মুসলিম বাহিনীতে লোকসংখ্যা | বদরের যুদ্ধের প্রস্তুতি | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

মুসলিম বাহিনীতে লোকসংখ্যা | বদরের যুদ্ধের প্রস্তুতি, বদরের যুদ্ধে মোট কতজন অংশ নিয়েছিল তা নিয়ে কিছুটা ভিন্নমত আছে। কিছু বইতে ৩১৩ জন, কিছু বইতে ৩১৭ জনের কথা উল্লেখ রয়েছে। আবার কোথাও কোথাও বলা হয়েছে, এই সংখ্যাটি ছিল ‘৩১০ জন এবং আরও কিছু সংখ্যক’। কিন্তু সব বর্ণনা বিবেচনায় নিয়ে বলা যায় যে, চূড়ান্ত সংখ্যাটি ছিল ৩১৫ জন; মুহাজিরদের থেকে ৮৩ জন, আউসের ৬২ জন এবং রাজরাজের ১৭০ জন। তাঁরা সবাই স্বোচ্ছায় যোগ দিয়েছিলেন।

 

মুসলিম বাহিনীতে লোকসংখ্যা | বদরের যুদ্ধের প্রস্তুতি | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

 

মুসলিম বাহিনীতে লোকসংখ্যা | বদরের যুদ্ধের-প্রস্তুতি | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

আমরা দেখতে পাচ্ছি, খাজরাজের সংখ্যা ছিল আউসের দ্বিগুণ। এর প্রধান দুটি কারণ ছিল।

১. মদিনার আরবদের মধ্যে খাজরাজদের সংখ্যা ছিল আউসদের চেয়ে বেশি।

২. মুসলিমদের মধ্যেও আউসদের তুলনায় খাজরাজরা সংখ্যায় বেশি ছিলেন। কারণ, খাজরাজ ছিল তুলনামূলকভাবে একটি দরিদ্র উপজাতি, এবং সাধারণভাবে বলতে গেলে দরিদ্র লোকেরা ধনীদের আগে ধর্মান্তরিত হয়।

 

ওই অভিযানে মুসলিমদের পক্ষের ঘোড়া দুটির মালিক ছিলেন জুবায়ের ইবনুল আওয়াম এবং আল-মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ। কোনো কোনো বইয়ে উটের সংখ্যা ৭০ বলে উল্লেখ আছে। সুতরাং ধরে নেওয়া যায়, প্রতি তিনজনকে একটি করে উট ভাগ করে নিতে হয়েছিল। তাঁরা অভিযানের পথে পালাক্রমে উটের পিঠে চড়ে এবং হেঁটে গিয়েছিলেন।

 

মুসলিম বাহিনীতে লোকসংখ্যা | বদরের যুদ্ধের প্রস্তুতি | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

 

লক্ষ করুন, ‘৩১০ জন এবং আরও কিছু— এই সংখ্যাটির নিশ্চয়ই একটি তাৎপর্য রয়েছে । আমাদের ধর্মীয় ইতিহাসের একাধিক স্থানে এই সংখ্যা বা কথাটি এসেছে। আবু জর গিফারি বর্ণিত একটি হাদিসে আছে, নবিজিকে (সা) জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, “রসুলের সংখ্যা কতজন?” জবাবে নবিজি (সা) বলেছিলেন, ‘৩১০ জন এবং আরও কিছু’। এছাড়া দাউদের (আ) পক্ষে জালুতের (গোলিয়াথের) বিরুদ্ধে লড়াই করা লোকের সংখ্যাও ছিল ‘৩১০ জন এবং আরও কিছু’।

Leave a Comment