জবের সঙ্গে জড়িত মুনাফেক ও মুসলিমরা | আয়েশার (রা) ওপর মিথ্যা অপবাদ-২, হাম্মানা, হাসান ও মিসতাহকে শাস্তি হিসেবে ৮০টি করে বেত্রাঘাত করা হয়। তাঁদের সম্পর্কে আমাদের খারাপ কিছু বলা উচিত নয়। তাঁরা নিজেরা কোনো মনগড়া কাহিনি তৈরি করেননি, কেবল গুজবটি ছড়ানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছিলেন। এ কারণে তাঁদের শাস্তিও হয়েছে।
অন্যদিকে মুনাফেকদের মধ্যে যারা গুজবের প্ররোচনা দিয়েছে, তাদের শাস্তি দেওয়া হয়নি। কারণ হিসেবে ধারণা করা হয় যে, আল্লাহ তায়ালা তাদের পরকালের শাস্তি কমাতে চাননি, তাই ইহকালের জীবনে রেহাই দিয়েছেন। এই দুনিয়াতে তাদের শাস্তি দেওয়া হলে তিনি অসীম ন্যায়বিচারের কারণে পরের দুনিয়াতে শাস্তি দিতেন না ।

জবের সঙ্গে জড়িত মুনাফেক ও মুসলিমরা | আয়েশার (রা) ওপর মিথ্যা অপবাদ-২ | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন
সাফওয়ান ইবনে মুয়াত্তাল ও বিখ্যাত কবি হাসান ইবনে সাবিত
আয়েশা (রা) বলেন, “যে ব্যক্তিকে (সাফওয়ান ইবনে মুয়াত্তাল) অভিযুক্ত করা হয়েছিল, তিনি নিজেই আল্লাহর নামে কসম কেটে বলেছিলেন, ‘আমি সেই একক সত্তার কসম খেয়ে বলছি যার হাতে আমার প্রাণ, আমি আমার জীবনে কখনো কোনো নারীকে তার পর্দা উঠিয়ে দেখিনি।”
সেই সময় সাফওয়ান ইবনে মুয়াত্তাল ও হাসান ইবনে সাবিতকে নিয়ে একটি অন্যরকম ঘটনা ঘটেছিল। সাফওয়ান যখন শুনলেন যে হাসান ইবনে সাবিত গল্পের ছলে গুজব ছড়াচ্ছেন, তখন তিনি তাঁর তলোয়ার নিয়ে বেরোলেন। তিনি হাসানকে তলোয়ারের বাঁট দিয়ে আঘাত করে তারপর ধাক্কা দিলে হাসান নিচে পড়ে যায়। তারপর হাসানের গোত্রের লোকেরা এসে সাফওয়ানকে আক্রমণ করে। সাফওয়ান তখন কবিতার ছত্রে বলেন: “আমি এমন একজন মানুষ, যে রক্ত গরম হয়ে গেলে কবিতা কীভাবে লিখতে হয় তা ভুলে যাই, তখন আমি শুধুই মারধর করতে জানি।”
ঘটনাটি নবিজিকে (সা) জানানো হলে তিনি হাসানের পক্ষে রায় দেন। কারণ, হাসানের ওপর সাফওয়ানের রেগে যাওয়ার যথাযথ কারণ থাকলেও শরিয়ত অনুসারে তাঁর আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার ছিল না; কিন্তু হাসানকে আঘাত করার মাধ্যমে তিনি সেটাই করেছিলেন, যা শরিয়ত অনুসারে মোটেই সমর্থনযোগ্য নয় ।

তবে নবিজি (সা) হাসানকে বললেন, “হে হাসান, তুমি সাফওয়ানকে ক্ষমা করে দাও।” উত্তরে হাসান বললেন, “হে আল্লাহর রসুল, আপনার জন্য আমি তাঁকে ক্ষমা করে দিলাম।” আহত হওয়ার কারণে ক্ষতিপূরণ হিসেবে হাসানকে একটি বাগান উপহার দেওয়া হয়। ইসলামের ন্যায়বিচারের দিকটি দেখুন: হাসান দোষ করেছিলেন সত্য, কিন্তু তার প্রতিকার করতে গিয়ে সাফওয়ান যখন যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে আইন নিজের হাতে তুলে নিলেন, তখন আর আইন সাফওয়ানের পাশে থাকল না। অন্যদিকে আক্রান্ত হাসান আঘাতের বদলে সাফওয়ানের শাস্তি দাবি করতে পারতেন, কিন্তু তিনি তা না করে সাফওয়ানকে ক্ষমা করে দিলেন এবং তার বিনিময়ে একটি বাগানের মালিক হলেন।
