সাওয়িকের সারিয়া | কাব ইবনুল আশরাফের প্রাণনাশ কারকারাত | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

সাওয়িকের সারিয়া | কাব ইবনুল আশরাফের প্রাণনাশ কারকারাত, দ্বিতীয় অভিযানটি বদরের যুদ্ধের দুই বা তিন মাস পরে সম্ভবত জিলহজ মাসের গোড়ার দিকে তা সংঘটিত হয়েছিল। এই যুদ্ধের কারণ ছিল আবু সুফিয়ানের একটি প্রতিজ্ঞা। আবু সুফিয়ান আল্লাহর কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিল, বদরের যুদ্ধের প্রতিশোধ না নেওয়া পর্যন্ত সে আর গোসল করবে না, এমনকি ‘জানাবা’ (বীর্যপাতের কারণে সৃষ্ট শারীরিক অপবিত্রতা) অবস্থা সত্ত্বেও। এ থেকে বোঝা, জানাবার পরে গোসল করার প্রথাটি জাহেলি যুগ থেকেই ছিল। ধারণা করা যায়, প্রথাটি ইব্রাহিমের (আ) সময় থেকে চলে আসছিল।

 

সাওয়িকের সারিয়া | কাব ইবনুল আশরাফের প্রাণনাশ কারকারাত | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

 

সাওয়িকের সারিয়া | কাব ইবনুল আশরাফের প্রাণনাশ কারকারাত | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

আবু সুফিয়ান কয়েক মাস ধরে গোসল না করা’ অবস্থায় থাকার পর অবশেষে কিছু একটা করার উদ্যোগ নেয়। সে কুরাইশদের প্রায় ১৫০-২০০ জনকে সঙ্গে নিয়ে মদিনায় আক্রমণ চালায়। মদিনার আরেক ইহুদি উপজাতি বন নাদির তাকে সুরক্ষা দেয় এবং খাদ্যদ্রব্য, সরঞ্জামাদি ও পানি সরবরাহ করার মাধ্যমে সহায়তা করে। এটি ছিল বনু নাদিরের দিক থেকে মুসলিমদের সঙ্গে সুস্পষ্ট বিশ্বাসঘাতকতা। কারণ, সংবিধানের একটি ধারায় উল্লেখ ছিল: ‘তোমরা আমাদের বিরুদ্ধে কুরাইশদেরকে সাহায্য করবে না। যদি বাইরের কোনো শত্রু আমাদের আক্রমণ করে, তাহলে আমরা দুই পক্ষ এক হয়ে প্রতিহত করব।’

 

আবু সুফিয়ানের মূল বাহিনী মদিনায় আক্রমণ করতে আসার আগেই তাদের একটি অগ্রবর্তী ছোট দলকে বনু নাদির আশ্রয় দেয়। তারপর আবু সুফিয়ান মদিনার একটি খেজুর বাগানে আক্রমণ চালিয়ে বাগানটি পুড়িয়ে দেয় এবং সেখানে দুজন আনসারিকে হত্যা করে। এটি পরিষ্কারভাবেই সন্ত্রাসী হামলা। মুসলিমরা খবর পেয়ে আবু সুফিয়ানের বাহিনীকে পাল্টা আক্রমণ করে এবং হটিয়ে দেয়। এবারও কুরাইশ বাহিনী পালানোর সময় তাদের জিনিসপত্র ফেলে যায় ।

 

সাওয়িকের সারিয়া | কাব ইবনুল আশরাফের প্রাণনাশ কারকারাত | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

 

এই অভিযানটিকে ‘সাওয়িকের সারিয়া’ বলা হয়? সাওয়িক হলো এক ধরনের শুকনো ‘পোরিজ’ যা দীর্ঘ সময় রেখে খাওয়া যেত। বার্লি, দুধ, মাখন ও মধু মিশিয়ে মিশ্রণটি কিছুদিন শুকালে তা সাওয়িকে পরিণত হয়। তাই আরবরা দীর্ঘ ভ্রমণের সময় এই খাবার প্যাকেটজাত করে সঙ্গে নিয়ে যেত। আবু সুফিয়ান ও তার বাহিনী মুসলিমদের এগিয়ে আসতে দেখে ভয়ে উটে চড়ে পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তারা বোঝা হালকা করার জন্য তাদের সাথে থাকা সাওয়িকের  ব্যাগগুলো ফেলে রেখে যায়। মুসলিমরা আবু সুফিয়ানের কোনো ক্ষতি না করতে পারলেও সাওয়িকের অনেকগুলো ব্যাগ তাঁদের হস্তগত হয়। আবু সুফিয়ান দুজন আনসারিকে হত্যা করতে পেরেছিল, সে সেটিকেই সাফল্য হিসেবে ধরে মক্কায় ফিরে গিয়ে গোসল করে।

Leave a Comment