যুদ্ধে মুসলিমদের সুবিধাজনক অবস্থা | ওহুদের যুদ্ধ-২, মুবারাজায় আলির (রা) বিজয়ের পরপরই মুসলিমরা সম্মিলিতভাবে আক্রমণ চালান। আকারে অনেক বড়, শক্তিশালী ও সুসজ্জিত সেনাবাহিনী থাকা সত্ত্বেও মুশরিকরা সেই আক্রমণ সামলে উঠতে পারেনি। সহসাই তারা পরিস্থিতির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে।
যুদ্ধে মুসলিমদের সুবিধাজনক অবস্থা | ওহুদের যুদ্ধ-২ | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

একপর্যায়ে কুরাইশ দলের মহিলারাও পালাতে বাধ্য হয়। তারা কুরাইশ শিবিরের একেবারে শেষ প্রান্তে অবস্থান করছিল। মুসলিমদের প্রাথমিক আক্রমণ ছিল যথেষ্ট বিধ্বংসী। খুব দ্রুতই তারা কুরাইশদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। ওহুদের ওই ছোট্ট জায়গার মধ্যে এমনিতেই কুরাইশরা তেমন সুবিধা করতে পারছিল না। তাদের এই বেগতিক অবস্থা কাজে লাগিয়ে মুসলিমরা অতর্কিত ও উপর্যুপরি আক্রমণ করে অল্প সময়ের মধ্যেই সুবিধাজনক অবস্থায় চলে আসেন ।
কুরাইশের পতাকা বহনকারী
রীতি অনুসারে, বনু আবদ আল-দার গোত্র যুদ্ধের ময়দানে কুরাইশদের পতাকা বহন করত। বদরের যুদ্ধেও তারা তা করেছিল। ওহুদের শুরুতেই পতাকা বহন করার দায়িত্ব ছিল তাদেরই ওপর। কিন্তু যুদ্ধে কুরাইশ বাহিনীর পালানোর সময় পতাকাবাহকই সবার আগে পালাতে শুরু করে। আবু সুফিয়ান তাদের বদরের যুদ্ধের ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলে, “হে বনু আবদ আল-দার, বদরের যুদ্ধে তোমরা পিঠটান দিয়েছিলে, তার ফল কী হয়েছিল তা তো দেখেছই।
পতাকা হচ্ছে পুরো সেনাবাহিনীর প্রতীক, তা যদি উত্তোলিত অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকে তবে সেনাবাহিনীও দাঁড়িয়ে থাকে; আর যদি তার পতন ঘটে তবে সেনাবাহিনীরও পতন ঘটে। তাই তোমরা হয় পতাকার প্রাপ্য সম্মান দাও, নয়তো ওটা আমাদের ফিরিয়ে দাও।”

এটি ছিল বনু আবদ আল-দারের ওপর আবু সুফিয়ানের মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির চেষ্টা। তার এই চেষ্টা কাজে লেগেছিল। তারা আবু সুফিয়ানকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলল, “তুমি দেখবে আমরা এই পতাকাটি নিয়ে কী করি (অর্থাৎ, কীভাবে এর যোগ্য সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখি)। যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের মধ্যে একজনও জীবিত থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই পতাকাও উত্তোলিত অবস্থায় থাকবে।”
প্রকৃতপক্ষে তা-ই ঘটেছিল; যতক্ষণ তারা জীবিত ছিল, ততক্ষণ তাদের পতাকাটিও ছিল। তবে একে একে বনু আবদ আল-দারের দশজন পতাকাবাহকের সবাই মারা যায়।
