপনের সময় এলে আমাকে ডেকো।” তারপর সময় এলে নবিজি (সা) তিনি নিজে গিয়ে প্রতিটি বীজ বপন করেন। চারা গজিয়ে খেজুরগাছগুলো স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত গতিতে বেড়ে কয়েক বছরের মধ্যেই বড় হয়ে গেলে সালমানকে মুক্তি দেওয়া হয়। এর মধ্যে আহজাবের যুদ্ধ এলে তিনি প্রথমবারের মতো কোনো যুদ্ধে অংশ নেন। দাস ছিলেন বলে তিনি বদর ও ওহুদের যুদ্ধে অংশ নিতে পারেননি ।
আহজাবের বিষয়ে পরামর্শের জন্য নবিজির (সা) ডাকা সভায় সালমান বলেন, “পারস্য দেশে আমরা একটা কৌশল অবলম্বন করতাম। তা হলো, আমরা পরিখা খনন করতাম, সেই পরিখা আমাদের শত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করত।” সালমানের পরামর্শ নবিজির (সা) মনপূত হয়, তিনি সে অনুযায়ী যুদ্ধের পরিকল্পনা করেন। এভাবেই আরব অঞ্চলে প্রথমবারের মতো পরিখা খননের ধারণার প্রয়োগ ঘটে।
মুসলিমদের কাছে খবর পৌঁছে গেল

জোটবদ্ধ এমন বিশাল আকারের সেনাবাহিনীকে কি লুকিয়ে রাখা যায়। নবিজির (সা) কাছে দ্রুতই সব খবর পৌঁছে গেল। তিনি যথারীতি একটি সভা ডেকে পরিস্থিতি সম্পর্কে সাহাবিদের অবহিত করলেন। তিনি সবার মতামত চাইলেন, এখন কী করা যায়। যতটুকু জানা যায়, সাহাবিদের কাছ থেকে তেমন একটা . মতামত আসেনি। শুধু সালমান আল-ফারিসি একটি পরিখা খননের পরামর্শ দিয়েছিলেন ।
