আবু বকর (রা) | দ্বিতীয়বারের ওহি | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

আবু বকর (রা) | দ্বিতীয়বারের ওহি, ইসলামের প্রথম যুগের ধর্মান্তরিতদের মধ্যে আবু বকর (রা) অন্যতম। নবিজি (সা) আবু ‘বকরের (রা) যতটা প্রশংসা করেছেন, অন্য কোনো সাহাবির ততটা করেননি। আবু ‘বকর কীভাবে ধর্মান্তরিত হয়েছিলেন তার বিস্তারিত বিবরণ আমাদের জানা নাই । আমরা শুধু এটুকু জানি যে, আল্লাহর রসুল (সা) তাঁর কাছে ইসলামের দাওয়াত পেশ করলে আবু বকর (রা) তাৎক্ষণিকভাবেই তা গ্রহণ করেন।

 

 

আবু বকর (রা) | দ্বিতীয়বারের ওহি | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

 

আবু বকর (রা) | দ্বিতীয়বারের ওহি | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

এক হাদিসে আছে, একবার মদিনায় কিছু সাহাবি নবিজির (সা) কোনো কথায় নিজেদের মধ্যে মতবিরোধ শুরু করেন। এমনকি উমরও (রা) তাদের দলে ছিলেন। নবিজি (সা) উমরের ভূমিকায় কিছুটা অসন্তুষ্ট ও হতাশ হন, এবং কিছুটা উষ্মা প্রকাশ করে তাঁকে বলেন, “আল্লাহ তায়ালা আমাকে সত্য প্রচার করার জন্য প্রেরণ করেছেন, আর তোমরা সকলে আমাকে মিথ্যাবাদী বলে অভিযুক্ত করছ।” সেই সময় কেবল আবু ‘বকরই নির্দ্বিধায় এবং সুস্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন, “আপনি সত্য বলছেন।”

 

অন্য একটি হাদিস অনুসারে, নবিজি (সা) বলেছেন, “আবু-বকর ছাড়া এমন কোনো ব্যক্তি ছিল না যে কোনো সন্দেহ ছাড়াই ইসলামের দাওয়াত গ্রহণ করেছিল।” অর্থাৎ নবিজি (সা) আবু-বকরের কাছে ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি দ্বিধাহীনচিত্তে তা গ্রহণ করেন। সে কারণেই ‘আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের” সবাই সর্বসম্মতভাবে সাহাবিদের মধ্যে আবু-বকরের (রা) শ্রেষ্ঠত্বকে নির্দ্বিধায় স্বীকার করে নিয়েছেন।

সহিহ বুখারির এক হাদিসে আছে, নবি করিম (সা) বলেছেন, “আল্লাহ তায়ালা আমাকে ‘খলিল’ (আন্তরিক বন্ধু) হিসেবে বেছে নিয়েছেন, সুতরাং আমি অন্য কাউকে খলিল হিসেবে বেছে নিতে পারি না। তবে আমার যদি কাউকে খলিল হিসেবে বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকত, তবে আমি আবু বকরকেই নিতাম।”

 

আবু বকর (রা) | দ্বিতীয়বারের ওহি | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

 

ইতিমধ্যে উল্লেখ করেছি, পবিত্র কোরানে সাহাবিদের মধ্যে একমাত্র জায়েদকেই নাম ধরে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য একজন মাত্র সাহাবির নাম সর্বনাম দ্বারা সরাসরি উল্লেখ করা হয়েছে; তিনি হলেন আবু-বকর (রা)। আল্লাহ বলেছেন সে ছিল দুইজনের একজন। যখন তাঁরা গুহার মধ্যে ছিল, সে (রসুল) তখন তাঁর সঙ্গীকে বলেছিল, ‘মন খারাপ করো না, আল্লাহ তো আমাদের সাথেই আছেন ” [সুরা তওবা, ৯:৪০) এখানে আল্লাহ তায়ালা আবু-বকরকে (রা) দুজনের মধ্যে দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ আল্লাহর রসুল মুহাম্মদের (সা) পরের ব্যক্তিটিই তিনি। এ থেকে নবিজির (সা) উম্মতদের মধ্যে আবু বকরের (রা) উচ্চতর মর্যাদার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

Leave a Comment