ফাসিক আৰু আমির | ওহুদের যুদ্ধ-২ | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

ফাসিক আৰু আমির | ওহুদের যুদ্ধ-২, যুদ্ধ শুরুর আগে কুরাইশরা মুহাজিরদের থেকে আনসারদের আলাদা করার চেষ্টা করে। আবু সুফিয়ানের এক দূত মুসলিম বাহিনীর কাছে এসে চিৎকার করে বলে, “হে মদিনার লোকেরা, আবু ‘সুফিয়ান আমাকে পাঠিয়েছে। সে বলেছে, আমাদের কাজিনদের আমাদের কাছে হস্তান্তর করে তোমরা ফিরে যাও। তোমাদের সঙ্গে আমাদের কোনো শত্রুতা নেই; তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার কোনো ইচ্ছাও আমাদের নেই।”

 

ফাসিক আৰু আমির | ওহুদের যুদ্ধ-২ | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

 

ফাসিক আৰু আমির | ওহুদের যুদ্ধ-২ | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

মুসলিম বাহিনীতে আনসাররাই ছিলেন নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ। আবু-সুফিয়ানের দূতের মুখে এমন কথা শুনে তাঁরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। নবি করিমকে (সা) ত্যাগ করতে বলার দুঃসাহস দেখানোর জন্য তাঁরা কুরাইশদের অপমানজনক ভাষায় গালমন্দ করেন। প্রাসঙ্গিকভাবে বলতে হয়, সাধারণভাবে একজন মুসলিমের জন্য অসৌজন্যমূলক ভাষায় কথা বলা সমীচীন না হলেও যুদ্ধের ময়দানে তা গ্রহণযোগ্য।

আবু ‘সুফিয়ানের দূত অপমানিত হয়ে কুরাইশ শিবিরে ফিরে গেলে তাদের আরেকজন বলে, “এই বিষয়টি আমাকে দেখতে দাও। কী করতে হবে তা আমি জানি।” এই ব্যক্তিটি হলো আবদ আমর ইবনে সাইফি ওরফে আৰু আমির আল- রাহিব। ‘রাহিব’ অর্থ সন্ন্যাসী। নবিজির (সা) মদিনায় হিজরতের আগে সে ছিল আউসের অন্যতম শ্রদ্ধাভাজন নেতা। আউস ও খাজরাজের মধ্যে সংঘটিত  গৃহযুদ্ধের পরেও বেঁচে থাকা কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার মধ্যে সে ছিল একজন। নবিজির (সা) মদিনায় আগমনের পর আল-রাহিব ইসলাম গ্রহণ করতে চায়নি। ফিরে পাবার তাই সে বদরের যুদ্ধের আগে কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে মক্কায় গিয়ে বসতি স্থাপন করে। সে আবার মদিনায় ফিরে এসে তার হারানো নেতৃত্ব সুযোগের অপেক্ষায় ছিল।

 

আল-ৱাহিব আৰু সুফিয়ানকে বলে, “ব্যাপারটি আমার ওপর ছেড়ে দাও। আমার লোকেরা আমাকে সব সময় সম্মান করেছে। তাদের ওপর আমার কত প্রভাব, তা তুমি দেখতে পাবে।” এ কথা বলে সে সোজা আনসারদের কাছে গিয়ে বলে, “হে আমার সম্প্রদায়ের লোকেরা, আমি আবু আমির!” এটুকু বলার পর, সে কোনো প্রস্তাব দেওয়ার আগেই আনসাররা বলে উঠলেন, “তোমার ওপর আল্লাহর অভিশাপ পড়ক, তুমি জীবনে যেন কখনও সুখের দেখা না পাও। তুমি তো আৰু আমির ‘আল-রাহিব’ নও, তুমি হচ্ছো আবু আমির ‘আল-ফাসিক’।”

 

ফাসিক আৰু আমির | ওহুদের যুদ্ধ-২ | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

 

আনসাররা তাকে ‘রাহিব’ (সন্ন্যাসী) নামের বদলে ‘ফাসিক’ (দুষ্ট ব্যক্তি) বলে সম্বোধন করেন, কারণ সে নবিজির (সা) প্রতি ঘৃণার বশবর্তী হয়ে নিজের সম্প্রদায়ের লোকদের ফেলে পালিয়ে গিয়েছিল। আনসারদের প্রতিক্রিয়ায় আৰু আমির এতটাই হতভম্ব হয়ে পড়ে যে, সে যা বলতে চেয়েছিল তা বলতে পারেনি। আবু ‘সুফিয়ানের কাছে ফিরে গিয়ে বলে, “আমার লোকেরা কোনো রোগে আক্রান্ত। আমি জানি না তাদের কী হয়েছে।”

Leave a Comment